ঢাকা ০২:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশে জ্বালানি সংকট নেই, অসাধু চক্র কৃত্রিম লাইনে বাজার অস্থির করছে:জ্বালানি মন্ত্রী কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘পেপ্যাল’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী আমরা ভালো হয়ে গেলে দেশও ভালো হয়ে যাবে: শফিকুর রহমান ২৫ এপ্রিল ঢাকায় সমাবেশের ডাক দিল জামায়াত হান্নান মাসউদ, আপনি সরকারি দলে যোগ দিয়েছেন নাকি: স্পিকার ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চলতে দেওয়া হবে না: ছাত্রদল সম্পাদক নাছির ডিআইজিসহ ১৩ পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে তনু হত্যা মামলা: ১০ বছর পর সাবেক সেনাসদস্য গ্রেফতার, ৩ দিনের রিমান্ডে কর জরিপের একটা বড় প্রজেক্ট নিতে চাই: এনবিআর চেয়ারম্যান গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের জোরালো ইঙ্গিত পাওয়ার দাবি

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মঙ্গলের বুকে প্রাণের স্পন্দন কি তবে একসময় সত্যিই ছিল? মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার রোভার ‘কিউরিওসিটি’র পাঠানো সাম্প্রতিক তথ্য এই প্রশ্নকে নতুন করে উসকে দিয়েছে।

বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লাল গ্রহের মাটি খুঁড়ে এমন কিছু জৈব অণু পাওয়া গেছে যা আগে কখনও সেখানে দেখা যায়নি। বিশেষ করে ‘নাইট্রোজেন হেটেরোসাইকেল’ নামক একটি অণুর সন্ধান বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। কার্বন এবং নাইট্রোজেন পরমাণুর সমন্বয়ে গঠিত এই বলয়াকার গঠনটি মূলত ডিএনএ এবং আরএনএ তৈরির প্রাথমিক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। অর্থাৎ, পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশে যেসব রাসায়নিক উপাদান অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে, ঠিক তেমন উপাদানই এখন মঙ্গলের প্রাচীন পাথরে খুঁজে পাওয়া গেল।

২০২০ সালে মঙ্গলের ‘মাউন্ট শার্প’ অঞ্চলে ‘মেরি অ্যানিং ৩’ নামক একটি শিলাখণ্ড থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছিল কিউরিওসিটি। দীর্ঘ কয়েক বছরের ল্যাবরেটরি বিশ্লেষণের পর বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, ওই পাথরে জীবনের অস্তিত্ব রক্ষাকারী জৈব উপাদানের উপস্থিতি রয়েছে। গবেষকদের মতে, কোটি কোটি বছর আগে এই অঞ্চলে হ্রদ এবং নদীর প্রবাহ ছিল, যা প্রাণের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য আদর্শ। তবে নাসা এখনই একে জীবনের অকাট্য প্রমাণ বলতে রাজি নয়। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, এই অণুগুলো কোনো জৈবিক প্রক্রিয়ায় তৈরি হতে পারে, আবার আগ্নেয়গিরি বা অন্য কোনো ভূতাত্ত্বিক কারণেও সৃষ্টি হওয়া সম্ভব। এই মুহূর্তে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো না গেলেও এটা স্পষ্ট যে প্রাচীন মঙ্গলে প্রাণ ধারণের মতো সঠিক রসায়ন বিদ্যমান ছিল।

মিশন প্রজেক্ট সায়েন্টিস্ট অশ্বিন ভাসাবাদা এই অর্জনকে কিউরিওসিটি এবং তার দলের জন্য একটি বিশাল সাফল্য হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, এই আবিষ্কার মঙ্গলে প্রাচীন প্রাণের বসতি থাকার সম্ভাবনাকে আরও কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর আগে মঙ্গলের বিভিন্ন পাথরে ‘লেপার্ড স্পট’ বা চিতা বাঘের গায়ের মতো ছাপ পাওয়া গিয়েছিল, যা প্রাণের অস্তিত্বের আরেকটি জোরালো সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এছাড়া এবারের নমুনায় ‘বেনজোথিওফিন’ নামক এক ধরণের সালফারযুক্ত যৌগের উপস্থিতিও মিলেছে, যা সাধারণত উল্কাপিণ্ডে দেখা যায়। নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের সফলতার রেশ না কাটতেই মঙ্গলের এই নতুন তথ্য মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক যোগ করল। বিজ্ঞানীরা এখন গভীর মনোযোগের সাথে খতিয়ে দেখছেন যে, এই রাসায়নিক উপাদানগুলো মহাকাশ থেকে আসা কোনো উল্কার মাধ্যমে সেখানে পৌঁছাল, নাকি লাল গ্রহের বুকেই একদিন প্রাণের মেলা বসেছিল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

