আকাশ বিনোদন ডেস্ক :
আরিফিন শুভ। ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বলিউডেও কাজ করছেন এখন। সম্প্রতি বলিউড সিরিজ ‘জ্যাজ সিটিতে’ কাজ করে প্রশংসিত হচ্ছেন তিনি। হলিউডেও কাজের কথা হচ্ছে বলে জোর গুঞ্জন। ঈদুল আজহায় মুক্তি প্রতীক্ষিত ‘মালিক’ সিনেমারও শুটিং শেষ করেছেন। সাম্প্রতিক কাজের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয় তাঁর সঙ্গে।
প্রথমবার বলিউডের সিরিজে অভিনয় করলেন। রেসপন্স কেমন পেলেন?
নতুন সবকিছুই অভিজ্ঞতাই বেশ রোমাঞ্চকর। এতদিন আমাদের দৌড় ছিল কলকাতা অবধি। ‘জ্যাজ সিটি’র মাধ্যমে এবার প্রথমবারের মতো বাংলা ছাড়িয়ে হিন্দি, ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় দর্শকদের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি। বিষয়টা সত্যিই অন্যরকম অনুভূতির। সবচেয়ে ভালো লাগছে, গল্প আর অভিনয়ের ভাষা যে আসলে ভৌগোলিক সীমা মানে না, সেটার বাস্তব অভিজ্ঞতা হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ কাজটা নিয়ে কথা বলছেন, ফোন করছেন, মেসেজ করছেন, নিজেদের অনুভূতি শেয়ার করছেন– একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে এটা খুব তৃপ্তির।
সিরিজটি তো বাংলাদেশের দর্শকরাও দেখছেন ও প্রশংসা করছেন। বিষয়টিতে কেমন লাগছে?
সিরিজটি বাংলাদেশের দর্শকদের দেখতে একটু কষ্ট হচ্ছে, কারণ আমাদের এখানে এখনও সরাসরি সনি লিভ দেখা যায় না। তবে এখনকার পৃথিবীতে কনটেন্টের যাত্রাটা আসলে প্ল্যাটফর্মের চেয়েও বড় হয়ে গেছে। বাংলাদেশের দর্শকরাও বিভিন্নভাবে কাজটি দেখছেন, খুঁজে নিচ্ছেন– এটাই সবচেয়ে ভালো লাগার জায়গা। পরিচিত অনেকেই বিভিন্ন ক্লিপসের লিংক পাঠিয়ে জানাচ্ছেন, আমাকে হিন্দি, ইংরেজি কিংবা উর্দুতে সংলাপ বলতে দেখে তারা সত্যিই চমকে গেছেন। আমার কাছে বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একজন অভিনেতা হিসেবে আমি সবসময় ভাষার চেয়ে আবেগ আর পারফরম্যান্সের সংযোগে বেশি বিশ্বাস করি। শুনছি, ফেসবুকসহ বিভিন্ন জায়গায় দর্শকরা কাজটি নিয়ে আলোচনা করছেন, প্রশংসা করছেন। একজন শিল্পীর জন্য এর চেয়ে বড় অনুপ্রেরণা খুব বেশি নেই।
বাংলাদেশের অভিনেতা হয়ে বলিউডের কোনো সিরিজের মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করলেন। চাপ কেমন ছিল?
নেলসন ম্যান্ডেলার একটা বিখ্যাত উক্তি আছে–কোনো কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেটাকে অসম্ভব বলেই মনে হয়। শুরুতে আমার অনুভূতিটাও অনেকটা তেমনই ছিল। বাংলাদেশের অভিনেতা হয়ে বলিউডের একটি সিরিজের মুখ্য ভূমিকায় কাজ করা– স্বাভাবিকভাবেই ভেতরে একটা চাপ ছিল, একটা অনিশ্চয়তাও ছিল। তবে একই সঙ্গে একটা বিশ্বাসও কাজ করেছে। মনে হয়েছে, সুযোগ যদি পাওয়া যায়, তাহলে নিজেকে ঠিকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই চাপকে বেশি বড় না করে কাজের দিকেই মন দিয়েছি, আর সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
সিরিজটি দেখার পর বাংলাদেশের দর্শক বলছেন দেশের নির্মাতারা আপনাকে প্রপার ব্যবহার করতে পারেছন না। আপনিও কি একমত?
এটা আসলে সম্পূর্ণভাবেই এ দেশের পরিচালক ও প্রযোজকরা ভালো বলতে পারবেন। আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি, একজন অভিনেতা হিসেবে আমি সবসময়ই কাজের সুযোগ পেলে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করি। সেটা দেশের কাজ হোক বা দেশের বাইরে– আমার দিক থেকে পরিশ্রম আর দায়বদ্ধতায় কোনো পার্থক্য থাকে না। আগেও বাংলাদেশের কাজের ক্ষেত্রে আমি সেই চেষ্টা করেছি, এবং সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে একইভাবে আরও ভালোভাবে নিজেকে মেলে ধরতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, ভালো গল্প আর ভালো চরিত্র পেলে শিল্পীর জন্য নিজেকে প্রমাণ করার জায়গা সবসময়ই তৈরি হয়।
এমন কোয়ালিটির সিরিজ বাংলাদেশে নির্মাণ হচ্ছে না কেন?
