ঢাকা ০৭:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি ‘ওবামা আমলের চেয়ে অনেক ভালো হবে’: ট্রাম্প মাটি খুঁড়ে অজ্ঞাত মা ও নবজাতকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার হেফাজত আমিরের দোয়া নিলেন এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অচিরেই সুখবর আসবে: প্রধানমন্ত্রী ‘পরিবারের সুখ শান্তিকে তছনছ করে দিয়েছি’: মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপি নেত্রী যিশুর মূর্তি ভাঙচুর ইসরাইলি সেনার, বিশ্বজুড়ে তোলপাড় নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ আমি এই মন্ত্রী, এই মন্ত্রণালয়ে যে দুর্নীতি করবে, ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারবে না: শিক্ষামন্ত্রী নিজের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে সংসদে উদ্বেগের কথা জানালেন হান্নান মাসুদ

বদলি হজ কী? নারীরা কি পুরুষের বদলি হজ করতে পারবে?

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হলো পবিত্র হজ। এটি এমন এক ইবাদত, যা সামর্থ্যবান মুসলমানের জীবনে অন্তত একবার আদায় করা ফরজ। তবে বাস্তব জীবনে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যখন কেউ হজে যাওয়ার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও শারীরিক অক্ষমতা বা অন্য কোনো অপ্রত্যাশিত কারণে নিজে গিয়ে হজ আদায় করতে পারেন না। ইসলামের সৌন্দর্য এখানেই— এটি মানুষের বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে বিকল্প ব্যবস্থাও রেখেছে। সেই ব্যবস্থারই একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বদলি হজ।

কোনও মুসলিম যদি সম্পদশালী ও শারীরিকভাবে সক্ষম হন, তাহলে জীবনে একবার তার ওপর পবিত্র হজ আদায় করা ফরজ। কারও ওপর হজ ফরজ হওয়ার পর সে যদি হজের সময় পায়, কিন্তু এমন কোনও ওজর বা প্রতিবন্ধকতা এসে যায়, যার কারণে সে নিজে গিয়ে হজ করার সক্ষমতা না রাখে কিংবা এমন অসুস্থ হয়ে পড়ে, যা থেকে আর সুস্থ হওয়ার আশা নেই, তখন তার জন্য নিজের পক্ষ থেকে কাউকে পাঠিয়ে বদলি হজ করানোর সুযোগ রেখেছে ইসলাম।

অথবা হজ ফরজ হওয়া ব্যক্তি যদি মারা যান, তাহলে মৃত্যুর পর তার পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে তার নামে বদলি হজ করানোর অসিয়ত করে যাওয়া তার জন্য ফরজ। এমন পরিস্থিতিতে পরিবর্তিত যে হজের বিধান বর্ণনা করা হলো, সেটিই বদলি হজ।

তবে যদি এমন হয়, বদলি হজ করানোর পর যার জন্য হজ করানো হলো, তিনি সুস্থ হয়ে গেছেন, অথবা যে সমস্যার কারণে বদলি হজ করানো হয়েছে, তা কেটে গেলো, তাহলে আবার স্বয়ং তার ওপর হজ আদায় করা ফরজ হয়ে যাবে। আর আগের বদলি হজটি তার নফল হজ হিসেবে গণ্য হবে। (আহকামে হজ: ১১৮)

নারীরা কি পুরুষের বদলি হজ করতে পারবে?

নারীরা পুরুষের পক্ষ থেকে বদলি হজ আদায় করতে পারবেন। এ প্রসঙ্গে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন —

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، أَنَّ امْرَأَةً مِنْ خَثْعَمٍ قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ فَرِيضَةَ اللَّهِ عَلَى عِبَادِهِ فِي الْحَجِّ أَدْرَكَتْ أَبِي شَيْخًا كَبِيرًا، لَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَسْتَوِيَ عَلَى الرَّاحِلَةِ، أَفَأَحُجُّ عَنْهُ؟ قَالَ: نَعَمْ

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, খাছআম গোত্রের এক নারী বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমার পিতার ওপর হজ ফরজ হয়েছে, কিন্তু তিনি এত বৃদ্ধ যে বাহনের ওপর স্থির থাকতে পারেন না। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ করতে পারি?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, পারো।’ (বুখারি ১৫১৩)

পুরুষ কি নারীর বদলি হজ আদায় করতে পারবে?

