ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ ভারতের মন্ত্রীর

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

ভারতের কেরালার ক্রীড়ামন্ত্রী ভি. আবদুরাহিমান অভিযোগ করেছেন, আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল এবং লিওনেল মেসিকে ঘিরে নির্ধারিত কেরালা সফর বাতিলের ঘটনায় বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছে রাজ্য সরকার ও আয়োজকরা। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক ও ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বরে কেরালায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়। এই ম্যাচকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল। কেরালার ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক আয়োজন হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আয়োজকদের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক হয় এবং শেষ পর্যন্ত একটি আনুষ্ঠানিক আর্থিক চুক্তিও সম্পন্ন হয়।

তিনি বলেন, এত বড় একটি আন্তর্জাতিক দলকে আনতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন ছিল। দীর্ঘ চেষ্টা ও আলোচনার মাধ্যমে স্পন্সরদের কাছ থেকে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়, যা ছিল পুরো আয়োজনের মূল ভিত্তি। সরকারের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল, যাতে ম্যাচটি সফলভাবে আয়োজন করা যায়।

তবে অভিযোগ অনুযায়ী, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন এবং অগ্রিম অর্থ পরিশোধের পরও আর্জেন্টিনা দল নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কেরালায় আসেনি। এতে আয়োজকদের পাশাপাশি লাখো সমর্থকও হতাশ হয়েছেন। এই ঘটনাকে “বিশ্বাসঘাতকতা” হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “আমরা তাদের ওপর ভরসা করেছিলাম। কিন্তু তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

ভি. আবদুরাহিমান আরও দাবি করেন, আর্জেন্টিনা দলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এই প্রথম নয়। তাদের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্য কয়েকটি দেশের সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে চুক্তি ও অর্থ গ্রহণের পরও নির্ধারিত ম্যাচ আয়োজন করা হয়নি। ফলে বিষয়টি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি ধারাবাহিক প্রবণতার অংশ হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

এ পরিস্থিতিতে কেরালা সরকার বিষয়টি আইনি পথে নেওয়ার কথাও ভাবছে। চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে ক্ষতিপূরণ দাবি এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ চলছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের ক্ষেত্রে আরও কঠোর শর্ত ও নজরদারি আরোপের কথাও উল্লেখ করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ ভারতের মন্ত্রীর

আপডেট সময় ১১:৪৭:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

ভারতের কেরালার ক্রীড়ামন্ত্রী ভি. আবদুরাহিমান অভিযোগ করেছেন, আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল এবং লিওনেল মেসিকে ঘিরে নির্ধারিত কেরালা সফর বাতিলের ঘটনায় বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছে রাজ্য সরকার ও আয়োজকরা। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক ও ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বরে কেরালায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়। এই ম্যাচকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল। কেরালার ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক আয়োজন হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আয়োজকদের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক হয় এবং শেষ পর্যন্ত একটি আনুষ্ঠানিক আর্থিক চুক্তিও সম্পন্ন হয়।

তিনি বলেন, এত বড় একটি আন্তর্জাতিক দলকে আনতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন ছিল। দীর্ঘ চেষ্টা ও আলোচনার মাধ্যমে স্পন্সরদের কাছ থেকে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়, যা ছিল পুরো আয়োজনের মূল ভিত্তি। সরকারের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল, যাতে ম্যাচটি সফলভাবে আয়োজন করা যায়।

তবে অভিযোগ অনুযায়ী, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন এবং অগ্রিম অর্থ পরিশোধের পরও আর্জেন্টিনা দল নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কেরালায় আসেনি। এতে আয়োজকদের পাশাপাশি লাখো সমর্থকও হতাশ হয়েছেন। এই ঘটনাকে “বিশ্বাসঘাতকতা” হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “আমরা তাদের ওপর ভরসা করেছিলাম। কিন্তু তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

ভি. আবদুরাহিমান আরও দাবি করেন, আর্জেন্টিনা দলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এই প্রথম নয়। তাদের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্য কয়েকটি দেশের সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে চুক্তি ও অর্থ গ্রহণের পরও নির্ধারিত ম্যাচ আয়োজন করা হয়নি। ফলে বিষয়টি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি ধারাবাহিক প্রবণতার অংশ হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

এ পরিস্থিতিতে কেরালা সরকার বিষয়টি আইনি পথে নেওয়ার কথাও ভাবছে। চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে ক্ষতিপূরণ দাবি এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ চলছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের ক্ষেত্রে আরও কঠোর শর্ত ও নজরদারি আরোপের কথাও উল্লেখ করেন।