ঢাকা ০৭:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্যালকুলেটরে হিসাব কষে ১৫ শতাংশ ঘুষ নিলেন পিআইও, ভিডিও ভাইরাল আগামী দুবছর ‘কঠিন’ যাবে, সতর্ক করলেন অর্থমন্ত্রী ১৭ বছর পর ইংল্যান্ডে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ সারা দেশে ৩৪৫৭টি সোলার ইরিগেশন বসানো হয়েছে : জ্বালানিমন্ত্রী ‘বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছার অঙ্গীকার’ ইলিশ রপ্তানির সক্ষমতা বাড়াতে হবে: কৃষিমন্ত্রী ‘২০২৮ সালের মধ্যে সব প্রাথমিকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করা হবে’ জিয়াউলের মামলায় আমরা বিভিন্ন প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছি: চিফ প্রসিকিউটর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি, সরকার সব সময় তৎপর থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সভ্যতা ও নদী রক্ষায় পরিবেশ সুরক্ষার বিকল্প নেই: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

ঝিনাইদহে শিশুকে ধর্ষণ-হত্যায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে আবু তাহের নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন বিচারক।

আজ সোমবার দুপুরে ঝিনাইদহ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদা) সালেহ উজ্জামান চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির আবু তাহের (৩২) কালীগঞ্জ উপজেলার ফারাসপুর গ্রামের শফি উদ্দীনের ছেলে। রায় ঘোষণার পর আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, রায় ঘিরে সকাল থেকেই আদালত এলাকায় জোরদার ছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

মামলার বিবরণ জানা যায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে কালীগঞ্জ উপজেলায় বাবা-মা অফিসে থাকায় শিশুটি খেলতে খেলতে তাহেরের বাড়ির সামনে যায়। এসময় তাহের শিশুটিকে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে নিজের ব্যবহৃত কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে শিশুটিকে হত্যা করেন।

ঘটনা ধামাচাপা দিতে রাতেই শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে পাশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে ফেলে দেন। পরদিন খোঁজাখুঁজির পর পুলিশ শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করে। সেদিনই শিশুটির বাবা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেন। এরপর পুলিশ তদন্ত করে ঘটনায় জড়িত আবু তাহেরকে শনাক্ত করে। রাতেই কুষ্টিয়া শহরের বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। এরপর গত ২২ মে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা। ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত আজ সোমবার আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

রায় ঘোষণার পর শিশুটির বাবা ও মা বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে অধিকাংশ সময়ই আমরা দেখি, রায় হয়; কিন্তু তা কার্যকর হয় না। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে আমার সন্তান হত্যার রায়টি কার্যকর করা হয়। এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হোক যেন কোনো কন্যা শিশুকে এমন ঘটনার স্বীকার হতে না হয়। বাবার কাঁধে যেন কোনো শিশু সন্তানের মৃতদেহ বহন না করতে হয়।

বাদীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের পিপি আকিদুল ইসলাম এবং সঙ্গে ছিলেন জেলা পিপি এস এম মশিউর রহমান। তারা বলেন, আদালত দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন। আমরা খুশি, ভুক্তভোগী পরিবার ও জেলাবাসী এ রায়ে খুশি।

এদিকে, আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়োককৃত আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম বলেন, মামলায় দাখিলকৃত তথ্য প্রমাণ সঠিক ছিল। সে ভিত্তিতেই আদালত রায় দিয়েছেন। আসামিপক্ষ আপিল করতে চাইলে সুযোগ আছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যালকুলেটরে হিসাব কষে ১৫ শতাংশ ঘুষ নিলেন পিআইও, ভিডিও ভাইরাল

ঝিনাইদহে শিশুকে ধর্ষণ-হত্যায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০১:৫৫:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে আবু তাহের নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন বিচারক।

আজ সোমবার দুপুরে ঝিনাইদহ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদা) সালেহ উজ্জামান চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির আবু তাহের (৩২) কালীগঞ্জ উপজেলার ফারাসপুর গ্রামের শফি উদ্দীনের ছেলে। রায় ঘোষণার পর আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, রায় ঘিরে সকাল থেকেই আদালত এলাকায় জোরদার ছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

মামলার বিবরণ জানা যায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে কালীগঞ্জ উপজেলায় বাবা-মা অফিসে থাকায় শিশুটি খেলতে খেলতে তাহেরের বাড়ির সামনে যায়। এসময় তাহের শিশুটিকে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে নিজের ব্যবহৃত কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে শিশুটিকে হত্যা করেন।

ঘটনা ধামাচাপা দিতে রাতেই শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে পাশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে ফেলে দেন। পরদিন খোঁজাখুঁজির পর পুলিশ শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করে। সেদিনই শিশুটির বাবা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেন। এরপর পুলিশ তদন্ত করে ঘটনায় জড়িত আবু তাহেরকে শনাক্ত করে। রাতেই কুষ্টিয়া শহরের বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। এরপর গত ২২ মে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা। ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত আজ সোমবার আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

রায় ঘোষণার পর শিশুটির বাবা ও মা বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে অধিকাংশ সময়ই আমরা দেখি, রায় হয়; কিন্তু তা কার্যকর হয় না। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে আমার সন্তান হত্যার রায়টি কার্যকর করা হয়। এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হোক যেন কোনো কন্যা শিশুকে এমন ঘটনার স্বীকার হতে না হয়। বাবার কাঁধে যেন কোনো শিশু সন্তানের মৃতদেহ বহন না করতে হয়।

বাদীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের পিপি আকিদুল ইসলাম এবং সঙ্গে ছিলেন জেলা পিপি এস এম মশিউর রহমান। তারা বলেন, আদালত দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন। আমরা খুশি, ভুক্তভোগী পরিবার ও জেলাবাসী এ রায়ে খুশি।

এদিকে, আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়োককৃত আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম বলেন, মামলায় দাখিলকৃত তথ্য প্রমাণ সঠিক ছিল। সে ভিত্তিতেই আদালত রায় দিয়েছেন। আসামিপক্ষ আপিল করতে চাইলে সুযোগ আছে।