ঢাকা ১১:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

নানা পাটেকরকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণে শাহরুখ খান

প্রখ্যাত অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন শাহরুখ খান। নানা পাটেকরের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাসহ ব্যক্তিগত নানা স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন কিং খান।

প্রখ্যাত অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তা দিয়েছেন শাহরুখ খান। তিনি নানা পাটেকরকে শুধু একজন সহশিল্পী হিসেবে নয়, বরং পরামর্শদাতা, শিক্ষক ও বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শাহরুখ স্মরণ করেছেন তাদের একসঙ্গে কাটানো সময় এবং অভিনয়ের খুঁটিনাটি নিয়ে পাওয়া নানার কঠিন পরামর্শগুলো। নানার সঙ্গে আরো অনেক সময় গল্প করা, তর্ক করা, চা খাওয়া ও ক্যারম খেলার সুযোগ না পাওয়ায় আক্ষেপ করেছেন শাহরুখ। তার মৃত্যু শুধু সিনেমার জগতেই নয়, ভারত ও বিশ্বের মানুষের হৃদয়েও বড় শূন্যতা তৈরি করেছে।

শাহরুখ জানান, নানার সঙ্গে প্রথমবার সাক্ষাতের সেই মুহূর্তটি ছিল স্মরণীয়। মুগ্ধতা ও কিছুটা অস্বস্তিতে তিনি নিজের চুল নিয়ে নাড়াচাড়া করছিলেন। তখন নানা তাকে হাত সরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, ‘হিরোর মতো চুল সাজিও না, তুমি অভিনেতা।’ শাহরুখ বলেন, নানা পাটেকর সবসময় সেই সত্যই বলতেন যা শোনা প্রয়োজন ছিল, মানুষ যা শুনতে চাইত তা বলতেন না। তিনি আমাকে ভালোবাসতেন, আমিও তাকে ভালোবাসতাম। ”।

তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে বলতে গিয়ে শাহরুখ জানান, ক্যারম খেলার সময় নানা তাকে বারবার হারিয়ে বেশ উপভোগ করতেন। ভালোবাসা প্রকাশের ক্ষেত্রেও নানা ছিলেন অনন্য। শাহরুখের কথায়, তিনি প্রথমে বকাঝকা করতেন, কিন্তু কয়েকবার বিরক্তি বা অপমান প্রকাশের মাধ্যমেই বোঝা যেত তিনি কতটা আপন করে নিচ্ছেন। শাহরুখ বলেন, “তিনি প্রথমে তোমাকে বকাঝকা করতেন, এরপর তৃতীয় বা চতুর্থবার অপমান করার মাঝেই বুঝতে পারতে, আসলে তিনি তোমাকে জড়িয়ে ধরছেন। তাকে বাঁচাতে সেখানেই হৃদযন্ত্র সচল করার চিকিৎসা ও সিপিআর শুরু করা হয়।

শাহরুখ ও নানা পাটেকর ১৯৯২ সালের ‘রাজু বান গয়া জেন্টলম্যান’ সিনেমায় প্রথম একসঙ্গে কাজ করেন। পরে ২০০২ সালে ‘শক্তি: দ্য পাওয়ার’ সিনেমায় তাদের দেখা যায়। সেখানে নানার চরিত্র ছিল নরসিমহা এবং শাহরুখ বিশেষ উপস্থিতিতে জয় সিং চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। যদিও সিনেমাটিতে তাদের একসঙ্গে দৃশ্য ছিল না, তবে তাদের ব্যক্তিগত রসায়ন ছিল দারুণ।

নানার প্রয়াণে শোক জানিয়ে শাহরুখ বলেন, তার তীব্রতা, পাগলামি ও ভালোবাসা সবসময় হৃদয়ে গেঁথে থাকবে। তার প্রস্থানে বিশ্ব সিনেমা এক বিশাল শূন্যতার মুখোমুখি হয়েছে। বার্তার শেষে শাহরুখ লিখেছেন, ‘খুব তাড়াতাড়িই চলে গেলে, আমার নায়ক অভিনেতা! শান্তিতে থেকো।’

