ঢাকা ১১:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এ বাজেট বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন ও জনতুষ্টিমূলক: জিএম কাদের দলীয় প্রভাবমুক্ত ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের নির্দেশ অর্থমন্ত্রীর মানবিক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়ে গেলে আমরা সমৃদ্ধির পথে যাব: অর্থমন্ত্রী ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে পিরোজপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ রাজধানীর ৪ বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দেশের জনগণ আধিপত্যবাদের কাছে মাথানত করেনি, করবে না: গোলাম পরওয়ার ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পেতে পারে ইরান: জেডি ভ্যান্স গুগলে দেখলাম দুর্নীতিতে এক নম্বরে রাজনীতিবিদরা, দুই নম্বরে আমলারা: রুমিন ফারহানা স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল

ব্রেস্ট ক্যান্সার: ঝুঁকি প্রতিরোধে খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ক্যান্সার বিশ্বব্যাপী অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্যঝুঁকি। নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার বা ব্রেস্ট ক্যান্সার সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া ক্যান্সারগুলোর একটি। অনেক ক্ষেত্রে এই রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ সৃষ্টি করে না। ফলে সচেতনতার অভাবে রোগটি দেরিতে ধরা পড়ে। অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে চিকিৎসার সফলতার হার অনেক বেড়ে যায়।

ব্রেস্ট ক্যান্সার কীভাবে হয়:

স্তন মূলত চর্বি, তন্তু ও গ্রন্থিযুক্ত কলা দিয়ে গঠিত। এসব কলার কোষ যখন অস্বাভাবিকভাবে এবং নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, তখন ক্যান্সার তৈরি হয়। স্তনের বিভিন্ন ধরনের কোষ থেকে ক্যান্সার হতে পারে। তবে দুধ উৎপাদনকারী গ্রন্থির কোষে এ রোগ বেশি দেখা যায়।

কারা বেশি ঝুঁকিতে:

ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কিছু মানুষের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি থাকে। যেসব নারীর ৩০ বছর বয়সের পর প্রথম সন্তান হয়েছে, যাদের বয়স বেশি, যারা স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছেন এবং যাদের পরিবারে স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ঝুঁকি বেশি। এ ছাড়া কিছু জিনগত পরিবর্তন এবং দীর্ঘদিন পোস্টমেনোপজাল হরমোনথেরাপি গ্রহণও ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণ:

স্তনের আকার বা আকৃতির পরিবর্তন, স্তনের ভেতরে পিণ্ড বা চাকা অনুভব করা, স্তনের ত্বকে কমলার খোসার মতো গর্ত বা ভাঁজ দেখা দেওয়া, আগে স্বাভাবিক থাকা স্তনবৃন্ত হঠাৎ ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া এবং স্তনের ত্বকের রং পরিবর্তন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণের মধ্যে অন্যতম।

এ ছাড়া স্তনবৃন্ত থেকে দুধ ছাড়া অন্য কোনো তরল নির্গত হওয়া, স্তনে অস্বাভাবিক ব্যথা, স্তনবৃন্তের চারপাশে খসখসে চামড়া বা গাঢ় বর্ণের পরিবর্তনও সতর্কবার্তা হতে পারে।

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়:

রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষা ব্রেস্ট ক্যান্সার নির্ণয়ের প্রথম ধাপ। চিকিৎসক স্তন ও বগলের লিম্ফ নোড পরীক্ষা করেন।

প্রয়োজন অনুযায়ী ম্যামোগ্রাম, স্তনের আলট্রাসাউন্ড এবং বায়োপসি করা হয়। বায়োপসির মাধ্যমে সংগৃহীত টিস্যু পরীক্ষার ফলই ক্যান্সার নিশ্চিত করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।

প্রতিরোধে করণীয়:

ব্রেস্ট ক্যান্সার শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো যায়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্ক্রিনিং, নিজের স্তনের স্বাভাবিক গঠন সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং যে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দ্রুত শনাক্ত করার চেষ্টা করা জরুরি।

লেখক : গাইনি বিশেষজ্ঞ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা।

চেম্বার: আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-পল্লবী শাখা

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এ বাজেট বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন ও জনতুষ্টিমূলক: জিএম কাদের

ব্রেস্ট ক্যান্সার: ঝুঁকি প্রতিরোধে খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা

আপডেট সময় ১১:১৫:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ক্যান্সার বিশ্বব্যাপী অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্যঝুঁকি। নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার বা ব্রেস্ট ক্যান্সার সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া ক্যান্সারগুলোর একটি। অনেক ক্ষেত্রে এই রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ সৃষ্টি করে না। ফলে সচেতনতার অভাবে রোগটি দেরিতে ধরা পড়ে। অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে চিকিৎসার সফলতার হার অনেক বেড়ে যায়।

ব্রেস্ট ক্যান্সার কীভাবে হয়:

স্তন মূলত চর্বি, তন্তু ও গ্রন্থিযুক্ত কলা দিয়ে গঠিত। এসব কলার কোষ যখন অস্বাভাবিকভাবে এবং নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, তখন ক্যান্সার তৈরি হয়। স্তনের বিভিন্ন ধরনের কোষ থেকে ক্যান্সার হতে পারে। তবে দুধ উৎপাদনকারী গ্রন্থির কোষে এ রোগ বেশি দেখা যায়।

কারা বেশি ঝুঁকিতে:

ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কিছু মানুষের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি থাকে। যেসব নারীর ৩০ বছর বয়সের পর প্রথম সন্তান হয়েছে, যাদের বয়স বেশি, যারা স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছেন এবং যাদের পরিবারে স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ঝুঁকি বেশি। এ ছাড়া কিছু জিনগত পরিবর্তন এবং দীর্ঘদিন পোস্টমেনোপজাল হরমোনথেরাপি গ্রহণও ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণ:

স্তনের আকার বা আকৃতির পরিবর্তন, স্তনের ভেতরে পিণ্ড বা চাকা অনুভব করা, স্তনের ত্বকে কমলার খোসার মতো গর্ত বা ভাঁজ দেখা দেওয়া, আগে স্বাভাবিক থাকা স্তনবৃন্ত হঠাৎ ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া এবং স্তনের ত্বকের রং পরিবর্তন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণের মধ্যে অন্যতম।

এ ছাড়া স্তনবৃন্ত থেকে দুধ ছাড়া অন্য কোনো তরল নির্গত হওয়া, স্তনে অস্বাভাবিক ব্যথা, স্তনবৃন্তের চারপাশে খসখসে চামড়া বা গাঢ় বর্ণের পরিবর্তনও সতর্কবার্তা হতে পারে।

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়:

রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষা ব্রেস্ট ক্যান্সার নির্ণয়ের প্রথম ধাপ। চিকিৎসক স্তন ও বগলের লিম্ফ নোড পরীক্ষা করেন।

প্রয়োজন অনুযায়ী ম্যামোগ্রাম, স্তনের আলট্রাসাউন্ড এবং বায়োপসি করা হয়। বায়োপসির মাধ্যমে সংগৃহীত টিস্যু পরীক্ষার ফলই ক্যান্সার নিশ্চিত করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।

প্রতিরোধে করণীয়:

ব্রেস্ট ক্যান্সার শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো যায়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্ক্রিনিং, নিজের স্তনের স্বাভাবিক গঠন সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং যে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দ্রুত শনাক্ত করার চেষ্টা করা জরুরি।

লেখক : গাইনি বিশেষজ্ঞ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা।

চেম্বার: আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-পল্লবী শাখা