ঢাকা ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

২০ লাখে লিবিয়া নিয়ে শরমিনকে বিক্রি, আরও ১৫ লাখ মুক্তিপণ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে শরমিন মিয়া নামের এক যুবককে ইতালি পাঠানোর নাম করে প্রতারণা করেছে মানবপাচারকারী মানিক মিয়া। ২০ লাখ টাকার চুক্তিতে ওই যুবককে লিবিয়ায় নিয়ে মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

পরে যুবককে আটকে রেখে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে চক্রটি। মুক্তিপণ দিতে অস্বীকার করলে তাকে শারীরিক নির্যাতন চালায় মানবপাচারকারী দালাল চক্রটি। পরে তার পরিবার মানবপাচারকারী চক্রের নিকট তাদের দাবির ১৫ লাখ টাকা পাঠায়। এরপরও তাকে ইতালি না পাঠিয়ে দেশে পাঠিয়ে দেয়।

কয়েক দিন আগে দেশে এসে শরমিন মিয়া এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ আদালতে মানবপাচারকারী ৬ জনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত ভৈরব থানাকে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেনে।

ঘটনার তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ভৈরব থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান।

প্রতারণার শিকার যুবক শরমিন মিয়া জানান, ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মানবপাচারকারী মানিক মিয়ার সহযোগী সামাদ লেংটা তাকে লিবিয়া হয়ে বৈধপথে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে ইতালি পাঠানোর প্রস্তাব দেয়; কিন্তু তার কাছে নগদ ২০ লাখ টাকা না থাকায় ৬ শতাংশ জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলে সামাদ লেংটা বলেন, নগদ টাকা দেওয়ার দরকার নেই। জমি বিক্রি না করে মানবপাচারকারী মানিকের নামে লিখে দিলেই হবে। পরে ইতালি পাঠানোর আশ্বাসে দালাল মানিকের নামে গত ২৮ আগস্ট ২০ লাখ টাকা মূল্যের ৬ শতাংশ জমি লিখে দেয়। পরে তাকে লিবিয়ায় পাঠায়। সেখানে নিয়ে তাকে মাফিয়া চক্রের কাছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয় ঘটনার মূল হোতা মানবপাচারকারী মানিক মিয়া।

পরে তাকে লিবিয়ার অজ্ঞাত ও নির্জন বাসায় নিয়ে জিম্মি করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা দিতে অপারগতা জানালে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। মাফিয়া চক্রের নির্যাতন সইতে না পেরে সে বাড়িতে পরিবারকে ঘটনা জানায়। পরে তার পরিবার বাধ্য হয়ে ১৫ লাখ টাকা জোগাড় করে সামাদ লেংটাকে দিলে মাফিয়া চক্রটি তাকে ইতালি না পাঠিয়ে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে মানিক মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ভৈরব থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আদালতের অভিযোগটি আমি তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছি। এ বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন পাঠাব।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

২০ লাখে লিবিয়া নিয়ে শরমিনকে বিক্রি, আরও ১৫ লাখ মুক্তিপণ

আপডেট সময় ০৯:৪৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে শরমিন মিয়া নামের এক যুবককে ইতালি পাঠানোর নাম করে প্রতারণা করেছে মানবপাচারকারী মানিক মিয়া। ২০ লাখ টাকার চুক্তিতে ওই যুবককে লিবিয়ায় নিয়ে মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

পরে যুবককে আটকে রেখে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে চক্রটি। মুক্তিপণ দিতে অস্বীকার করলে তাকে শারীরিক নির্যাতন চালায় মানবপাচারকারী দালাল চক্রটি। পরে তার পরিবার মানবপাচারকারী চক্রের নিকট তাদের দাবির ১৫ লাখ টাকা পাঠায়। এরপরও তাকে ইতালি না পাঠিয়ে দেশে পাঠিয়ে দেয়।

কয়েক দিন আগে দেশে এসে শরমিন মিয়া এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ আদালতে মানবপাচারকারী ৬ জনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত ভৈরব থানাকে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেনে।

ঘটনার তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ভৈরব থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান।

প্রতারণার শিকার যুবক শরমিন মিয়া জানান, ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মানবপাচারকারী মানিক মিয়ার সহযোগী সামাদ লেংটা তাকে লিবিয়া হয়ে বৈধপথে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে ইতালি পাঠানোর প্রস্তাব দেয়; কিন্তু তার কাছে নগদ ২০ লাখ টাকা না থাকায় ৬ শতাংশ জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলে সামাদ লেংটা বলেন, নগদ টাকা দেওয়ার দরকার নেই। জমি বিক্রি না করে মানবপাচারকারী মানিকের নামে লিখে দিলেই হবে। পরে ইতালি পাঠানোর আশ্বাসে দালাল মানিকের নামে গত ২৮ আগস্ট ২০ লাখ টাকা মূল্যের ৬ শতাংশ জমি লিখে দেয়। পরে তাকে লিবিয়ায় পাঠায়। সেখানে নিয়ে তাকে মাফিয়া চক্রের কাছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয় ঘটনার মূল হোতা মানবপাচারকারী মানিক মিয়া।

পরে তাকে লিবিয়ার অজ্ঞাত ও নির্জন বাসায় নিয়ে জিম্মি করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা দিতে অপারগতা জানালে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। মাফিয়া চক্রের নির্যাতন সইতে না পেরে সে বাড়িতে পরিবারকে ঘটনা জানায়। পরে তার পরিবার বাধ্য হয়ে ১৫ লাখ টাকা জোগাড় করে সামাদ লেংটাকে দিলে মাফিয়া চক্রটি তাকে ইতালি না পাঠিয়ে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে মানিক মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ভৈরব থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আদালতের অভিযোগটি আমি তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছি। এ বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন পাঠাব।