ঢাকা ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

আটলান্টিকের স্রোত কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

পৃথিবীর জলবায়ুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রস্রোত ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। বিজ্ঞানীরা এমন সতর্কতা দিচ্ছেন। এই স্রোতের নাম আটলান্টিক মেরিডিওনাল ওভারটার্নিং সার্কুলেশন (AMOC)। এটি আটলান্টিক মহাসাগরে বিশাল পানির প্রবাহ, যা উষ্ণ অঞ্চল থেকে ঠান্ডা অঞ্চলের দিকে তাপ বয়ে নিয়ে যায়।

AMOC মূলত নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে উষ্ণ পানি উত্তর দিকে তথা গ্রিনল্যান্ডের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে পানি ঠান্ডা হয়ে ভারী হয়ে গভীরে ডুবে আবার দক্ষিণ দিকে ফিরে আসে। এই প্রক্রিয়া পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই জলস্রোত ধীরে দুর্বল হচ্ছে। যদি এটি আরও ধীর হয়ে যায়, তাহলে উত্তর ইউরোপে শীত অনেক বেশি ঠান্ডা হতে পারে। যদিও পৃথিবী সামগ্রিকভাবে উষ্ণ হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে বর্ষার ধরন বদলে যেতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে হঠাৎ করে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই সিস্টেমটি খুব ধীরগতির এবং গভীর সমুদ্রে ঘটে, তাই এটি সরাসরি দেখা যায় না। বিভিন্ন যন্ত্র, স্যাটেলাইট ও কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এর পরিবর্তন বোঝার চেষ্টা করেন। তবে এর ভবিষ্যৎ ঠিক কেমন হবে, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে তেমন আলোচনা না হওয়ার একটি বড় কারণ হলো—এটি দৃশ্যমান নয়। বনভূমি ধ্বংস, হিমবাহ গলা বা ঝড়-ঝঞ্ঝার মতো দৃশ্যমান চিত্র সহজে মানুষের নজর কাড়ে। কিন্তু গভীর সমুদ্রের এই ধীর স্রোত মানুষের চোখে পড়ে না। ফলে বিষয়টি মিডিয়ার শিরোনামে কম আসে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, শুধু চোখে দেখা যায় না বলে এই ঝুঁকিকে অবহেলা করা ঠিক নয়। বরং এটি দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ুর জন্য বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। AMOC-এর মতো জটিল ও অদৃশ্য প্রক্রিয়াগুলো বুঝতে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আটলান্টিকের স্রোত কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা

আপডেট সময় ০৯:৩০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

পৃথিবীর জলবায়ুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রস্রোত ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। বিজ্ঞানীরা এমন সতর্কতা দিচ্ছেন। এই স্রোতের নাম আটলান্টিক মেরিডিওনাল ওভারটার্নিং সার্কুলেশন (AMOC)। এটি আটলান্টিক মহাসাগরে বিশাল পানির প্রবাহ, যা উষ্ণ অঞ্চল থেকে ঠান্ডা অঞ্চলের দিকে তাপ বয়ে নিয়ে যায়।

AMOC মূলত নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে উষ্ণ পানি উত্তর দিকে তথা গ্রিনল্যান্ডের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে পানি ঠান্ডা হয়ে ভারী হয়ে গভীরে ডুবে আবার দক্ষিণ দিকে ফিরে আসে। এই প্রক্রিয়া পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই জলস্রোত ধীরে দুর্বল হচ্ছে। যদি এটি আরও ধীর হয়ে যায়, তাহলে উত্তর ইউরোপে শীত অনেক বেশি ঠান্ডা হতে পারে। যদিও পৃথিবী সামগ্রিকভাবে উষ্ণ হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে বর্ষার ধরন বদলে যেতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে হঠাৎ করে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই সিস্টেমটি খুব ধীরগতির এবং গভীর সমুদ্রে ঘটে, তাই এটি সরাসরি দেখা যায় না। বিভিন্ন যন্ত্র, স্যাটেলাইট ও কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এর পরিবর্তন বোঝার চেষ্টা করেন। তবে এর ভবিষ্যৎ ঠিক কেমন হবে, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে তেমন আলোচনা না হওয়ার একটি বড় কারণ হলো—এটি দৃশ্যমান নয়। বনভূমি ধ্বংস, হিমবাহ গলা বা ঝড়-ঝঞ্ঝার মতো দৃশ্যমান চিত্র সহজে মানুষের নজর কাড়ে। কিন্তু গভীর সমুদ্রের এই ধীর স্রোত মানুষের চোখে পড়ে না। ফলে বিষয়টি মিডিয়ার শিরোনামে কম আসে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, শুধু চোখে দেখা যায় না বলে এই ঝুঁকিকে অবহেলা করা ঠিক নয়। বরং এটি দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ুর জন্য বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। AMOC-এর মতো জটিল ও অদৃশ্য প্রক্রিয়াগুলো বুঝতে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।