ঢাকা ০৩:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তাজমহলকে ডিনামাইটের সাহায্যে ধ্বংস করা হতে পারে: আজম খান

ফাইল ফটো

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বিশ্বখ্যাত ঐতিহাসিক তাজমহলকে ডিনামাইট দিয়ে ধ্বংস করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন ভারতের উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টির সিনিয়র

সম্প্রতি বিজেপি সংসদ সদস্য বিনয় কাটিয়ার গণমাধ্যমের সামনে দাবি করেছেন, তাজমহল আসলে হিন্দু মন্দির। মুঘল সম্রাট শাহজাহান শিবমন্দির ভেঙে সেখানে সৌধ তৈরি করেছেন। তাজমহলের নাম পরিবর্তন করে ‘তেজো মহল’ করারও দাবি জানিয়েছেন।

এর আগে উত্তর প্রদেশের বিজেপি বিধায়ক সঙ্গীত সোম তাজমহলকে ‘ভারতীয় সংস্কৃতির কলঙ্ক’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

উত্তর প্রদেশে উগ্র হিন্দুত্ববাদী যোগি আদিত্যনাথ মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসার পর ‘তাজমহল ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে না’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। এমনকি উত্তর প্রদেশ সরকারের সেরা পর্যটন ক্যালেন্ডার থেকেও তাজমহলকে বাদ দেয়া হয়।

এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ও বিজেপি এমপি বিনয় কাটিয়ারের দাবি প্রসঙ্গে আজম খান বাবরী মসজিদের মতো তাজমহলকেও ধ্বংস করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

গত বুধবার আজম খান বলেন, যদি বাবরী মসজিদ ধ্বংস করা সম্ভব হয় তাহলে দেশের যেকোনো স্থাপত্য ধ্বংস করা হতে পারে। তাজমহলকে কোনো দিন ধ্বংস করে ফেলা হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

তিনি বলেন, ‘এদেশে যদি রাম মন্দিরের নামে বাবরী মসজিদকে ধ্বংস করতে পারে তাহলে এসব লোকেরা সব কিছুই করতে পারে। বাবরী মসজিদ ধ্বংস করার আগে গোটা দেশে যে ধরণের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল, তা একদিনে তৈরি হয়নি। কয়েক বছর ধরে ওই পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। সুবিচারপ্রিয় মানুষদের স্মরণে আছে তখন সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ ছিল, হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ ছিল, সেসময় উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদালতে হলফনামা দিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, একতা পরিষদে প্রস্তাব নেয়া হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরী মসজিদকে ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেয়া হয়েছিল।’

আজম খান তাজমহলকে ঐতিহাসিক স্মৃতিস্মারক ও বিশ্বের সপ্তমাশ্চর্য বলে উল্লেখ করে বিশ্বের চাপে তা টিকে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তাজমহলকে ডিনামাইটের সাহায্যে ধ্বংস করা হতে পারে: আজম খান

আপডেট সময় ০৯:২৪:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বিশ্বখ্যাত ঐতিহাসিক তাজমহলকে ডিনামাইট দিয়ে ধ্বংস করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন ভারতের উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টির সিনিয়র

সম্প্রতি বিজেপি সংসদ সদস্য বিনয় কাটিয়ার গণমাধ্যমের সামনে দাবি করেছেন, তাজমহল আসলে হিন্দু মন্দির। মুঘল সম্রাট শাহজাহান শিবমন্দির ভেঙে সেখানে সৌধ তৈরি করেছেন। তাজমহলের নাম পরিবর্তন করে ‘তেজো মহল’ করারও দাবি জানিয়েছেন।

এর আগে উত্তর প্রদেশের বিজেপি বিধায়ক সঙ্গীত সোম তাজমহলকে ‘ভারতীয় সংস্কৃতির কলঙ্ক’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

উত্তর প্রদেশে উগ্র হিন্দুত্ববাদী যোগি আদিত্যনাথ মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসার পর ‘তাজমহল ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে না’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। এমনকি উত্তর প্রদেশ সরকারের সেরা পর্যটন ক্যালেন্ডার থেকেও তাজমহলকে বাদ দেয়া হয়।

এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ও বিজেপি এমপি বিনয় কাটিয়ারের দাবি প্রসঙ্গে আজম খান বাবরী মসজিদের মতো তাজমহলকেও ধ্বংস করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

গত বুধবার আজম খান বলেন, যদি বাবরী মসজিদ ধ্বংস করা সম্ভব হয় তাহলে দেশের যেকোনো স্থাপত্য ধ্বংস করা হতে পারে। তাজমহলকে কোনো দিন ধ্বংস করে ফেলা হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

তিনি বলেন, ‘এদেশে যদি রাম মন্দিরের নামে বাবরী মসজিদকে ধ্বংস করতে পারে তাহলে এসব লোকেরা সব কিছুই করতে পারে। বাবরী মসজিদ ধ্বংস করার আগে গোটা দেশে যে ধরণের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল, তা একদিনে তৈরি হয়নি। কয়েক বছর ধরে ওই পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। সুবিচারপ্রিয় মানুষদের স্মরণে আছে তখন সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ ছিল, হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ ছিল, সেসময় উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদালতে হলফনামা দিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, একতা পরিষদে প্রস্তাব নেয়া হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরী মসজিদকে ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেয়া হয়েছিল।’

আজম খান তাজমহলকে ঐতিহাসিক স্মৃতিস্মারক ও বিশ্বের সপ্তমাশ্চর্য বলে উল্লেখ করে বিশ্বের চাপে তা টিকে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।