ঢাকা ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

বিশ্বের দীর্ঘতম ‘চলন্ত সিঁড়ি’, কী কী সুবিধা এতে?

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

চীনের পাহাড়ি খাড়া পথ বেয়ে ওপরে ওঠা এখন আর কষ্টের কাজ নয়, বরং রীতিমতো বিনোদনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির চংকিং মিউনিসিপ্যালিটির উশান শহরে সম্প্রতি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম আউটডোর এসকেলেটর বা চলন্ত সিঁড়ি। ‘গডেস’ নামের এই বিশাল অবকাঠামোটি দুর্গম পাহাড়ের বুক চিরে যাতায়াত ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।

২১ মিনিটের রোমাঞ্চকর যাত্রা:

পাহাড়ের নিচ থেকে একদম চূড়ায় পৌঁছাতে এই এসকেলেটরে সময় লাগে প্রায় ২১ মিনিট। আধ মাইলেরও বেশি লম্বা এই পথটি মূলত দুই ডজন চলন্ত সিঁড়ি এবং লিফটের একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক। এটি কোনো সাধারণ সিঁড়ি নয়, বরং আধুনিক প্রকৌশলবিদ্যার এক অনন্য নিদর্শন যা খাড়া পাহাড়ের ঢালের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে।

চায়না রেলওয়ে ইরিউয়ান ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের ডিজাইন টিমের প্রধান হুয়াং উই জানান, বর্তমানে চীনে বা বিশ্বের অন্য কোথাও এর সমতুল্য কোনো আউটডোর এসকেলেটর প্রকল্প নেই।

সুইজারল্যান্ডের বিখ্যাত ‘শিন্ডলার গ্রুপ’-এর তৈরি করা এই এসকেলেটরগুলো সাংহাইতে প্রস্তুত করা হয়েছে। চংকিংয়ের মেট্রো সিস্টেমে ১ হাজার ৪০০টিরও বেশি এসকেলেটর সরবরাহ করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই প্রতিষ্ঠানটি এবার পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছে দিল আধুনিক যাতায়াত ব্যবস্থা।

পর্যটন ও স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া:

উদ্বোধনের পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকদের মাঝে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯ হাজার মানুষ এই সুবিধা ব্যবহার করছেন। একমুখী যাত্রার জন্য খরচ হয় মাত্র ০.৪৩ ডলার (প্রায় ৫০ টাকা)। গত বসন্ত উৎসবের ছুটিতে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষ এই এসকেলেটরে চড়ে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন।

৪৪ বছর বয়সি পর্যটক ঝি হংমিন বলেন, পাহাড়ি পথে হাঁটা অত্যন্ত ক্লান্তিকর। এই এসকেলেটরটি আমাদের যাতায়াতকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। বয়স্ক ও শিশুদের জন্য এটি এক বড় আশীর্বাদ।

নগর পরিকল্পনায় নতুন মাইলফলক:

চংকিং শহরটি এমনিতেই তার জটিল ভৌগোলিক গঠনের জন্য পরিচিত। পাহাড়ের গায়ে এমন উদ্ভাবনী পরিবহন ব্যবস্থা প্রমাণ করছে যে, সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে দুর্গম প্রকৃতিকেও মানুষের হাতের মুঠোয় আনা সম্ভব। এই প্রকল্প কেবল যাতায়াত সহজ করেনি, বরং উশান শহরের পর্যটন শিল্পে এক নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশ্বের দীর্ঘতম ‘চলন্ত সিঁড়ি’, কী কী সুবিধা এতে?

আপডেট সময় ০৯:৪০:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

চীনের পাহাড়ি খাড়া পথ বেয়ে ওপরে ওঠা এখন আর কষ্টের কাজ নয়, বরং রীতিমতো বিনোদনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির চংকিং মিউনিসিপ্যালিটির উশান শহরে সম্প্রতি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম আউটডোর এসকেলেটর বা চলন্ত সিঁড়ি। ‘গডেস’ নামের এই বিশাল অবকাঠামোটি দুর্গম পাহাড়ের বুক চিরে যাতায়াত ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।

২১ মিনিটের রোমাঞ্চকর যাত্রা:

পাহাড়ের নিচ থেকে একদম চূড়ায় পৌঁছাতে এই এসকেলেটরে সময় লাগে প্রায় ২১ মিনিট। আধ মাইলেরও বেশি লম্বা এই পথটি মূলত দুই ডজন চলন্ত সিঁড়ি এবং লিফটের একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক। এটি কোনো সাধারণ সিঁড়ি নয়, বরং আধুনিক প্রকৌশলবিদ্যার এক অনন্য নিদর্শন যা খাড়া পাহাড়ের ঢালের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে।

চায়না রেলওয়ে ইরিউয়ান ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের ডিজাইন টিমের প্রধান হুয়াং উই জানান, বর্তমানে চীনে বা বিশ্বের অন্য কোথাও এর সমতুল্য কোনো আউটডোর এসকেলেটর প্রকল্প নেই।

সুইজারল্যান্ডের বিখ্যাত ‘শিন্ডলার গ্রুপ’-এর তৈরি করা এই এসকেলেটরগুলো সাংহাইতে প্রস্তুত করা হয়েছে। চংকিংয়ের মেট্রো সিস্টেমে ১ হাজার ৪০০টিরও বেশি এসকেলেটর সরবরাহ করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই প্রতিষ্ঠানটি এবার পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছে দিল আধুনিক যাতায়াত ব্যবস্থা।

পর্যটন ও স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া:

উদ্বোধনের পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকদের মাঝে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯ হাজার মানুষ এই সুবিধা ব্যবহার করছেন। একমুখী যাত্রার জন্য খরচ হয় মাত্র ০.৪৩ ডলার (প্রায় ৫০ টাকা)। গত বসন্ত উৎসবের ছুটিতে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষ এই এসকেলেটরে চড়ে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন।

৪৪ বছর বয়সি পর্যটক ঝি হংমিন বলেন, পাহাড়ি পথে হাঁটা অত্যন্ত ক্লান্তিকর। এই এসকেলেটরটি আমাদের যাতায়াতকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। বয়স্ক ও শিশুদের জন্য এটি এক বড় আশীর্বাদ।

নগর পরিকল্পনায় নতুন মাইলফলক:

চংকিং শহরটি এমনিতেই তার জটিল ভৌগোলিক গঠনের জন্য পরিচিত। পাহাড়ের গায়ে এমন উদ্ভাবনী পরিবহন ব্যবস্থা প্রমাণ করছে যে, সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে দুর্গম প্রকৃতিকেও মানুষের হাতের মুঠোয় আনা সম্ভব। এই প্রকল্প কেবল যাতায়াত সহজ করেনি, বরং উশান শহরের পর্যটন শিল্পে এক নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে।