ঢাকা ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাহাবুদ্দিনকে গ্রেফতার করতে হবে: নাহিদ ইসলাম পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন মো. সাহাবুদ্দিন ফেসবুক স্ট্যাটাসে ৯ দফার ঘোষক কাদের: ফিমেল জোন যেন ফিমেল উইংয়ের ‘টিএসসি শাখা অফিস’ না হয় ৩০০ এমপিকে হাওড় ঘুরে আসার আহ্বান নাহিদের ভয়াবহ দাবানল : ফ্রান্সে সরানো হলো ৬৩ হাজার মানুষ, স্পেনে জরুরি অবস্থা মোহাম্মদপুরে এসআইয়ের পিঠে ছুরিকাঘাত, লেগেছে ৪৩ সেলাই আসিয়ানকে আরও শক্তিশালী করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ধর্মের নামে যারা বিভক্তি চায়, তারা জাতি ও ঈশ্বরের শত্রু: তথ্যমন্ত্রী স্পিকারের দায়িত্বে কায়সার কামাল বিনিয়োগনির্ভর উৎপাদন ও কর্মসংস্থানই বাংলাদেশের পরবর্তী প্রবৃদ্ধির চাবিকাঠি: তিতুমীর

মাঝ আকাশে বিমানের দরজা খোলার চেষ্টা, যাত্রী বললেন ‘ভূতে ধরেছে’

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মাঝ আকাশে উড়োজাহাজে এক যাত্রীর অস্বাভাবিক আচরণে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অবতরণের ঠিক আগে জরুরি দরজা খোলার চেষ্টা করেন ওই যাত্রী। পরে পুলিশের কাছে তিনি দাবি করেন, ওই সময় নাকি তাকে ‘ভূতে ধরেছিল’।

ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাতে ভারতে। বেঙ্গালুরু থেকে বারাণসীগামী ইন্ডিগোর একটি ফ্লাইট রাত ৮টা ১৫ মিনিটে উড্ডয়ন করে। বিমানে থাকা যাত্রীদের একজন, উত্তরপ্রদেশের মউ জেলার বাসিন্দা মহম্মদ আদনান, উড্ডয়নের প্রায় ১৫ মিনিট পর প্রথমবার জরুরি দরজা খোলার চেষ্টা করেন।

কেবিন ক্রুরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে থামালে তিনি বিষয়টি ‘ভুলবশত’ হয়েছে বলে দাবি করেন। এ সময় সতর্ক করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর কিছু সময় স্বাভাবিক থাকলেও অবতরণের ঠিক আগে আবারও একই চেষ্টা করেন তিনি।

রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে, বারাণসীর লাল বাহাদুর শাস্ত্রী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কয়েক মিনিট আগে, মাটি থেকে প্রায় ৫০০ ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় দ্বিতীয়বার জরুরি দরজার হ্যান্ডেল টানার চেষ্টা করেন আদনান। এতে বিমানে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পাইলট তাৎক্ষণিকভাবে অবতরণ স্থগিত করে বিমানটিকে আকাশে ঘোরাতে থাকেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

নিয়ম অনুযায়ী, অবতরণের পরপরই অভিযুক্ত যাত্রীকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মী ও সিআইএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে পুলিশে সোপর্দ করা হলে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে প্রথমে আদনান জানান, কেন তিনি এমন আচরণ করেছেন তা তার জানা নেই। পরে তিনি দাবি করেন, তার ওপর ‘ভূতের প্রভাব’ ছিল। তবে থানায় নিয়ে জেরা করলে তিনি ভিন্ন কথা বলেন। জানান, গোয়া থেকে ফিরছিলেন এবং যে হ্যান্ডেলটি টানছিলেন সেটি জরুরি দরজার অংশ—তা তিনি জানতেন না।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তার বক্তব্য কতটা সত্য, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাহাবুদ্দিনকে গ্রেফতার করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

মাঝ আকাশে বিমানের দরজা খোলার চেষ্টা, যাত্রী বললেন ‘ভূতে ধরেছে’

আপডেট সময় ০৬:৫১:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মাঝ আকাশে উড়োজাহাজে এক যাত্রীর অস্বাভাবিক আচরণে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অবতরণের ঠিক আগে জরুরি দরজা খোলার চেষ্টা করেন ওই যাত্রী। পরে পুলিশের কাছে তিনি দাবি করেন, ওই সময় নাকি তাকে ‘ভূতে ধরেছিল’।

ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাতে ভারতে। বেঙ্গালুরু থেকে বারাণসীগামী ইন্ডিগোর একটি ফ্লাইট রাত ৮টা ১৫ মিনিটে উড্ডয়ন করে। বিমানে থাকা যাত্রীদের একজন, উত্তরপ্রদেশের মউ জেলার বাসিন্দা মহম্মদ আদনান, উড্ডয়নের প্রায় ১৫ মিনিট পর প্রথমবার জরুরি দরজা খোলার চেষ্টা করেন।

কেবিন ক্রুরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে থামালে তিনি বিষয়টি ‘ভুলবশত’ হয়েছে বলে দাবি করেন। এ সময় সতর্ক করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর কিছু সময় স্বাভাবিক থাকলেও অবতরণের ঠিক আগে আবারও একই চেষ্টা করেন তিনি।

রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে, বারাণসীর লাল বাহাদুর শাস্ত্রী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কয়েক মিনিট আগে, মাটি থেকে প্রায় ৫০০ ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় দ্বিতীয়বার জরুরি দরজার হ্যান্ডেল টানার চেষ্টা করেন আদনান। এতে বিমানে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পাইলট তাৎক্ষণিকভাবে অবতরণ স্থগিত করে বিমানটিকে আকাশে ঘোরাতে থাকেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

নিয়ম অনুযায়ী, অবতরণের পরপরই অভিযুক্ত যাত্রীকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মী ও সিআইএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে পুলিশে সোপর্দ করা হলে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে প্রথমে আদনান জানান, কেন তিনি এমন আচরণ করেছেন তা তার জানা নেই। পরে তিনি দাবি করেন, তার ওপর ‘ভূতের প্রভাব’ ছিল। তবে থানায় নিয়ে জেরা করলে তিনি ভিন্ন কথা বলেন। জানান, গোয়া থেকে ফিরছিলেন এবং যে হ্যান্ডেলটি টানছিলেন সেটি জরুরি দরজার অংশ—তা তিনি জানতেন না।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তার বক্তব্য কতটা সত্য, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে।