ঢাকা ০১:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এ বাজেট বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন ও জনতুষ্টিমূলক: জিএম কাদের দলীয় প্রভাবমুক্ত ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের নির্দেশ অর্থমন্ত্রীর মানবিক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়ে গেলে আমরা সমৃদ্ধির পথে যাব: অর্থমন্ত্রী ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে পিরোজপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ রাজধানীর ৪ বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দেশের জনগণ আধিপত্যবাদের কাছে মাথানত করেনি, করবে না: গোলাম পরওয়ার ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পেতে পারে ইরান: জেডি ভ্যান্স গুগলে দেখলাম দুর্নীতিতে এক নম্বরে রাজনীতিবিদরা, দুই নম্বরে আমলারা: রুমিন ফারহানা স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল

দেশের জার্সিতে ১ বছর কাটিয়ে হামজা বললেন, ‘জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত’

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সাবেক চ্যাম্পিয়ন লেস্টার সিটির তারকা হামজা চোধুরী। দেখতে দেখতে বাংলাদেশের জার্সিতে এক বছর পূর্ণ করেছেন তিনি। এক বছর পর লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করা নিয়ে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ২৮ বছর বয়সী এই তারকা বললেন, ‘এটি আমার জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত।’

ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশের জার্সিতে নিজের এক বছরের মূল্যায়ন করেছেন হামজা। তিনি বলেন, ‘অসাধারণ! সত্যি বলতে, এটি আমার করা সেরা কাজ। এর চেয়ে দারুণ কিছু আমি আর চাইতে পারতাম না। হ্যাঁ, এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করতে না পারার আক্ষেপ তো আছেই। তবে এই কঠিন শিক্ষাগুলো আমাদের আরও শক্তিশালী করবে। সবাই হতাশ, কিন্তু আমি নিশ্চিত, যখন আমরা আমাদের খেলার ভিডিওগুলো আবার দেখব, বুঝতে পারব দল হিসেবে আমরা কতটা উন্নতি করেছি।’

বাংলাদেশের জার্সিতে হামজার অভিষেক হয় গত বছরের মার্চে। এরপর নভেম্বরে ২২ বছর পর ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় পায় বাংলাদেশ। গত ১২ মাসে বাংলাদেশের খেলা ১০টি ম্যাচের ৯টিতেই মাঠে নেমেছেন তিনি। চোটের কারণে নেপালের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে ছিলেন না। তার খেলা সব ম্যাচেই পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন এবং নামের পাশে যোগ করেছেন ৪টি গোলও।

এশিয়ান কাপে খেলার স্বপ্ন পূরণ না হলেও গত এক বছরে বাংলাদেশের অর্জন নেহায়েত কম নয়। ২০০০ সালের পর এই প্রথম বাছাইপর্বে কোনো গ্রুপের তলানিতে থেকে শেষ করেনি বাংলাদেশ। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ যেখানে ১৮১তম, সেখানে ভারত (১৩৬), সিঙ্গাপুর (১৪৭) ও হংকং (১৫৫) বেশ এগিয়ে। তারপরও বাছাইপর্বে কোনো ম্যাচেই বাংলাদেশ এক গোলের বেশি ব্যবধানে হারেনি।

হামজা বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য বড় একটি ধাপ। আমি মনে করি, গত এক বছরে আমরা দল হিসেবে অনেক দূর এগিয়েছি। সিঙ্গাপুরের মতো কোয়ালিফাই করা দলের মাঠে গিয়ে আমরা যে ফুটবল খেলেছি, তা নিয়ে আমাদের গর্ব করা উচিত এবং আশা করি এটি সামনের ক্যাম্পেইনে আমাদের দারুণ কাজে দেবে।’

গত মঙ্গলবার এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলেছে বাংলাদেশ। যেখানে ৩০ হাজারেরও বেশি দর্শকের মধ্যে প্রায় ৬ হাজারই ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশি। মাঠে হামজার প্রতিটি ছোঁয়াই তাদের উল্লাসে মাতিয়ে তুলেছিল। সমর্থকদের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় মুগ্ধ হামজা বলেন, ‘তারা সত্যিই অসাধারণ। আমার মনে হয়, তারা বিশ্বের সেরা সমর্থক। আমরা কোয়ালিফাই করতে পারিনি, ম্যাচটি মূলত সিঙ্গাপুরের উদ্‌যাপনের মঞ্চ ছিল; তারপরও নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ খরচ করে তারা এত বিপুল সংখ্যায় আমাদের সমর্থন দিতে এসেছেন! তাদের এই ঋণ শোধ করার মতো নয়।’

প্রথম বছরের পাঠ চুকিয়ে হামজার চোখ এখন ভবিষ্যতের দিকে। বিশেষ করে আগামী সেপ্টেম্বরে হতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে বেশ আশাবাদী তিনি। তারকা এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘গ্রীষ্মে হয়তো আমরা কিছু প্রীতি ম্যাচ খেলব। এরপর সেপ্টেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আছে, যেখানে আমরা শিরোপা জয়ের প্রত্যাশা করছি। আমাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিজেদের ওপর সেই প্রত্যাশার চাপ তৈরি করেছে। এরপর আমাদের চোখ ২০২৭ সালের ক্যাম্পেইনের দিকে। ইনশাআল্লাহ, পরেরবার আমরা এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে পারব।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এ বাজেট বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন ও জনতুষ্টিমূলক: জিএম কাদের

