ঢাকা ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান অবিলম্বে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ প্রতারণা করে অর্থ আদায়, ৫১ হাজার সিমসহ ৫ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশকে অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি

ঘোষণা দিয়ে দুই বন্ধুর আত্মহত্যা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নাটোরের সিংড়ায় স্কুলের সহপাঠীদের কাছে ঘোষণা দিয়ে ইমন হোসেন (১৩) ও নিশাত হোসেন (১৪) নামে দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু কীটনাশক ট্যাবলেট খেয়ে একসঙ্গে আত্মহত্যা করেছে। রোববার সিংড়া উপজেলার হুলহুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদিন দুপুরে ইমন ও নিশাত একসঙ্গে কীটনাশক ট্যাবলেট খায়। পরে অসুস্থ অবস্থায় ইমন সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং নিশাত বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয়।

এর আগে তারা স্কুলে গিয়ে তাদের সহপাঠীদের বলে, আজ তারা দুজনই সুইসাইড (আত্মহত্যা) করবে। দু’জনের শেষ দিন আজ। এমন কথা বলে তারা স্কুল থেকে বের হয়ে যায়। এর পরই তাদের আত্মহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ে। ইমন হোসেন তাজপুর ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের আমিন হোসেনের এবং নিশাত চৌগ্রাম ইউনিয়নের হুলহুলিয়া গ্রামের মৃত বকুল প্রাংয়ের ছেলে। দু’জনেই হুলহুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

পুলিশ ও সহপাঠী সূত্রে জানা যায়, দুই বন্ধু ইমন ও নিশাত রোববার প্রতিদিনের মতো স্কুলে যায়। তবে তারা এদিন স্কুল পোশাক না পড়ে গেঞ্জি পড়ে যায়। ইমন হুলহুরিয়া গ্রামে তার খালার বাসায় থেকে পড়াশোনা করে আসছিল।স্কুলে কিছুক্ষণ সহপাঠীদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তারা আত্মহত্যা করার কথা বলে স্কুল থেকে বের হয়ে যায়।

পরে হুলহুলিয়া প্রামাণিক পাড়া এলাকায় একটি পুকুর পাড়ে তারা দু’জনই কীটনাশক ট্যাবলেট খেয়ে অসুস্থ হয়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। পরে নিশাতকে সেখান থেকে বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দু’জনেরই মৃত্যু হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়,, ইমনের বাড়ি সিংড়া উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে। হুলহুলিয়া গ্রামে তার খালার বাসায় থেকে সে হুলহুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত। এর আগে সে সিংড়া পৌর শহরের দমদমা পাইলট স্কুল ও কলেজ এবং নিংগইন জোড়মল্লিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। আর নিশাত হুলহুলিয়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তারা দু’জন বিশ্বস্ত বন্ধু ছিল এবং নিয়মিত স্কুলে যেত। তাদের কারো কাছে স্মার্ট ফোন ছিল না। ঠিক কী কারণে এমন ঘটনা ঘটলো তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।

হুলহুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী লাইব্রেরিয়ান তৌফিক পরশ বলেন, ইমন ও নিশাত হুলহুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। ইমনের রোল ৩০ ও নিশাতের রোল ২৬। সকালে দু’জন স্কুলে আসে। এসে তাদের সহপাঠীদের বলে আজ তারা দু’জন একসঙ্গে সুইসাইড করবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল বারিক জানান, ওই দুই শিক্ষার্থী রোববার ১০টা ৪০ মিনিটে স্কুল পোশাক ছাড়া গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় তারা স্কুলে আসে। শ্রেণি শিক্ষক ইয়াকুব আলী তাদের অস্বাভাবিক অবস্থায় ক্লাসে প্রবেশ করতে দেখে প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিতে বলেন। কিন্তু তারা প্রধান শিক্ষকের অনুমতি না নিয়ে স্কুল ত্যাগ করে। কিছুক্ষণ পর তাদের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তাদের আত্মহত্যার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘোষণা দিয়ে দুই বন্ধুর আত্মহত্যা