দেশে জ্বালানি সংকট নেই, অসাধু চক্র কৃত্রিম লাইনে বাজার অস্থির করছে:জ্বালানি মন্ত্রী

মঙ্গল গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের জোরালো ইঙ্গিত পাওয়ার দাবি

আপডেট সময় ০৯:৩০:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মঙ্গলের বুকে প্রাণের স্পন্দন কি তবে একসময় সত্যিই ছিল? মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার রোভার ‘কিউরিওসিটি’র পাঠানো সাম্প্রতিক তথ্য এই প্রশ্নকে নতুন করে উসকে দিয়েছে।

বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লাল গ্রহের মাটি খুঁড়ে এমন কিছু জৈব অণু পাওয়া গেছে যা আগে কখনও সেখানে দেখা যায়নি। বিশেষ করে ‘নাইট্রোজেন হেটেরোসাইকেল’ নামক একটি অণুর সন্ধান বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। কার্বন এবং নাইট্রোজেন পরমাণুর সমন্বয়ে গঠিত এই বলয়াকার গঠনটি মূলত ডিএনএ এবং আরএনএ তৈরির প্রাথমিক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। অর্থাৎ, পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশে যেসব রাসায়নিক উপাদান অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে, ঠিক তেমন উপাদানই এখন মঙ্গলের প্রাচীন পাথরে খুঁজে পাওয়া গেল।

২০২০ সালে মঙ্গলের ‘মাউন্ট শার্প’ অঞ্চলে ‘মেরি অ্যানিং ৩’ নামক একটি শিলাখণ্ড থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছিল কিউরিওসিটি। দীর্ঘ কয়েক বছরের ল্যাবরেটরি বিশ্লেষণের পর বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, ওই পাথরে জীবনের অস্তিত্ব রক্ষাকারী জৈব উপাদানের উপস্থিতি রয়েছে। গবেষকদের মতে, কোটি কোটি বছর আগে এই অঞ্চলে হ্রদ এবং নদীর প্রবাহ ছিল, যা প্রাণের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য আদর্শ। তবে নাসা এখনই একে জীবনের অকাট্য প্রমাণ বলতে রাজি নয়। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, এই অণুগুলো কোনো জৈবিক প্রক্রিয়ায় তৈরি হতে পারে, আবার আগ্নেয়গিরি বা অন্য কোনো ভূতাত্ত্বিক কারণেও সৃষ্টি হওয়া সম্ভব। এই মুহূর্তে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো না গেলেও এটা স্পষ্ট যে প্রাচীন মঙ্গলে প্রাণ ধারণের মতো সঠিক রসায়ন বিদ্যমান ছিল।

মিশন প্রজেক্ট সায়েন্টিস্ট অশ্বিন ভাসাবাদা এই অর্জনকে কিউরিওসিটি এবং তার দলের জন্য একটি বিশাল সাফল্য হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, এই আবিষ্কার মঙ্গলে প্রাচীন প্রাণের বসতি থাকার সম্ভাবনাকে আরও কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর আগে মঙ্গলের বিভিন্ন পাথরে ‘লেপার্ড স্পট’ বা চিতা বাঘের গায়ের মতো ছাপ পাওয়া গিয়েছিল, যা প্রাণের অস্তিত্বের আরেকটি জোরালো সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এছাড়া এবারের নমুনায় ‘বেনজোথিওফিন’ নামক এক ধরণের সালফারযুক্ত যৌগের উপস্থিতিও মিলেছে, যা সাধারণত উল্কাপিণ্ডে দেখা যায়। নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের সফলতার রেশ না কাটতেই মঙ্গলের এই নতুন তথ্য মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক যোগ করল। বিজ্ঞানীরা এখন গভীর মনোযোগের সাথে খতিয়ে দেখছেন যে, এই রাসায়নিক উপাদানগুলো মহাকাশ থেকে আসা কোনো উল্কার মাধ্যমে সেখানে পৌঁছাল, নাকি লাল গ্রহের বুকেই একদিন প্রাণের মেলা বসেছিল।