ঢাকা ০৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সম্প্রীতি বজায় রেখে নেতাদের রাজনীতি করার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের টাকা ছাপিয়ে ঋণ নয়, প্রাইভেট সেক্টরকে রক্ষা করাই নীতি: অর্থমন্ত্রী ২-৩ বছরের মধ্যে শিক্ষার নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন সম্ভব : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হকারদের পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘ফেলুদা’খ্যাত অভিনেতা বিপ্লব মারা গেছেন আচরণবিধি লঙ্ঘনে শাস্তি পেলেন নাহিদা-শারমিন পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে কাজ করছে সরকার : অর্থমন্ত্রী কুমিল্লায় মহাসড়কের পাশে মিলল কাস্টমস কর্মকর্তার রক্তাক্ত মরদেহ অর্থনীতি মজবুত করতে প্রাণিসম্পদ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী হাজার চেষ্টা করলেও আ.লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির

আজীবন সম্মাননায় আলমগীর, বিশেষ সম্মাননায় জেমস

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

বাংলাদেশের বিনোদন জগতের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত এক সন্ধ্যা—মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার–এর ২৭তম আসর। বরাবরের মত এবারের আয়োজনও রঙিন আলো আর তারকাদের মিলনমেলার অন্যতম অনুসঙ্গ হিসেবেই মেলে ধরল।

২৪ এপ্রিল, রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র সন্ধ্যার আগেই ধীরে ধীরে ভরে উঠছিল পরিচিত মুখে, ক্যামেরার ফ্ল্যাশে আর উচ্ছ্বাসে। তাই সন্ধ্যা নামতেই যেন শুরু হলো এক অন্য জগৎ। লালগালিচা পেরিয়ে একে একে প্রবেশ করেন শিল্পী, নির্মাতা আর তারকারা। সবাই যেন এই বিশেষ রাতের অংশ হতে উদগ্রীব। চারদিকে উৎসবের আমেজ, যেন একসঙ্গে উদযাপন করা হচ্ছে সারা বছরের সৃজনশীলতার সেরা মুহূর্তগুলো।

প্রথম আলো ও স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেড–এর যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৯ সাল থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন প্রতি বছরই দেশের চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও সংগীত অঙ্গনের কৃতী মানুষদের সম্মান জানিয়ে আসছে। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি—দর্শকের ভোট আর জুরিদের বিচারে সেরাদের হাতে উঠেছে সম্মানের এই স্বীকৃতি। এবারের ২৭ তম আায়োজন উপস্থাপনায় ছিলেন অভিনেতা আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরী। তাঁদের প্রাণবন্ত কথোপকথন আর বুদ্ধিদীপ্ত উপস্থাপনা অনুষ্ঠানটিকে নতুন মাত্রা দেয় যেনো।

এবারের আয়োজনে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অবদান রাখার জন্য বরেণ্য অভিনেতা আলমগীরকে দেওয়া হয় ‘মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা’। আলমগীরের হাতে পুরস্কার ও ৩ লাখ টাকার চেক তুলে দেন রুনা লায়লা। আলমগীরকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন স্কয়ার টয়লেট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী। এ সময় মঞ্চে ছিলেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানও।

আজীবন সম্মাননার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আফজাল হোসেন। আজীবন সম্মাননা পাওয়ার পর চিত্রনায়ক এম এ আলমগীর মাইক্রোফোন হাতে বলেন, ‘আমি সত্যিই এর প্রাপ্য কি না, আমি জানি না। আমার ছোটভাই (অভিনেতা আফজাল হোসেন) মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেছে, আমি অভিনয় করে তৃপ্তি পাইনি। আমার বিশ্বাস আফজালেরও তাই, অভিনয় করে কি তৃপ্তি পাওয়া যায়? পাওয়া যায় না। অভিনয়ের যে গভীরতা, এর শেষ এক জনমে খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। খুঁজে পেতে হলে শত জনম নিতে হবে। আমরা তো একটা জনমই পেয়েছি। শেষ কখনো দেখে যেতে পারব না।’

আলমগীর মঞ্চে উঠার পর দর্শককেরা দাঁড়িয়ে তাঁকে সম্মান জানান। এই দৃশ্যটি নিয়ে আলমগীর বলেন, ‘মঞ্চে আসার পর আপনারা যেভাবে দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়েছেন, এটা আমার নিজের চোখে দেখলাম এবং নিজের কানে শুনলাম। এটাকে আমি অন্তরে ধারণ করব মৃত্যু পর্যন্ত।’

এরপর এক এক করে ঘোষণা হতে থাকে বিজয়ীদের নাম। সেরা অভিনেতা হিসেবে যখন আবারও মঞ্চে ওঠেন আফরান নিশো, দর্শকদের করতালি যেন থামতেই চায় না। সেরা অভিনেত্রী হিসেবে সম্মাননা পান তমা মির্জা, আর নতুনদের মধ্যে নিজের জায়গা করে নেন শাম্মি ইসলাম নীলা। এরই মাঝে সংগীত অঙ্গনের আরেক উজ্জ্বল নাম মাহফুজ আনাম জেমস–এর হাতে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননা।