আপডেট সময় ১২:৫০:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নাটোরের সিংড়ায় স্কুলের সহপাঠীদের কাছে ঘোষণা দিয়ে ইমন হোসেন (১৩) ও নিশাত হোসেন (১৪) নামে দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু কীটনাশক ট্যাবলেট খেয়ে একসঙ্গে আত্মহত্যা করেছে। রোববার সিংড়া উপজেলার হুলহুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদিন দুপুরে ইমন ও নিশাত একসঙ্গে কীটনাশক ট্যাবলেট খায়। পরে অসুস্থ অবস্থায় ইমন সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং নিশাত বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয়।

এর আগে তারা স্কুলে গিয়ে তাদের সহপাঠীদের বলে, আজ তারা দুজনই সুইসাইড (আত্মহত্যা) করবে। দু’জনের শেষ দিন আজ। এমন কথা বলে তারা স্কুল থেকে বের হয়ে যায়। এর পরই তাদের আত্মহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ে। ইমন হোসেন তাজপুর ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের আমিন হোসেনের এবং নিশাত চৌগ্রাম ইউনিয়নের হুলহুলিয়া গ্রামের মৃত বকুল প্রাংয়ের ছেলে। দু’জনেই হুলহুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

পুলিশ ও সহপাঠী সূত্রে জানা যায়, দুই বন্ধু ইমন ও নিশাত রোববার প্রতিদিনের মতো স্কুলে যায়। তবে তারা এদিন স্কুল পোশাক না পড়ে গেঞ্জি পড়ে যায়। ইমন হুলহুরিয়া গ্রামে তার খালার বাসায় থেকে পড়াশোনা করে আসছিল।স্কুলে কিছুক্ষণ সহপাঠীদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তারা আত্মহত্যা করার কথা বলে স্কুল থেকে বের হয়ে যায়।

পরে হুলহুলিয়া প্রামাণিক পাড়া এলাকায় একটি পুকুর পাড়ে তারা দু’জনই কীটনাশক ট্যাবলেট খেয়ে অসুস্থ হয়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। পরে নিশাতকে সেখান থেকে বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দু’জনেরই মৃত্যু হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়,, ইমনের বাড়ি সিংড়া উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে। হুলহুলিয়া গ্রামে তার খালার বাসায় থেকে সে হুলহুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত। এর আগে সে সিংড়া পৌর শহরের দমদমা পাইলট স্কুল ও কলেজ এবং নিংগইন জোড়মল্লিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। আর নিশাত হুলহুলিয়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তারা দু’জন বিশ্বস্ত বন্ধু ছিল এবং নিয়মিত স্কুলে যেত। তাদের কারো কাছে স্মার্ট ফোন ছিল না। ঠিক কী কারণে এমন ঘটনা ঘটলো তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।

হুলহুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী লাইব্রেরিয়ান তৌফিক পরশ বলেন, ইমন ও নিশাত হুলহুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। ইমনের রোল ৩০ ও নিশাতের রোল ২৬। সকালে দু’জন স্কুলে আসে। এসে তাদের সহপাঠীদের বলে আজ তারা দু’জন একসঙ্গে সুইসাইড করবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল বারিক জানান, ওই দুই শিক্ষার্থী রোববার ১০টা ৪০ মিনিটে স্কুল পোশাক ছাড়া গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় তারা স্কুলে আসে। শ্রেণি শিক্ষক ইয়াকুব আলী তাদের অস্বাভাবিক অবস্থায় ক্লাসে প্রবেশ করতে দেখে প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিতে বলেন। কিন্তু তারা প্রধান শিক্ষকের অনুমতি না নিয়ে স্কুল ত্যাগ করে। কিছুক্ষণ পর তাদের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তাদের আত্মহত্যার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।