নারী যেমন পুরুষের বদলি হজ আদায় করতে পারবে, তেমনি পুরুষও নারীর পক্ষ থেকে বদলি হজ আদায় করতে পারবেন। এ বিষয়ে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে—

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، أَنَّ امْرَأَةً مِنْ جُهَيْنَةَ جَاءَتْ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَتْ: إِنَّ أُمِّي نَذَرَتْ أَنْ تَحُجَّ، فَلَمْ تَحُجَّ حَتَّى مَاتَتْ، أَفَأَحُجُّ عَنْهَا؟ قَالَ: نَعَمْ، حُجِّي عَنْهَا، أَرَأَيْتِ لَوْ كَانَ عَلَى أُمِّكِ دَيْنٌ أَكُنْتِ قَاضِيَتَهُ؟ اقْضُوا اللَّهَ، فَاللَّهُ أَحَقُّ بِالْوَفَاءِ

এক নারী বললেন, ‘আমার মা হজ করার মানত করেছিলেন, কিন্তু তা আদায়ের আগেই মারা গেছেন। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ করতে পারি?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘হ্যাঁ, তার পক্ষ থেকে হজ করো। যদি তার কোনো ঋণ থাকত, তুমি কি তা পরিশোধ করতে না? আল্লাহর ঋণ আদায় করো, কারণ আল্লাহই সবচেয়ে বেশি হকদার।’ (বুখারি ১৮৫২)

গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা:

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— কোনও নারী যখন কোনও পুরুষের পক্ষ থেকে বদলি হজ আদায় করবেন, তখনও তার ওপর আবশ্যক হলো মাহরামের সঙ্গে হজের সফরে বের হওয়া। কারণ মাহরাম ছাড়া নারীর জন্য দীর্ঘ সফরে যাওয়া শরিয়তসম্মত নয়।

বদলি হজ ইসলামের একটি দয়ার্দ্র ও বাস্তবমুখী বিধান, যা মানুষের অক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতাকে সম্মান করে। এটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তাআলা বান্দার উপর অসাধ্য কিছু চাপিয়ে দেন না; বরং তাঁর ইবাদতের পথকে সহজ করে দেন। তবে এই বিধান যেন অবহেলার কারণ না হয়—সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও নিজে হজ আদায় করাই মূল দায়িত্ব। আর প্রয়োজনে বদলি হজ সেই দায়িত্ব পূরণের একটি সহায়ক মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হবে।

তথ্যসূত্র: আলবাহরুর রায়েক ৩/৬৯, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৫৭ ও আদ্দুররুল মুখতার ২/৬০৩

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বদলি হজ কী? নারীরা কি পুরুষের বদলি হজ করতে পারবে?

আপডেট সময় ০৬:২৬:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হলো পবিত্র হজ। এটি এমন এক ইবাদত, যা সামর্থ্যবান মুসলমানের জীবনে অন্তত একবার আদায় করা ফরজ। তবে বাস্তব জীবনে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যখন কেউ হজে যাওয়ার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও শারীরিক অক্ষমতা বা অন্য কোনো অপ্রত্যাশিত কারণে নিজে গিয়ে হজ আদায় করতে পারেন না। ইসলামের সৌন্দর্য এখানেই— এটি মানুষের বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে বিকল্প ব্যবস্থাও রেখেছে। সেই ব্যবস্থারই একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বদলি হজ।

কোনও মুসলিম যদি সম্পদশালী ও শারীরিকভাবে সক্ষম হন, তাহলে জীবনে একবার তার ওপর পবিত্র হজ আদায় করা ফরজ। কারও ওপর হজ ফরজ হওয়ার পর সে যদি হজের সময় পায়, কিন্তু এমন কোনও ওজর বা প্রতিবন্ধকতা এসে যায়, যার কারণে সে নিজে গিয়ে হজ করার সক্ষমতা না রাখে কিংবা এমন অসুস্থ হয়ে পড়ে, যা থেকে আর সুস্থ হওয়ার আশা নেই, তখন তার জন্য নিজের পক্ষ থেকে কাউকে পাঠিয়ে বদলি হজ করানোর সুযোগ রেখেছে ইসলাম।