নানা পাটেকরের মৃত্যুতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মুম্বাইয়ে সালমান খানের একটি অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বান্দ্রার তাজ ল্যান্ডস এন্ডে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সালমানের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। জিবি রিয়েলটির চেয়ারম্যান গুরিন্দর ভাট্টির সঙ্গে তার থাকার সূচি থাকলেও নানার সম্মানে আয়োজকেরা সেটি বাতিল করেন। ১৯৯৬ সালের একটি সিনেমায় সালমান ও নানা একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বান্দ্রার তাজ ল্যান্ডস এন্ডে জিবি রিয়েলটির আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সালমানের উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ৭৫ বছর বয়সে গোয়ায় নিজের বাড়িতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন নানা পাটেকর। ভোররাত আড়াইটার দিকে তিনি অস্বস্তিবোধ করলে বন্ধুকে বার্তা পাঠান। চিকিৎসক শেখর সালকার জানান, পরে বন্ধু তাকে ফোন করেন এবং ভোর ৪টার দিকে বাড়িতে গিয়ে নানা পাটেকরকে অচেতন অবস্থায় পান। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় থেকেই বাঁচানোর জন্য সিপিআরসহ সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হয়। ডা. সালকার জানান, নানার দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে অ্যাম্বুলেন্স আনতে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ভোর ৪টা ২০ মিনিটে তাকে মণিপাল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তবে সকাল ৫টা ২০ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক শেখর সালকারের ভাষ্যমতে, হাসপাতালে পৌঁছানোর সময়ই তিনি শারীরিকভাবে সাড়া দেওয়ার অবস্থায় ছিলেন না।

মহারাষ্ট্রের এই গুণী অভিনেতার শেষকৃত্য হবে তার পুনের নিকটবর্তী খামারবাড়িতে। তার শিল্পকর্ম ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মহারাষ্ট্র সরকার তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ‘আঙ্কুশ’, ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অ্যাব তাক ছাপ্পান’ ও ‘ওয়েলকাম’-এর মতো অসংখ্য কালজয়ী সিনেমায় অভিনয় করে তিনি অমর হয়ে আছেন। ‘আঙ্কুশ’, ‘পরিন্দা’, ‘অঙ্গার’, ‘তিরঙ্গা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অ্যাব তাক ছাপ্পান’, ‘অপহরণ’, ‘ট্যাক্সি নম্বর ৯২১১’ ও ‘ওয়েলকাম’-এর মতো সিনেমায় অভিনয়ের জন্যও ব্যাপক পরিচিত ছিলেন নানা পাটেকর।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নানা পাটেকরকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণে শাহরুখ খান

আপডেট সময় ১০:২৪:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

প্রখ্যাত অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তা দিয়েছেন শাহরুখ খান। তিনি নানা পাটেকরকে শুধু একজন সহশিল্পী হিসেবে নয়, বরং পরামর্শদাতা, শিক্ষক ও বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শাহরুখ স্মরণ করেছেন তাদের একসঙ্গে কাটানো সময় এবং অভিনয়ের খুঁটিনাটি নিয়ে পাওয়া নানার কঠিন পরামর্শগুলো। নানার সঙ্গে আরো অনেক সময় গল্প করা, তর্ক করা, চা খাওয়া ও ক্যারম খেলার সুযোগ না পাওয়ায় আক্ষেপ করেছেন শাহরুখ। তার মৃত্যু শুধু সিনেমার জগতেই নয়, ভারত ও বিশ্বের মানুষের হৃদয়েও বড় শূন্যতা তৈরি করেছে।

শাহরুখ জানান, নানার সঙ্গে প্রথমবার সাক্ষাতের সেই মুহূর্তটি ছিল স্মরণীয়। মুগ্ধতা ও কিছুটা অস্বস্তিতে তিনি নিজের চুল নিয়ে নাড়াচাড়া করছিলেন। তখন নানা তাকে হাত সরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, ‘হিরোর মতো চুল সাজিও না, তুমি অভিনেতা।’ শাহরুখ বলেন, নানা পাটেকর সবসময় সেই সত্যই বলতেন যা শোনা প্রয়োজন ছিল, মানুষ যা শুনতে চাইত তা বলতেন না। তিনি আমাকে ভালোবাসতেন, আমিও তাকে ভালোবাসতাম। ”।

তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে বলতে গিয়ে শাহরুখ জানান, ক্যারম খেলার সময় নানা তাকে বারবার হারিয়ে বেশ উপভোগ করতেন। ভালোবাসা প্রকাশের ক্ষেত্রেও নানা ছিলেন অনন্য। শাহরুখের কথায়, তিনি প্রথমে বকাঝকা করতেন, কিন্তু কয়েকবার বিরক্তি বা অপমান প্রকাশের মাধ্যমেই বোঝা যেত তিনি কতটা আপন করে নিচ্ছেন। শাহরুখ বলেন, “তিনি প্রথমে তোমাকে বকাঝকা করতেন, এরপর তৃতীয় বা চতুর্থবার অপমান করার মাঝেই বুঝতে পারতে, আসলে তিনি তোমাকে জড়িয়ে ধরছেন। তাকে বাঁচাতে সেখানেই হৃদযন্ত্র সচল করার চিকিৎসা ও সিপিআর শুরু করা হয়।

শাহরুখ ও নানা পাটেকর ১৯৯২ সালের ‘রাজু বান গয়া জেন্টলম্যান’ সিনেমায় প্রথম একসঙ্গে কাজ করেন। পরে ২০০২ সালে ‘শক্তি: দ্য পাওয়ার’ সিনেমায় তাদের দেখা যায়। সেখানে নানার চরিত্র ছিল নরসিমহা এবং শাহরুখ বিশেষ উপস্থিতিতে জয় সিং চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। যদিও সিনেমাটিতে তাদের একসঙ্গে দৃশ্য ছিল না, তবে তাদের ব্যক্তিগত রসায়ন ছিল দারুণ।

নানার প্রয়াণে শোক জানিয়ে শাহরুখ বলেন, তার তীব্রতা, পাগলামি ও ভালোবাসা সবসময় হৃদয়ে গেঁথে থাকবে। তার প্রস্থানে বিশ্ব সিনেমা এক বিশাল শূন্যতার মুখোমুখি হয়েছে। বার্তার শেষে শাহরুখ লিখেছেন, ‘খুব তাড়াতাড়িই চলে গেলে, আমার নায়ক অভিনেতা! শান্তিতে থেকো।’

নানা পাটেকরের মৃত্যুতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মুম্বাইয়ে সালমান খানের একটি অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বান্দ্রার তাজ ল্যান্ডস এন্ডে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সালমানের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। জিবি রিয়েলটির চেয়ারম্যান গুরিন্দর ভাট্টির সঙ্গে তার থাকার সূচি থাকলেও নানার সম্মানে আয়োজকেরা সেটি বাতিল করেন। ১৯৯৬ সালের একটি সিনেমায় সালমান ও নানা একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বান্দ্রার তাজ ল্যান্ডস এন্ডে জিবি রিয়েলটির আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সালমানের উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ৭৫ বছর বয়সে গোয়ায় নিজের বাড়িতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন নানা পাটেকর। ভোররাত আড়াইটার দিকে তিনি অস্বস্তিবোধ করলে বন্ধুকে বার্তা পাঠান। চিকিৎসক শেখর সালকার জানান, পরে বন্ধু তাকে ফোন করেন এবং ভোর ৪টার দিকে বাড়িতে গিয়ে নানা পাটেকরকে অচেতন অবস্থায় পান। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় থেকেই বাঁচানোর জন্য সিপিআরসহ সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হয়। ডা. সালকার জানান, নানার দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে অ্যাম্বুলেন্স আনতে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ভোর ৪টা ২০ মিনিটে তাকে মণিপাল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তবে সকাল ৫টা ২০ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক শেখর সালকারের ভাষ্যমতে, হাসপাতালে পৌঁছানোর সময়ই তিনি শারীরিকভাবে সাড়া দেওয়ার অবস্থায় ছিলেন না।

মহারাষ্ট্রের এই গুণী অভিনেতার শেষকৃত্য হবে তার পুনের নিকটবর্তী খামারবাড়িতে। তার শিল্পকর্ম ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মহারাষ্ট্র সরকার তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ‘আঙ্কুশ’, ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অ্যাব তাক ছাপ্পান’ ও ‘ওয়েলকাম’-এর মতো অসংখ্য কালজয়ী সিনেমায় অভিনয় করে তিনি অমর হয়ে আছেন। ‘আঙ্কুশ’, ‘পরিন্দা’, ‘অঙ্গার’, ‘তিরঙ্গা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অ্যাব তাক ছাপ্পান’, ‘অপহরণ’, ‘ট্যাক্সি নম্বর ৯২১১’ ও ‘ওয়েলকাম’-এর মতো সিনেমায় অভিনয়ের জন্যও ব্যাপক পরিচিত ছিলেন নানা পাটেকর।