ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বরফযুগের কঠিন পরিবেশই মানুষের সৃজনশীলতা বাড়িয়েছিল

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মানুষের সৃজনশীলতা শুধু আরামদায়ক পরিবেশে বিকশিত হয়েছে—দীর্ঘদিনের এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে নতুন এক গবেষণা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বরফযুগের কঠিন ও ভয়াবহ পরিবেশই প্রাচীন মানুষকে নতুনভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করেছিল। সেই চাপ থেকেই জন্ম নিয়েছিল উন্নত সরঞ্জাম তৈরির দক্ষতা।

চীনের হেনান প্রদেশের লিংজিং এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার বছর পুরোনো একটি প্রাণী জবাইয়ের স্থান নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা চালান প্রত্নতত্ত্ববিদরা। সেখানে তারা এমন কিছু পাথরের সরঞ্জাম খুঁজে পেয়েছেন, যা খুব পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল।

গবেষকদের মতে, এগুলো উন্নত চিন্তাশক্তি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রমাণ। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘জার্নাল অব হিউম্যান ইভোলিউশন’-এ। গবেষণার প্রধান লেখক ইউচাও ঝাও বলেন, সাধারণভাবে মানুষ মনে করে ভালো সময়েই সৃজনশীলতা বাড়ে। কিন্তু এই আবিষ্কার দেখাচ্ছে, কঠিন পরিস্থিতিও মানুষকে নতুন উপায়ে টিকে থাকতে শেখায়।

গবেষকদের মতে, ছোট পাথর দিয়ে বড় পাথরে আঘাত করে এসব সরঞ্জাম বানানো হয়েছিল। এর জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা ও নির্দিষ্ট কৌশল জানা প্রয়োজন ছিল। পাথরগুলো ভিন্ন ভিন্ন আকারে তৈরি করা হয়েছিল। এতে বোঝা যায়, নির্মাতারা কোন পাথর কীভাবে ভাঙবে, সে সম্পর্কে ধারণা রাখতেন।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই সরঞ্জামগুলোর প্রযুক্তিগত ধরন ইউরোপের নিয়ান্ডারথাল ও আফ্রিকার প্রাচীন মানবগোষ্ঠীর ব্যবহৃত প্রযুক্তির সঙ্গে মিল রয়েছে। এতে প্রমাণ মিলছে, উন্নত প্রযুক্তিগত চিন্তা শুধু ইউরোপ বা আফ্রিকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, লিংজিং এলাকায় বসবাস করত ‘হোমো জুলুয়েনসিস’ নামে বিলুপ্ত এক মানবপ্রজাতি। তারা হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণী শিকার করে সেখানে জবাই করত। নতুন স্ফটিক বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, জায়গাটি আগের ধারণার চেয়ে প্রায় ২০ হাজার বছর পুরোনো এবং এটি উষ্ণ সময় নয়, বরং ভয়াবহ শীতল বরফযুগের সময়ের।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

বরফযুগের কঠিন পরিবেশই মানুষের সৃজনশীলতা বাড়িয়েছিল

আপডেট সময় ১১:০৫:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মানুষের সৃজনশীলতা শুধু আরামদায়ক পরিবেশে বিকশিত হয়েছে—দীর্ঘদিনের এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে নতুন এক গবেষণা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বরফযুগের কঠিন ও ভয়াবহ পরিবেশই প্রাচীন মানুষকে নতুনভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করেছিল। সেই চাপ থেকেই জন্ম নিয়েছিল উন্নত সরঞ্জাম তৈরির দক্ষতা।

চীনের হেনান প্রদেশের লিংজিং এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার বছর পুরোনো একটি প্রাণী জবাইয়ের স্থান নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা চালান প্রত্নতত্ত্ববিদরা। সেখানে তারা এমন কিছু পাথরের সরঞ্জাম খুঁজে পেয়েছেন, যা খুব পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল।

গবেষকদের মতে, এগুলো উন্নত চিন্তাশক্তি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রমাণ। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘জার্নাল অব হিউম্যান ইভোলিউশন’-এ। গবেষণার প্রধান লেখক ইউচাও ঝাও বলেন, সাধারণভাবে মানুষ মনে করে ভালো সময়েই সৃজনশীলতা বাড়ে। কিন্তু এই আবিষ্কার দেখাচ্ছে, কঠিন পরিস্থিতিও মানুষকে নতুন উপায়ে টিকে থাকতে শেখায়।

গবেষকদের মতে, ছোট পাথর দিয়ে বড় পাথরে আঘাত করে এসব সরঞ্জাম বানানো হয়েছিল। এর জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা ও নির্দিষ্ট কৌশল জানা প্রয়োজন ছিল। পাথরগুলো ভিন্ন ভিন্ন আকারে তৈরি করা হয়েছিল। এতে বোঝা যায়, নির্মাতারা কোন পাথর কীভাবে ভাঙবে, সে সম্পর্কে ধারণা রাখতেন।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই সরঞ্জামগুলোর প্রযুক্তিগত ধরন ইউরোপের নিয়ান্ডারথাল ও আফ্রিকার প্রাচীন মানবগোষ্ঠীর ব্যবহৃত প্রযুক্তির সঙ্গে মিল রয়েছে। এতে প্রমাণ মিলছে, উন্নত প্রযুক্তিগত চিন্তা শুধু ইউরোপ বা আফ্রিকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, লিংজিং এলাকায় বসবাস করত ‘হোমো জুলুয়েনসিস’ নামে বিলুপ্ত এক মানবপ্রজাতি। তারা হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণী শিকার করে সেখানে জবাই করত। নতুন স্ফটিক বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, জায়গাটি আগের ধারণার চেয়ে প্রায় ২০ হাজার বছর পুরোনো এবং এটি উষ্ণ সময় নয়, বরং ভয়াবহ শীতল বরফযুগের সময়ের।