অথবা হজ ফরজ হওয়া ব্যক্তি যদি মারা যান, তাহলে মৃত্যুর পর তার পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে তার নামে বদলি হজ করানোর অসিয়ত করে যাওয়া তার জন্য ফরজ। এমন পরিস্থিতিতে পরিবর্তিত যে হজের বিধান বর্ণনা করা হলো, সেটিই বদলি হজ।

তবে যদি এমন হয়, বদলি হজ করানোর পর যার জন্য হজ করানো হলো, তিনি সুস্থ হয়ে গেছেন, অথবা যে সমস্যার কারণে বদলি হজ করানো হয়েছে, তা কেটে গেলো, তাহলে আবার স্বয়ং তার ওপর হজ আদায় করা ফরজ হয়ে যাবে। আর আগের বদলি হজটি তার নফল হজ হিসেবে গণ্য হবে। (আহকামে হজ: ১১৮)

নারীরা কি পুরুষের বদলি হজ করতে পারবে?

নারীরা পুরুষের পক্ষ থেকে বদলি হজ আদায় করতে পারবেন। এ প্রসঙ্গে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন —

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، أَنَّ امْرَأَةً مِنْ خَثْعَمٍ قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ فَرِيضَةَ اللَّهِ عَلَى عِبَادِهِ فِي الْحَجِّ أَدْرَكَتْ أَبِي شَيْخًا كَبِيرًا، لَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَسْتَوِيَ عَلَى الرَّاحِلَةِ، أَفَأَحُجُّ عَنْهُ؟ قَالَ: نَعَمْ

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, খাছআম গোত্রের এক নারী বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমার পিতার ওপর হজ ফরজ হয়েছে, কিন্তু তিনি এত বৃদ্ধ যে বাহনের ওপর স্থির থাকতে পারেন না। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ করতে পারি?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, পারো।’ (বুখারি ১৫১৩)

পুরুষ কি নারীর বদলি হজ আদায় করতে পারবে?

নারী যেমন পুরুষের বদলি হজ আদায় করতে পারবে, তেমনি পুরুষও নারীর পক্ষ থেকে বদলি হজ আদায় করতে পারবেন। এ বিষয়ে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে—

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، أَنَّ امْرَأَةً مِنْ جُهَيْنَةَ جَاءَتْ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَتْ: إِنَّ أُمِّي نَذَرَتْ أَنْ تَحُجَّ، فَلَمْ تَحُجَّ حَتَّى مَاتَتْ، أَفَأَحُجُّ عَنْهَا؟ قَالَ: نَعَمْ، حُجِّي عَنْهَا، أَرَأَيْتِ لَوْ كَانَ عَلَى أُمِّكِ دَيْنٌ أَكُنْتِ قَاضِيَتَهُ؟ اقْضُوا اللَّهَ، فَاللَّهُ أَحَقُّ بِالْوَفَاءِ

এক নারী বললেন, ‘আমার মা হজ করার মানত করেছিলেন, কিন্তু তা আদায়ের আগেই মারা গেছেন। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ করতে পারি?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘হ্যাঁ, তার পক্ষ থেকে হজ করো। যদি তার কোনো ঋণ থাকত, তুমি কি তা পরিশোধ করতে না? আল্লাহর ঋণ আদায় করো, কারণ আল্লাহই সবচেয়ে বেশি হকদার।’ (বুখারি ১৮৫২)

গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা:

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— কোনও নারী যখন কোনও পুরুষের পক্ষ থেকে বদলি হজ আদায় করবেন, তখনও তার ওপর আবশ্যক হলো মাহরামের সঙ্গে হজের সফরে বের হওয়া। কারণ মাহরাম ছাড়া নারীর জন্য দীর্ঘ সফরে যাওয়া শরিয়তসম্মত নয়।

বদলি হজ ইসলামের একটি দয়ার্দ্র ও বাস্তবমুখী বিধান, যা মানুষের অক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতাকে সম্মান করে। এটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তাআলা বান্দার উপর অসাধ্য কিছু চাপিয়ে দেন না; বরং তাঁর ইবাদতের পথকে সহজ করে দেন। তবে এই বিধান যেন অবহেলার কারণ না হয়—সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও নিজে হজ আদায় করাই মূল দায়িত্ব। আর প্রয়োজনে বদলি হজ সেই দায়িত্ব পূরণের একটি সহায়ক মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হবে।

তথ্যসূত্র: আলবাহরুর রায়েক ৩/৬৯, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৫৭ ও আদ্দুররুল মুখতার ২/৬০৩