ঢাকা ০২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মায়ের হাত থেকে ছিটকে ড্রেনে পড়ে শিশুর মৃত্যু তরুণদের মাদকমুক্ত রাখতে আইনের পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিত প্রতিরোধের আহ্বান সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর ঝিনাইদহে শিশুকে ধর্ষণ-হত্যায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড আনোয়ার ইব্রাহিমের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিলেন তারেক রহমান উপকূলীয় দেশ হিসেবে সমুদ্র খাতে আরও মনোযোগী হতে হবে: নৌমন্ত্রী পানি সংকটে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা, যুদ্ধের ইঙ্গিত খাজা আসিফের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলো এমপিপুত্রকে ফিলিপাইনে স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৩, আহত ৫ শেষ হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান প্রথম ধাপের আলোচনা, গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি নতুন কর্মসূচি ঘোষণা ১১ দলীয় জোটের

আটলান্টিকের স্রোত কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

পৃথিবীর জলবায়ুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রস্রোত ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। বিজ্ঞানীরা এমন সতর্কতা দিচ্ছেন। এই স্রোতের নাম আটলান্টিক মেরিডিওনাল ওভারটার্নিং সার্কুলেশন (AMOC)। এটি আটলান্টিক মহাসাগরে বিশাল পানির প্রবাহ, যা উষ্ণ অঞ্চল থেকে ঠান্ডা অঞ্চলের দিকে তাপ বয়ে নিয়ে যায়।

AMOC মূলত নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে উষ্ণ পানি উত্তর দিকে তথা গ্রিনল্যান্ডের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে পানি ঠান্ডা হয়ে ভারী হয়ে গভীরে ডুবে আবার দক্ষিণ দিকে ফিরে আসে। এই প্রক্রিয়া পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই জলস্রোত ধীরে দুর্বল হচ্ছে। যদি এটি আরও ধীর হয়ে যায়, তাহলে উত্তর ইউরোপে শীত অনেক বেশি ঠান্ডা হতে পারে। যদিও পৃথিবী সামগ্রিকভাবে উষ্ণ হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে বর্ষার ধরন বদলে যেতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে হঠাৎ করে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই সিস্টেমটি খুব ধীরগতির এবং গভীর সমুদ্রে ঘটে, তাই এটি সরাসরি দেখা যায় না। বিভিন্ন যন্ত্র, স্যাটেলাইট ও কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এর পরিবর্তন বোঝার চেষ্টা করেন। তবে এর ভবিষ্যৎ ঠিক কেমন হবে, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে তেমন আলোচনা না হওয়ার একটি বড় কারণ হলো—এটি দৃশ্যমান নয়। বনভূমি ধ্বংস, হিমবাহ গলা বা ঝড়-ঝঞ্ঝার মতো দৃশ্যমান চিত্র সহজে মানুষের নজর কাড়ে। কিন্তু গভীর সমুদ্রের এই ধীর স্রোত মানুষের চোখে পড়ে না। ফলে বিষয়টি মিডিয়ার শিরোনামে কম আসে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, শুধু চোখে দেখা যায় না বলে এই ঝুঁকিকে অবহেলা করা ঠিক নয়। বরং এটি দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ুর জন্য বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। AMOC-এর মতো জটিল ও অদৃশ্য প্রক্রিয়াগুলো বুঝতে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মায়ের হাত থেকে ছিটকে ড্রেনে পড়ে শিশুর মৃত্যু

আটলান্টিকের স্রোত কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা

আপডেট সময় ০৯:৩০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

পৃথিবীর জলবায়ুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রস্রোত ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। বিজ্ঞানীরা এমন সতর্কতা দিচ্ছেন। এই স্রোতের নাম আটলান্টিক মেরিডিওনাল ওভারটার্নিং সার্কুলেশন (AMOC)। এটি আটলান্টিক মহাসাগরে বিশাল পানির প্রবাহ, যা উষ্ণ অঞ্চল থেকে ঠান্ডা অঞ্চলের দিকে তাপ বয়ে নিয়ে যায়।

AMOC মূলত নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে উষ্ণ পানি উত্তর দিকে তথা গ্রিনল্যান্ডের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে পানি ঠান্ডা হয়ে ভারী হয়ে গভীরে ডুবে আবার দক্ষিণ দিকে ফিরে আসে। এই প্রক্রিয়া পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই জলস্রোত ধীরে দুর্বল হচ্ছে। যদি এটি আরও ধীর হয়ে যায়, তাহলে উত্তর ইউরোপে শীত অনেক বেশি ঠান্ডা হতে পারে। যদিও পৃথিবী সামগ্রিকভাবে উষ্ণ হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে বর্ষার ধরন বদলে যেতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে হঠাৎ করে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই সিস্টেমটি খুব ধীরগতির এবং গভীর সমুদ্রে ঘটে, তাই এটি সরাসরি দেখা যায় না। বিভিন্ন যন্ত্র, স্যাটেলাইট ও কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এর পরিবর্তন বোঝার চেষ্টা করেন। তবে এর ভবিষ্যৎ ঠিক কেমন হবে, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে তেমন আলোচনা না হওয়ার একটি বড় কারণ হলো—এটি দৃশ্যমান নয়। বনভূমি ধ্বংস, হিমবাহ গলা বা ঝড়-ঝঞ্ঝার মতো দৃশ্যমান চিত্র সহজে মানুষের নজর কাড়ে। কিন্তু গভীর সমুদ্রের এই ধীর স্রোত মানুষের চোখে পড়ে না। ফলে বিষয়টি মিডিয়ার শিরোনামে কম আসে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, শুধু চোখে দেখা যায় না বলে এই ঝুঁকিকে অবহেলা করা ঠিক নয়। বরং এটি দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ুর জন্য বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। AMOC-এর মতো জটিল ও অদৃশ্য প্রক্রিয়াগুলো বুঝতে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।