‘জ্যাজ সিটি’ আসলে বড় বাজেটের কাজ। এই ধরনের প্রোডাকশন করতে যে পরিমাণ বিনিয়োগ আর বাজার দরকার হয়, আমাদের এখানে সেটার কাঠামোটা এখনও পুরোপুরি তৈরি হয়নি বলেই হয়তো এমন কাজ নিয়মিত দেখা যাচ্ছে না। তবে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে। মানুষ এখন অনলাইন কনটেন্টের জন্য টাকা খরচ করতে শিখছে, সাবস্ক্রিপশন মডেলের দিকে অভ্যস্ত হচ্ছে। এই অভ্যাস যত দ্রুত বিস্তৃত হবে, তত দ্রুত বড় বাজেটের কনটেন্টের জন্য একটি শক্তিশালী মার্কেটও তৈরি হবে। তখন এমন ধরনের প্রজেক্ট আমাদের এখান থেকেও আরও বেশি আসবে।
সিরিজটিতে একাধিক ভাষায় কথা বলতে দেখা গেছে আপনাকে। সবগুলোর ডাবিং কি আপনারই করা
সিরিজটি সনি লিভে ‘জ্যাজ সিটি’ ছয়টি ভাষায় দেখা যাচ্ছে। আমি নিজে চারটি ভাষায় অভিনয় করেছি– বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি ও উর্দুতে। তবে প্ল্যাটফর্মটি যে একাধিক ভাষায় ডাবিং করেছে, সেটার সঙ্গে আমার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। এটা মূলত তাদের প্রযোজনা ও ডিস্ট্রিবিউশন টিমের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করা হয়েছে।
জ্যাজ সিটির সাফল্যের পর তো বলিউডের নতুন কাজের প্রস্তাব বা যুক্ত হয়েছেন কী?
আমি সাধারণত আমার পরবর্তী প্রজেক্টগুলো নিয়ে আগেভাগে কথা বলতে পছন্দ করি না। তবে এটা বলতে পারি, আমি জানি আগামী এক বছরে আমি কী কাজগুলো নিয়ে ব্যস্ত থাকব। তবে এতটুকু বলা যায়, ‘জ্যাজ সিটি’ মুক্তির পর থেকে কিছু নতুন প্রস্তাব আসছে, কথাবার্তাও চলছে। তবে ভিন্ন দেশের বড় কোনো প্রজেক্ট সাধারণত সময় নিয়ে, অনেক ধাপ পার হয়ে চূড়ান্ত হয়। দেখা যাক আল্লাহ কি রেখেছেন ভাগ্যে।
‘মালিক’ সিনেমায় কাজ করছেন। সিনেমাটি ঈদে আসার কথা। সিনেমাটি জ্যাজ সিটির মাধ্যমে যে শুভকে দর্শক দেখেছেন তেমনটি পাওয়া যাবে তো
আমি একটি সিনেমার কাজ শেষ করেছি। তবে যেহেতু প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা দেয়নি, তাই এ নিয়ে আমি বলতে পারি না। তবে আমি সবসময়ই চেষ্টা করি, প্রতিটি চরিত্রকে আলাদা করে উপস্থাপন করতে, নিজেকে রিপিট না করতে। ফলে নতুন কোনো কাজেই একই ধরনের শুভকে আবার দেখার চেয়ে, হয়তো তার ভেতরের অন্য এক দিকই দর্শকরা দেখবেন।
ঈদে শাকিব খানের সিনেমা রকস্টারের সঙ্গে মালিক মুক্তি পাবে। অথচ এখনও প্রচার-প্রচারণার কিছুই দেখা যাচ্ছে না। কারণ কী
আমি তো একজন অভিনেতা, আমার কাজ মূলত অভিনয় করা– সেটা আমি করে দিয়েছি। এর বাইরে কোনো প্রজেক্টে আমার বা আমাদের আর কিছুই করার থাকে না। প্রচার-প্রচারণা বা মুক্তির সময়ের পরিকল্পনা এগুলো পুরোপুরি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও পরিচালনার বিষয়। তাই এ ধরনের প্রশ্ন তাদের কাছেই করা উচিত।
আপনি হলিউডেও কাজ করছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। আসল ব্যাপারটা কী…
গুঞ্জন তো গুঞ্জনই; সময়ই এর সঠিক উত্তর দেবে। তবে এটা ঠিক, আমি সবসময়ই বিভিন্ন দেশ, ভিন্ন ভাষা আর ভিন্ন ধরনের গল্পে কাজ করতে আগ্রহী। আল্লাহ যেন সেটা কবুল করেন সেই দোয়া চাই আপাতত।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























