ঢাকা ০৮:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সম্প্রীতি বজায় রেখে নেতাদের রাজনীতি করার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের টাকা ছাপিয়ে ঋণ নয়, প্রাইভেট সেক্টরকে রক্ষা করাই নীতি: অর্থমন্ত্রী ২-৩ বছরের মধ্যে শিক্ষার নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন সম্ভব : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হকারদের পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘ফেলুদা’খ্যাত অভিনেতা বিপ্লব মারা গেছেন আচরণবিধি লঙ্ঘনে শাস্তি পেলেন নাহিদা-শারমিন পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে কাজ করছে সরকার : অর্থমন্ত্রী কুমিল্লায় মহাসড়কের পাশে মিলল কাস্টমস কর্মকর্তার রক্তাক্ত মরদেহ অর্থনীতি মজবুত করতে প্রাণিসম্পদ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী হাজার চেষ্টা করলেও আ.লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির

দেশে জ্বালানি সংকট নেই, অসাধু চক্র কৃত্রিম লাইনে বাজার অস্থির করছে:জ্বালানি মন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সংসদে বলেছেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই, বরং কিছু অসাধু চক্র কৃত্রিমভাবে লাইনের মাধ্যমে সংকটের চিত্র তৈরি করছে এবং এর মাধ্যমে একটি ইনফরমাল মার্কেট গড়ে তুলছে।

তিনি বলেন, এটি কোনো বাস্তব সংকট নয়, এটি একটি কৃত্রিম সংকট। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও চক্র জনগণের চাহিদাকে ব্যবহার করে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে।

আজ জাতীয় সংসদে জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা (বিধি-৬৮) এ অংশ নিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এ বিষয়ে নোটিশ উত্থাপন করেন।

মন্ত্রী সংসদকে অবহিত করে জানান, বর্তমান সময়ে দেশের জ্বালানি মজুত সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। ডিজেল, অকটেন, পেট্রোলসহ বিভিন্ন জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং মেরিন ফুয়েল ও জেট ফুয়েলের সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে। সরকারি সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী বাজারে সরবরাহ বিগত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি দাবি করেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে বিভিন্ন জ্বালানির সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে ডিজেল প্রায় ৩৭.৫ শতাংশ এবং পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহও ৩০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি নিতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও সেটি প্রকৃত সংকট নয়। একটি গোষ্ঠী কৃত্রিমভাবে চাপ সৃষ্টি করে ইনফরমাল বাজারে প্রবেশ করতে চাইছে। কিছু অসাধু ব্যক্তি এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত মুনাফার উদ্দেশ্যে বাজারে বিকৃতি ঘটাচ্ছে।

তিনি জানান, সরকার নিয়মিতভাবে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এবং প্রশাসনের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করছে। এর মাধ্যমে অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি চিহ্নিত করে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে এবং তা পুনরায় বাজারে সরবরাহ করা হয়েছে।

এলপিজি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই খাতটি প্রাইভেট সেক্টরের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে সরকার সরাসরি মূল্য নিয়ন্ত্রণে নেই। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের মাধ্যমে মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

মন্ত্রী সংসদে বিরোধী দলসহ সকল সদস্যের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জ্বালানি খাতে অস্থিরতা দূর করতে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। এই কৃত্রিম লাইনের বিরুদ্ধে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে, যাতে জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।

তিনি বলেন, সরকার জনগণের সুবিধার জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। শেষে তিনি সাংবাদিকদের বিষয়টি অনুসন্ধান করে বাস্তব চিত্র তুলে ধরার আহ্বান জানান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

দেশে জ্বালানি সংকট নেই, অসাধু চক্র কৃত্রিম লাইনে বাজার অস্থির করছে:জ্বালানি মন্ত্রী

আপডেট সময় ১১:২৭:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সংসদে বলেছেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই, বরং কিছু অসাধু চক্র কৃত্রিমভাবে লাইনের মাধ্যমে সংকটের চিত্র তৈরি করছে এবং এর মাধ্যমে একটি ইনফরমাল মার্কেট গড়ে তুলছে।

তিনি বলেন, এটি কোনো বাস্তব সংকট নয়, এটি একটি কৃত্রিম সংকট। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও চক্র জনগণের চাহিদাকে ব্যবহার করে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে।

আজ জাতীয় সংসদে জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা (বিধি-৬৮) এ অংশ নিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এ বিষয়ে নোটিশ উত্থাপন করেন।

মন্ত্রী সংসদকে অবহিত করে জানান, বর্তমান সময়ে দেশের জ্বালানি মজুত সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। ডিজেল, অকটেন, পেট্রোলসহ বিভিন্ন জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং মেরিন ফুয়েল ও জেট ফুয়েলের সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে। সরকারি সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী বাজারে সরবরাহ বিগত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি দাবি করেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে বিভিন্ন জ্বালানির সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে ডিজেল প্রায় ৩৭.৫ শতাংশ এবং পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহও ৩০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি নিতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও সেটি প্রকৃত সংকট নয়। একটি গোষ্ঠী কৃত্রিমভাবে চাপ সৃষ্টি করে ইনফরমাল বাজারে প্রবেশ করতে চাইছে। কিছু অসাধু ব্যক্তি এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত মুনাফার উদ্দেশ্যে বাজারে বিকৃতি ঘটাচ্ছে।

তিনি জানান, সরকার নিয়মিতভাবে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এবং প্রশাসনের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করছে। এর মাধ্যমে অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি চিহ্নিত করে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে এবং তা পুনরায় বাজারে সরবরাহ করা হয়েছে।

এলপিজি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই খাতটি প্রাইভেট সেক্টরের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে সরকার সরাসরি মূল্য নিয়ন্ত্রণে নেই। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের মাধ্যমে মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

মন্ত্রী সংসদে বিরোধী দলসহ সকল সদস্যের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জ্বালানি খাতে অস্থিরতা দূর করতে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। এই কৃত্রিম লাইনের বিরুদ্ধে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে, যাতে জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।

তিনি বলেন, সরকার জনগণের সুবিধার জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। শেষে তিনি সাংবাদিকদের বিষয়টি অনুসন্ধান করে বাস্তব চিত্র তুলে ধরার আহ্বান জানান।