ঢাকা ১১:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সম্প্রীতি বজায় রেখে নেতাদের রাজনীতি করার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের টাকা ছাপিয়ে ঋণ নয়, প্রাইভেট সেক্টরকে রক্ষা করাই নীতি: অর্থমন্ত্রী ২-৩ বছরের মধ্যে শিক্ষার নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন সম্ভব : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হকারদের পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘ফেলুদা’খ্যাত অভিনেতা বিপ্লব মারা গেছেন আচরণবিধি লঙ্ঘনে শাস্তি পেলেন নাহিদা-শারমিন পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে কাজ করছে সরকার : অর্থমন্ত্রী কুমিল্লায় মহাসড়কের পাশে মিলল কাস্টমস কর্মকর্তার রক্তাক্ত মরদেহ অর্থনীতি মজবুত করতে প্রাণিসম্পদ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী হাজার চেষ্টা করলেও আ.লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির

আমরা ভালো হয়ে গেলে দেশও ভালো হয়ে যাবে: শফিকুর রহমান

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

মহান জাতীয় সংসদে একে-অন্যকে দোষারোপ না করে সবাইকে গঠনমূলক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমরা ভালো হয়ে গেলে দেশও ভালো হয়ে যাবে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ের নোটিশের ভিত্তিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সরকার সতর্ক, দায়িত্বশীল ও দূরদর্শী পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে।

সংক্ষিপ্ত আলোচনায় (বিধি-৬৮) অংশ নিয়ে তিনি আরও বলেন, সরকার গঠনের সময় দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ছিল মাত্র সাত দিনের। এ অবস্থায় ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হলে হরমুজ প্রণালি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

শফিকুর রহমান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সেদিন তিনি আমাকে চাচা ডেকেছিলেন; জানি না আমার বয়স তত কিনা। আমি যশোরে তাকে বুকে টেনে নিয়েছিলাম; আর তিনি যর্থাথই স্মরণ রেখেন- যশোরের ডাব থেকে পানি বের করেই পানি পান করিয়েছিলাম। আমি ঢাকা থেকে নেইনি ওটা। আলহামদুলিল্লাহ তিনি যে মনে রেখেছেন তার জন্য ধন্যবাদ।

তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রী খুবেই পজিটিভ মনে আজ কথা বলেছেন। আমি মনে করি একটি বাস্তবসম্মত একটি বক্তব্য রেখেছেন। শুধু এক জায়গায় হালকা একটু সুই হাতে নিয়েছিলেন। তিনি লজ্জা পেয়েছেন তাই সে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাই না। চালাক লোকেরা একটা কঠিন গালি দেওয়ার পরে বলেন- আমি গালি দেওয়া পছন্দ করি না। যেটা আমি পছন্দই করি না সেটা আমি করবই না।

তিনি আরও বলেন, এ সংসদে আমি প্রথমদিনই অনুরোধ করেছিলাম- আসুন আমরা জনকল্যাণে কথা বলি। আমরা পরস্পরকে দোষারোপ না করি- কিন্তু এটা বন্ধ হয়নি। মনে হয় মাত্রা কিছুটা কমে এসেছে। মানে আট মাত্রার ভূমিকম্প না; চার/পাঁচ মাত্রায় এখনো কাঁপচ্ছে। এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত। আমরা গঠনমূলক হই। সরকারি দলও গঠনমূলক হোক; আমরাও গঠনমূলক হই। সেইভাবে বিষয়গুলো রিজলভ করি এবং আমরা পারব- কেন পারব না। দুনিয়ার অনেক দেশই তো পারে আমরা কেনা পারব না। আমরা পারার কালচারে যেতে চাই; না পারার কালচারে থাকতে চাই না।

তিনি বলেন, এটা একটা ক্রাইসিস (জ্বালানি সংকট)। আমরা আগেই বলেছি এটা আমাদের সরকারের তৈরি না। কিন্তু ডিমান্ড ব্যবস্থাপনা বেশ কিছু সমস্যা হয়েছে। এ জায়গায় আমরা যদি মুক্ত মন নিয়ে বসতে পারতাম; কথা বলতে পারতাম; যদি কমন প্লাটফর্ম থেকে অ্যাড্রস করতে পারতাম তাহলে মানুষ একটা আস্থার স্থান খুঁজে পেত। আমরা বাস্তবধর্মী অ্যাড্রেস করতাম।

‘কিছু অসৎ লোক সব সময় সুবিধা নেয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যখন ক্রাইসিস পরিস্থিত আসে- ওরা সুযোগের অপেক্ষায় ওত পেতে বসে থাকে। আমি বলল- সেই লোক আমি হলেও আমাকে ছাড় দেবেন না। জাতির স্বার্থে আমি হলেও আমাকে ধরুন। বরং সাধারণ মানুষের চেয়ে আমাকে আরও বেশি করে এক্সপোজ করে দেন। যারা অসৎ তারা কোনো দলের হতে পারে না। এরা দলের সুবিধা নেয়। দল যদি বিপদে পরে ও সবার আগে পালাবে। এ ধরনের সুযোগ সন্ধানীদের কোনো সুযোগ দেওয়া উচিত না।

তিনি বলেন, এ হাউসে বসে আমরা যে ধরনের কথা বলব তা এই প্যারাডাইমের ভেতরে থাকবে না। গোটা দুনিয়ায় চলে যাচ্ছে এটা। তাই কথার মধ্যে ‘ভার’ থাকতে হবে। কথাগুলো সত্য হতে হবে। দায়িত্ব নিয়ে কথা বলতে হবে- আজ একটা বললাম কাল একটা বললাম; তাহলে জনগণ আমাদের কথা বিশ্বাস করবে না। একই বিষয়ের উপর কথার ধারাবাহিকতা থাকে এবং ময়দানে যে তার প্রয়োগ থাকে। এই দুইটা যখন জনগণ খুঁজে পাবে- তখন আমাদের কোনো স্টেটমেন্ট লাগবে না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

আমরা ভালো হয়ে গেলে দেশও ভালো হয়ে যাবে: শফিকুর রহমান

আপডেট সময় ১১:০৪:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

মহান জাতীয় সংসদে একে-অন্যকে দোষারোপ না করে সবাইকে গঠনমূলক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমরা ভালো হয়ে গেলে দেশও ভালো হয়ে যাবে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ের নোটিশের ভিত্তিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সরকার সতর্ক, দায়িত্বশীল ও দূরদর্শী পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে।

সংক্ষিপ্ত আলোচনায় (বিধি-৬৮) অংশ নিয়ে তিনি আরও বলেন, সরকার গঠনের সময় দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ছিল মাত্র সাত দিনের। এ অবস্থায় ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হলে হরমুজ প্রণালি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

শফিকুর রহমান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সেদিন তিনি আমাকে চাচা ডেকেছিলেন; জানি না আমার বয়স তত কিনা। আমি যশোরে তাকে বুকে টেনে নিয়েছিলাম; আর তিনি যর্থাথই স্মরণ রেখেন- যশোরের ডাব থেকে পানি বের করেই পানি পান করিয়েছিলাম। আমি ঢাকা থেকে নেইনি ওটা। আলহামদুলিল্লাহ তিনি যে মনে রেখেছেন তার জন্য ধন্যবাদ।

তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রী খুবেই পজিটিভ মনে আজ কথা বলেছেন। আমি মনে করি একটি বাস্তবসম্মত একটি বক্তব্য রেখেছেন। শুধু এক জায়গায় হালকা একটু সুই হাতে নিয়েছিলেন। তিনি লজ্জা পেয়েছেন তাই সে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাই না। চালাক লোকেরা একটা কঠিন গালি দেওয়ার পরে বলেন- আমি গালি দেওয়া পছন্দ করি না। যেটা আমি পছন্দই করি না সেটা আমি করবই না।

তিনি আরও বলেন, এ সংসদে আমি প্রথমদিনই অনুরোধ করেছিলাম- আসুন আমরা জনকল্যাণে কথা বলি। আমরা পরস্পরকে দোষারোপ না করি- কিন্তু এটা বন্ধ হয়নি। মনে হয় মাত্রা কিছুটা কমে এসেছে। মানে আট মাত্রার ভূমিকম্প না; চার/পাঁচ মাত্রায় এখনো কাঁপচ্ছে। এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত। আমরা গঠনমূলক হই। সরকারি দলও গঠনমূলক হোক; আমরাও গঠনমূলক হই। সেইভাবে বিষয়গুলো রিজলভ করি এবং আমরা পারব- কেন পারব না। দুনিয়ার অনেক দেশই তো পারে আমরা কেনা পারব না। আমরা পারার কালচারে যেতে চাই; না পারার কালচারে থাকতে চাই না।

তিনি বলেন, এটা একটা ক্রাইসিস (জ্বালানি সংকট)। আমরা আগেই বলেছি এটা আমাদের সরকারের তৈরি না। কিন্তু ডিমান্ড ব্যবস্থাপনা বেশ কিছু সমস্যা হয়েছে। এ জায়গায় আমরা যদি মুক্ত মন নিয়ে বসতে পারতাম; কথা বলতে পারতাম; যদি কমন প্লাটফর্ম থেকে অ্যাড্রস করতে পারতাম তাহলে মানুষ একটা আস্থার স্থান খুঁজে পেত। আমরা বাস্তবধর্মী অ্যাড্রেস করতাম।

‘কিছু অসৎ লোক সব সময় সুবিধা নেয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যখন ক্রাইসিস পরিস্থিত আসে- ওরা সুযোগের অপেক্ষায় ওত পেতে বসে থাকে। আমি বলল- সেই লোক আমি হলেও আমাকে ছাড় দেবেন না। জাতির স্বার্থে আমি হলেও আমাকে ধরুন। বরং সাধারণ মানুষের চেয়ে আমাকে আরও বেশি করে এক্সপোজ করে দেন। যারা অসৎ তারা কোনো দলের হতে পারে না। এরা দলের সুবিধা নেয়। দল যদি বিপদে পরে ও সবার আগে পালাবে। এ ধরনের সুযোগ সন্ধানীদের কোনো সুযোগ দেওয়া উচিত না।

তিনি বলেন, এ হাউসে বসে আমরা যে ধরনের কথা বলব তা এই প্যারাডাইমের ভেতরে থাকবে না। গোটা দুনিয়ায় চলে যাচ্ছে এটা। তাই কথার মধ্যে ‘ভার’ থাকতে হবে। কথাগুলো সত্য হতে হবে। দায়িত্ব নিয়ে কথা বলতে হবে- আজ একটা বললাম কাল একটা বললাম; তাহলে জনগণ আমাদের কথা বিশ্বাস করবে না। একই বিষয়ের উপর কথার ধারাবাহিকতা থাকে এবং ময়দানে যে তার প্রয়োগ থাকে। এই দুইটা যখন জনগণ খুঁজে পাবে- তখন আমাদের কোনো স্টেটমেন্ট লাগবে না।