ঢাকা ১১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণভোটের রায় না মানলে সরকার অবৈধ: আসিফ মাহমুদ সংবিধান সংস্কার নয়, সংশোধন হয়: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেউ যদি আইন না বুঝে, বারবার তাদের বুঝিয়ে লাভ নেই: পার্থ ৭১ ও ২৪ কে এক সারিতে স্থান দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়: সালাহউদ্দিন আহমদ হরমুজ না খুললে ইরানের সবকিছু গুড়িয়ে দেয়ার হুমকি ট্রাম্পের বিএনপি ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে: গোলাম পরওয়ার লক্ষ্মীপুরে পুলিশের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের হাতাহাতি, ওসিসহ আহত ১০ গুমের সঙ্গে জড়িতরা আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবে না : আইনমন্ত্রী ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে সংসদে আলোচনা চান বিরোধীদলীয় নেতা ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করাই বিচার বিভাগের মূল লক্ষ্য: অ্যাটর্নি জেনারেল

‘রাষ্ট্র সাধারণ চোরের জন্য একরকম আর রাঘববোয়ালদের জন্য আরেক রকম আইন রাখছে’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি বাতিলের বিষয়ে বলেছেন, অধিকতর আলোচনার অজুহাতে আইনটি বাতিল করে পুরোনো ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনবেন না। আইনটিকে আরও শক্তিশালী করতে চাইলে পরবর্তীতে সংসদে সংশোধন আনুন, কিন্তু এই কথা বলে প্রতিষ্ঠানকে (দুদক) পঙ্গু করে রাখবেন না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্টে তাসনিম জারা এমন মন্তব্য করেন।

পোস্টে তাসনিম জারা বলেন, সরকার দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি বাতিল করতে চাইছে। সরকার মূলত দুটি কারণে এই অধ্যাদেশটি বাতিল করতে চাইছে।

প্রথমত, এই অধ্যাদেশে দুদককে প্রাথমিক অনুসন্ধান ছাড়াই অর্থ পাচার বা বড় দুর্নীতির ক্ষেত্রে সরাসরি মামলা বা এজাহার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। সরকার এই ক্ষমতাকে সংবেদনশীল বলছে।

দ্বিতীয়ত, দুদককে দলীয় প্রভাবমুক্ত করার জন্য একটি বর্ধিত ও সম্পূর্ণ স্বাধীন বাছাই কমিটির প্রস্তাব করা হয়েছিল। সরকার বলছে, এটি নিয়ে তাদের আরও নীতিগত সিদ্ধান্ত বা কনসালটেশন প্রয়োজন।

বর্ণিত দুটি বিষয় নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরে তাসনিম জারা বলেন, দেশের কোনো সাধারণ মানুষের একটি মোবাইল ফোন চুরি হলে, তিনি সোজা থানায় গিয়ে সরাসরি এজাহার করতে পারেন। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। সেখানে সরকারের কোনো সংবেদনশীলতা কাজ করে না। কিন্তু যখন দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যায়, ব্যাংক লুট হয়, তখন সরাসরি মামলা করাটি সরকারের কাছে সংবেদনশীল মনে হচ্ছে কেন?

দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর প্রাথমিক অনুসন্ধানের নামে বছরের পর বছর ফাইল আটকে রাখার যে পুরোনো আইনি মারপ্যাঁচ, তা মূলত অপরাধীকে প্রমাণ লোপাট করার এবং বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগই করে দেয় বলে জানান তাসনিম জারা।

তিনি এর সমালোচনা করে বলেন, সরাসরি মামলার ক্ষমতা বাতিল করার অর্থ হলো, রাষ্ট্র সাধারণ চোরের জন্য একরকম আইন রাখছে, আর রাঘববোয়ালদের জন্য রাখছে আরেক রকম!

অ্যান্টি-করাপশন বডিকে হতে হয় সরকারের প্রভাবমুক্ত জানিয়ে পোস্টে তিনি বলেন, এতে তারা সরকারি দলের দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর হতে পারে। অথচ সরকার সেই স্বাধীন বাছাই কমিটির গঠনকেই আটকে দিচ্ছে।

এর অর্থ কী হতে পারে জানিয়ে তাসনিম জারা পোস্টে বলেন, সরকার এমন একটি দুদক চায় যার কমিশনাররা সরকারের নেক নজরের ওপর নির্ভরশীল থাকবেন। আর যে প্রতিষ্ঠান সরকারের দয়ায় গঠিত হয়, সে প্রতিষ্ঠান কখনোই সরকারি দলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে না।

দুদক বিরোধী দল দমন কমিশনে পরিণত হয়েছে জানিয়ে তাসনিম জারা বলেন,বিগত সরকারের আমলে বিএনপি বলেছে যে, দুর্নীতি দমন কমিশন শুধু সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানই নয়, এটি বিরোধী দল দমন কমিশনে পরিণত হয়েছে। দুদকের এই নেতিবাচক রেপুটেশন থেকে বের হয়ে আসার জন্য স্বাধীন বাছাই কমিটির কোনো বিকল্প নেই।

অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দুদককে নখদন্তহীন করে রাখার পুরোনো সংস্কৃতিতে ফিরে যাওয়া কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় শুভবুদ্ধির পরিচায়ক হতে পারে না। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুন।অধিকতর আলোচনার অজুহাতে আইনটি বাতিল করে পুরোনো ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনবেন না। আইনটিকে আরও শক্তিশালী করতে চাইলে পরবর্তীতে সংসদে সংশোধন আনুন, কিন্তু এই কথা বলে প্রতিষ্ঠানকে পঙ্গু করে রাখবেন না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

গণভোটের রায় না মানলে সরকার অবৈধ: আসিফ মাহমুদ

‘রাষ্ট্র সাধারণ চোরের জন্য একরকম আর রাঘববোয়ালদের জন্য আরেক রকম আইন রাখছে’

আপডেট সময় ০৬:২৫:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি বাতিলের বিষয়ে বলেছেন, অধিকতর আলোচনার অজুহাতে আইনটি বাতিল করে পুরোনো ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনবেন না। আইনটিকে আরও শক্তিশালী করতে চাইলে পরবর্তীতে সংসদে সংশোধন আনুন, কিন্তু এই কথা বলে প্রতিষ্ঠানকে (দুদক) পঙ্গু করে রাখবেন না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্টে তাসনিম জারা এমন মন্তব্য করেন।

পোস্টে তাসনিম জারা বলেন, সরকার দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি বাতিল করতে চাইছে। সরকার মূলত দুটি কারণে এই অধ্যাদেশটি বাতিল করতে চাইছে।

প্রথমত, এই অধ্যাদেশে দুদককে প্রাথমিক অনুসন্ধান ছাড়াই অর্থ পাচার বা বড় দুর্নীতির ক্ষেত্রে সরাসরি মামলা বা এজাহার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। সরকার এই ক্ষমতাকে সংবেদনশীল বলছে।

দ্বিতীয়ত, দুদককে দলীয় প্রভাবমুক্ত করার জন্য একটি বর্ধিত ও সম্পূর্ণ স্বাধীন বাছাই কমিটির প্রস্তাব করা হয়েছিল। সরকার বলছে, এটি নিয়ে তাদের আরও নীতিগত সিদ্ধান্ত বা কনসালটেশন প্রয়োজন।

বর্ণিত দুটি বিষয় নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরে তাসনিম জারা বলেন, দেশের কোনো সাধারণ মানুষের একটি মোবাইল ফোন চুরি হলে, তিনি সোজা থানায় গিয়ে সরাসরি এজাহার করতে পারেন। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। সেখানে সরকারের কোনো সংবেদনশীলতা কাজ করে না। কিন্তু যখন দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যায়, ব্যাংক লুট হয়, তখন সরাসরি মামলা করাটি সরকারের কাছে সংবেদনশীল মনে হচ্ছে কেন?

দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর প্রাথমিক অনুসন্ধানের নামে বছরের পর বছর ফাইল আটকে রাখার যে পুরোনো আইনি মারপ্যাঁচ, তা মূলত অপরাধীকে প্রমাণ লোপাট করার এবং বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগই করে দেয় বলে জানান তাসনিম জারা।

তিনি এর সমালোচনা করে বলেন, সরাসরি মামলার ক্ষমতা বাতিল করার অর্থ হলো, রাষ্ট্র সাধারণ চোরের জন্য একরকম আইন রাখছে, আর রাঘববোয়ালদের জন্য রাখছে আরেক রকম!

অ্যান্টি-করাপশন বডিকে হতে হয় সরকারের প্রভাবমুক্ত জানিয়ে পোস্টে তিনি বলেন, এতে তারা সরকারি দলের দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর হতে পারে। অথচ সরকার সেই স্বাধীন বাছাই কমিটির গঠনকেই আটকে দিচ্ছে।

এর অর্থ কী হতে পারে জানিয়ে তাসনিম জারা পোস্টে বলেন, সরকার এমন একটি দুদক চায় যার কমিশনাররা সরকারের নেক নজরের ওপর নির্ভরশীল থাকবেন। আর যে প্রতিষ্ঠান সরকারের দয়ায় গঠিত হয়, সে প্রতিষ্ঠান কখনোই সরকারি দলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে না।

দুদক বিরোধী দল দমন কমিশনে পরিণত হয়েছে জানিয়ে তাসনিম জারা বলেন,বিগত সরকারের আমলে বিএনপি বলেছে যে, দুর্নীতি দমন কমিশন শুধু সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানই নয়, এটি বিরোধী দল দমন কমিশনে পরিণত হয়েছে। দুদকের এই নেতিবাচক রেপুটেশন থেকে বের হয়ে আসার জন্য স্বাধীন বাছাই কমিটির কোনো বিকল্প নেই।

অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দুদককে নখদন্তহীন করে রাখার পুরোনো সংস্কৃতিতে ফিরে যাওয়া কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় শুভবুদ্ধির পরিচায়ক হতে পারে না। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুন।অধিকতর আলোচনার অজুহাতে আইনটি বাতিল করে পুরোনো ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনবেন না। আইনটিকে আরও শক্তিশালী করতে চাইলে পরবর্তীতে সংসদে সংশোধন আনুন, কিন্তু এই কথা বলে প্রতিষ্ঠানকে পঙ্গু করে রাখবেন না।