দেশের জার্সিতে ১ বছর কাটিয়ে হামজা বললেন, ‘জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত’

আপডেট সময় ০৪:৫০:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সাবেক চ্যাম্পিয়ন লেস্টার সিটির তারকা হামজা চোধুরী। দেখতে দেখতে বাংলাদেশের জার্সিতে এক বছর পূর্ণ করেছেন তিনি। এক বছর পর লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করা নিয়ে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ২৮ বছর বয়সী এই তারকা বললেন, ‘এটি আমার জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত।’

ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশের জার্সিতে নিজের এক বছরের মূল্যায়ন করেছেন হামজা। তিনি বলেন, ‘অসাধারণ! সত্যি বলতে, এটি আমার করা সেরা কাজ। এর চেয়ে দারুণ কিছু আমি আর চাইতে পারতাম না। হ্যাঁ, এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করতে না পারার আক্ষেপ তো আছেই। তবে এই কঠিন শিক্ষাগুলো আমাদের আরও শক্তিশালী করবে। সবাই হতাশ, কিন্তু আমি নিশ্চিত, যখন আমরা আমাদের খেলার ভিডিওগুলো আবার দেখব, বুঝতে পারব দল হিসেবে আমরা কতটা উন্নতি করেছি।’

বাংলাদেশের জার্সিতে হামজার অভিষেক হয় গত বছরের মার্চে। এরপর নভেম্বরে ২২ বছর পর ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় পায় বাংলাদেশ। গত ১২ মাসে বাংলাদেশের খেলা ১০টি ম্যাচের ৯টিতেই মাঠে নেমেছেন তিনি। চোটের কারণে নেপালের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে ছিলেন না। তার খেলা সব ম্যাচেই পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন এবং নামের পাশে যোগ করেছেন ৪টি গোলও।

এশিয়ান কাপে খেলার স্বপ্ন পূরণ না হলেও গত এক বছরে বাংলাদেশের অর্জন নেহায়েত কম নয়। ২০০০ সালের পর এই প্রথম বাছাইপর্বে কোনো গ্রুপের তলানিতে থেকে শেষ করেনি বাংলাদেশ। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ যেখানে ১৮১তম, সেখানে ভারত (১৩৬), সিঙ্গাপুর (১৪৭) ও হংকং (১৫৫) বেশ এগিয়ে। তারপরও বাছাইপর্বে কোনো ম্যাচেই বাংলাদেশ এক গোলের বেশি ব্যবধানে হারেনি।

হামজা বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য বড় একটি ধাপ। আমি মনে করি, গত এক বছরে আমরা দল হিসেবে অনেক দূর এগিয়েছি। সিঙ্গাপুরের মতো কোয়ালিফাই করা দলের মাঠে গিয়ে আমরা যে ফুটবল খেলেছি, তা নিয়ে আমাদের গর্ব করা উচিত এবং আশা করি এটি সামনের ক্যাম্পেইনে আমাদের দারুণ কাজে দেবে।’

গত মঙ্গলবার এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলেছে বাংলাদেশ। যেখানে ৩০ হাজারেরও বেশি দর্শকের মধ্যে প্রায় ৬ হাজারই ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশি। মাঠে হামজার প্রতিটি ছোঁয়াই তাদের উল্লাসে মাতিয়ে তুলেছিল। সমর্থকদের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় মুগ্ধ হামজা বলেন, ‘তারা সত্যিই অসাধারণ। আমার মনে হয়, তারা বিশ্বের সেরা সমর্থক। আমরা কোয়ালিফাই করতে পারিনি, ম্যাচটি মূলত সিঙ্গাপুরের উদ্‌যাপনের মঞ্চ ছিল; তারপরও নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ খরচ করে তারা এত বিপুল সংখ্যায় আমাদের সমর্থন দিতে এসেছেন! তাদের এই ঋণ শোধ করার মতো নয়।’

প্রথম বছরের পাঠ চুকিয়ে হামজার চোখ এখন ভবিষ্যতের দিকে। বিশেষ করে আগামী সেপ্টেম্বরে হতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে বেশ আশাবাদী তিনি। তারকা এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘গ্রীষ্মে হয়তো আমরা কিছু প্রীতি ম্যাচ খেলব। এরপর সেপ্টেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আছে, যেখানে আমরা শিরোপা জয়ের প্রত্যাশা করছি। আমাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিজেদের ওপর সেই প্রত্যাশার চাপ তৈরি করেছে। এরপর আমাদের চোখ ২০২৭ সালের ক্যাম্পেইনের দিকে। ইনশাআল্লাহ, পরেরবার আমরা এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে পারব।’