ঢাকা ১১:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মৃত্যুর হাজারো বছর পরও মমিতে সক্রিয় জীবাণু!

আকাশ নিউজ ডেস্ক:  

হাজার হাজার বছর আগে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির মমির ভেতরে এখনো সক্রিয় রয়েছে ক্ষুদ্র জীবের একটি জগৎ। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপের সবচেয়ে বিখ্যাত মমি ‘ওৎজি দ্য আইসম্যান’-এর শরীরে প্রাগৈতিহাসিক অন্ত্রের জীবাণু ও শীতল পরিবেশে টিকে থাকা খামিরজাতীয় অণুজীব এখনো সক্রিয় রয়েছে।

প্রায় ৫ হাজার ৩০০ বছর আগে ইতালির আল্পস পর্বতমালায় একটি তীরের আঘাতে নিহত হন ওৎজি। তাকে দীর্ঘদিন ধরে মাইনাস ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ধারণা ছিল, এই পরিবেশে সব ধরনের জৈবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা ভিন্ন তথ্য দিয়েছে।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘মাইক্রোবায়োম’ সাময়িকীতে। গবেষক মোহামেদ সারহান ও তার দল মমির ত্বক, অভ্যন্তরীণ টিস্যু এবং গলে যাওয়া বরফের পানি পরীক্ষা করে এক প্রাচীন জীববৈচিত্র্যের সন্ধান পান।

গবেষণায় দেখা গেছে, ওৎজির অন্ত্রে থাকা সক্রিয় জীবাণুগুলো তার শেষ খাবারের সঙ্গে মিল খুঁজে দেয়। সেই খাবারে ছিল চর্বিযুক্ত বন্য প্রাণীর মাংস, প্রাচীন শস্য এবং বিষাক্ত ফার্ন উদ্ভিদ।

গবেষকেরা আরও কয়েকটি বিরল জীবাণুর সন্ধান পেয়েছেন, যেগুলো আধুনিক শহুরে মানুষের শরীরে আর পাওয়া যায় না। তবে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু বিচ্ছিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে এখনো এগুলোর অস্তিত্ব রয়েছে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, কিছু খামিরজাতীয় অণুজীব গত নয় বছরে সংখ্যায় বেড়েছে। গবেষকদের মতে, এগুলো মমি সংরক্ষণে ব্যবহৃত জীবাণুনাশক রাসায়নিক পদার্থ খেয়ে বেঁচে থাকার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

এই আবিষ্কার নতুন প্রশ্নও তুলেছে। যদি এসব প্রাচীন অণুজীব হিমশীতল পরিবেশে এবং আধুনিক জীবাণুনাশক ব্যবহার সত্ত্বেও টিকে থাকতে পারে, তবে বিশ্বের জাদুঘরগুলো কীভাবে প্রাচীন নিদর্শনগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখবে?

গবেষকদের মতে, ওৎজির জীবিত অণুজীবসমূহ মানবস্বাস্থ্য, রোগের বিবর্তন এবং প্রাচীন মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

মৃত্যুর হাজারো বছর পরও মমিতে সক্রিয় জীবাণু!

আপডেট সময় ০৮:১০:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:  

হাজার হাজার বছর আগে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির মমির ভেতরে এখনো সক্রিয় রয়েছে ক্ষুদ্র জীবের একটি জগৎ। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপের সবচেয়ে বিখ্যাত মমি ‘ওৎজি দ্য আইসম্যান’-এর শরীরে প্রাগৈতিহাসিক অন্ত্রের জীবাণু ও শীতল পরিবেশে টিকে থাকা খামিরজাতীয় অণুজীব এখনো সক্রিয় রয়েছে।

প্রায় ৫ হাজার ৩০০ বছর আগে ইতালির আল্পস পর্বতমালায় একটি তীরের আঘাতে নিহত হন ওৎজি। তাকে দীর্ঘদিন ধরে মাইনাস ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ধারণা ছিল, এই পরিবেশে সব ধরনের জৈবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা ভিন্ন তথ্য দিয়েছে।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘মাইক্রোবায়োম’ সাময়িকীতে। গবেষক মোহামেদ সারহান ও তার দল মমির ত্বক, অভ্যন্তরীণ টিস্যু এবং গলে যাওয়া বরফের পানি পরীক্ষা করে এক প্রাচীন জীববৈচিত্র্যের সন্ধান পান।

গবেষণায় দেখা গেছে, ওৎজির অন্ত্রে থাকা সক্রিয় জীবাণুগুলো তার শেষ খাবারের সঙ্গে মিল খুঁজে দেয়। সেই খাবারে ছিল চর্বিযুক্ত বন্য প্রাণীর মাংস, প্রাচীন শস্য এবং বিষাক্ত ফার্ন উদ্ভিদ।

গবেষকেরা আরও কয়েকটি বিরল জীবাণুর সন্ধান পেয়েছেন, যেগুলো আধুনিক শহুরে মানুষের শরীরে আর পাওয়া যায় না। তবে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু বিচ্ছিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে এখনো এগুলোর অস্তিত্ব রয়েছে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, কিছু খামিরজাতীয় অণুজীব গত নয় বছরে সংখ্যায় বেড়েছে। গবেষকদের মতে, এগুলো মমি সংরক্ষণে ব্যবহৃত জীবাণুনাশক রাসায়নিক পদার্থ খেয়ে বেঁচে থাকার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

এই আবিষ্কার নতুন প্রশ্নও তুলেছে। যদি এসব প্রাচীন অণুজীব হিমশীতল পরিবেশে এবং আধুনিক জীবাণুনাশক ব্যবহার সত্ত্বেও টিকে থাকতে পারে, তবে বিশ্বের জাদুঘরগুলো কীভাবে প্রাচীন নিদর্শনগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখবে?

গবেষকদের মতে, ওৎজির জীবিত অণুজীবসমূহ মানবস্বাস্থ্য, রোগের বিবর্তন এবং প্রাচীন মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।