এই সম্মাননা দেওয়ার আগে মঞ্চে জেমসের জনপ্রিয় তিন গানে পারফর্ম করেন শুভ, কিশোর ও ইমরান। তাদের গাওয়ার পর মঞ্চে উঠেন জেমস। দরাজ কণ্ঠে গেয়ে ওঠেন, ‘সুন্দরীতমা আমার/ তুমি নীলিমার দিকে তাকিয়ে/ বলতে পারো/ এই আকাশ আমার।’ এবারের আয়োজনে মোট ২০টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কার প্রদানের পর বিজয়ীদের নিয়ে মঞ্চ উজ্জ্বল করা মুহূর্ত স্মরণীয় করে রাখতে ব্যস্ত হলেন আলোকচিত্রীরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

আজীবন সম্মাননায় আলমগীর, বিশেষ সম্মাননায় জেমস

আপডেট সময় ০৩:২৫:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

বাংলাদেশের বিনোদন জগতের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত এক সন্ধ্যা—মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার–এর ২৭তম আসর। বরাবরের মত এবারের আয়োজনও রঙিন আলো আর তারকাদের মিলনমেলার অন্যতম অনুসঙ্গ হিসেবেই মেলে ধরল।

২৪ এপ্রিল, রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র সন্ধ্যার আগেই ধীরে ধীরে ভরে উঠছিল পরিচিত মুখে, ক্যামেরার ফ্ল্যাশে আর উচ্ছ্বাসে। তাই সন্ধ্যা নামতেই যেন শুরু হলো এক অন্য জগৎ। লালগালিচা পেরিয়ে একে একে প্রবেশ করেন শিল্পী, নির্মাতা আর তারকারা। সবাই যেন এই বিশেষ রাতের অংশ হতে উদগ্রীব। চারদিকে উৎসবের আমেজ, যেন একসঙ্গে উদযাপন করা হচ্ছে সারা বছরের সৃজনশীলতার সেরা মুহূর্তগুলো।

প্রথম আলো ও স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেড–এর যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৯ সাল থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন প্রতি বছরই দেশের চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও সংগীত অঙ্গনের কৃতী মানুষদের সম্মান জানিয়ে আসছে। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি—দর্শকের ভোট আর জুরিদের বিচারে সেরাদের হাতে উঠেছে সম্মানের এই স্বীকৃতি। এবারের ২৭ তম আায়োজন উপস্থাপনায় ছিলেন অভিনেতা আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরী। তাঁদের প্রাণবন্ত কথোপকথন আর বুদ্ধিদীপ্ত উপস্থাপনা অনুষ্ঠানটিকে নতুন মাত্রা দেয় যেনো।

এবারের আয়োজনে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অবদান রাখার জন্য বরেণ্য অভিনেতা আলমগীরকে দেওয়া হয় ‘মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা’। আলমগীরের হাতে পুরস্কার ও ৩ লাখ টাকার চেক তুলে দেন রুনা লায়লা। আলমগীরকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন স্কয়ার টয়লেট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী। এ সময় মঞ্চে ছিলেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানও।

আজীবন সম্মাননার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আফজাল হোসেন। আজীবন সম্মাননা পাওয়ার পর চিত্রনায়ক এম এ আলমগীর মাইক্রোফোন হাতে বলেন, ‘আমি সত্যিই এর প্রাপ্য কি না, আমি জানি না। আমার ছোটভাই (অভিনেতা আফজাল হোসেন) মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেছে, আমি অভিনয় করে তৃপ্তি পাইনি। আমার বিশ্বাস আফজালেরও তাই, অভিনয় করে কি তৃপ্তি পাওয়া যায়? পাওয়া যায় না। অভিনয়ের যে গভীরতা, এর শেষ এক জনমে খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। খুঁজে পেতে হলে শত জনম নিতে হবে। আমরা তো একটা জনমই পেয়েছি। শেষ কখনো দেখে যেতে পারব না।’

আলমগীর মঞ্চে উঠার পর দর্শককেরা দাঁড়িয়ে তাঁকে সম্মান জানান। এই দৃশ্যটি নিয়ে আলমগীর বলেন, ‘মঞ্চে আসার পর আপনারা যেভাবে দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়েছেন, এটা আমার নিজের চোখে দেখলাম এবং নিজের কানে শুনলাম। এটাকে আমি অন্তরে ধারণ করব মৃত্যু পর্যন্ত।’

এরপর এক এক করে ঘোষণা হতে থাকে বিজয়ীদের নাম। সেরা অভিনেতা হিসেবে যখন আবারও মঞ্চে ওঠেন আফরান নিশো, দর্শকদের করতালি যেন থামতেই চায় না। সেরা অভিনেত্রী হিসেবে সম্মাননা পান তমা মির্জা, আর নতুনদের মধ্যে নিজের জায়গা করে নেন শাম্মি ইসলাম নীলা। এরই মাঝে সংগীত অঙ্গনের আরেক উজ্জ্বল নাম মাহফুজ আনাম জেমস–এর হাতে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননা।

এই সম্মাননা দেওয়ার আগে মঞ্চে জেমসের জনপ্রিয় তিন গানে পারফর্ম করেন শুভ, কিশোর ও ইমরান। তাদের গাওয়ার পর মঞ্চে উঠেন জেমস। দরাজ কণ্ঠে গেয়ে ওঠেন, ‘সুন্দরীতমা আমার/ তুমি নীলিমার দিকে তাকিয়ে/ বলতে পারো/ এই আকাশ আমার।’ এবারের আয়োজনে মোট ২০টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কার প্রদানের পর বিজয়ীদের নিয়ে মঞ্চ উজ্জ্বল করা মুহূর্ত স্মরণীয় করে রাখতে ব্যস্ত হলেন আলোকচিত্রীরা।