বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। গতকাল পুনের ডনজে গ্রামে অবস্থিত তার খামারবাড়িতে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এই কিংবদন্তি অভিনেতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। নানা পাটেকরের এই শেষ বিদায়লগ্নে তার পরিবার, চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখ এবং বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
গভীর রাতে শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হওয়ায় জনসাধারণের মধ্যে অনেক প্রশ্নের জন্ম নেয়। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে মুখ খুলেছেন তার পুত্র মালহার পাটেকর। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, পরিবার তখন গোয়ায় অবস্থান করছিল এবং অভিনেতার মরদেহ পুনের খামারবাড়িতে নিয়ে আসার প্রক্রিয়ায় প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় অতিবাহিত হয়। মালহার পাটেকর স্পষ্ট করেন যে, কোনো বিশেষ কারণে এই সময় বেছে নেওয়া হয়নি, বরং ঘটনার আকস্মিকতায় পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত শেষকৃত্য সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মর্মান্তিক এই ঘটনার সূত্রপাত হয় গতরাতে গোয়ার বাসভবনে, যেখানে নানা পাটেকর বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। খবর পেয়ে দ্রুত একটি মেডিকেল টিম সেখানে পৌঁছালেও অচেতন অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। পরে তাকে মণিপাল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি ‘মেডিকো-লিগ্যাল’ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
বিশ্বনাথ পাটেকর নামে পরিচিত নানা পাটেকর ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের মুরুদ-জঞ্জিরায় জন্মগ্রহণ করেন। তার অভিনয় জীবনের সূচনা ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে। প্রায় পাঁচ দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি উপহার দিয়েছেন ‘পারিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নি সাক্ষী’, ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’, ‘আব তাক ছাপ্পান’, ‘নাটসম্রাট’ এবং ‘ওয়েলকাম’-এর মতো অসংখ্য সফল সিনেমা। অভিনয়ের পাশাপাশি ১৯৯১ সালে ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ সিনেমাটি নির্মাণের মাধ্যমে তিনি পরিচালক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন।
কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ নানা পাটেকর তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জনের গৌরব লাভ করেন। এছাড়া অভিনয়ের জগতে অনবদ্য অবদানের জন্য ২০১৩ সালে ভারত সরকার তাকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করে। ছোটবেলা থেকেই নাটকের প্রতি প্রবল অনুরাগী এই শিল্পী মুম্বইয়ের স্যার জে. জে. ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্লাইড আর্টসে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন, যা তার পরবর্তী অভিনয় জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 














