ঢাকা ০৩:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গোপালগঞ্জে বাবাকে গলা কেটে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন চার মন্ত্রীর পরিবর্তন চাইলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পাহাড়খেকোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ‘এরা ফার্মের মুরগি, বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর আসবে’:শিক্ষামন্ত্রী লক্ষণ ভালো নয়, এদের খুঁটির জোর কোথায়?ফেসবুকে জামায়াত আমির গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট ছড়িয়ে দিতে চায় সরকার : জাহেদ উর রহমান ইরানের আরও কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের মেধাবী উদ্যোক্তাদের ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত সহযোগিতা দেবে সরকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রীবাহী দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১০ প্রধানমন্ত্রী হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ঢাবিতে এলেন তারেক রহমান

অনলাইন গেমে আসক্তি, নবম তলা থেকে লাফিয়ে তিন বোনের আত্মহত্যা

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতে। দেশটির উত্তর প্রদেশ রাজ্যের গাজিয়াবাদে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে তিন বোন তাদের নবম তলার বাসা থেকে নিচে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে। তাদের নাম পাখি (১২), প্রাচী (১৪) ও বিশিকা (১৬)। লাফ দেওয়ার আগে তারা হাতে লেখা একটি নোট রেখে গেছে, যেখানে লেখা ছিল, “স্যরি পাপা।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা তিন বোনই অনলাইনে কোরীয় গেমে আসক্ত ছিল। মা–বাবা তাদের মোবাইল ফোন দেওয়া কমিয়ে দিলে গেম খেলা বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে তারা আত্মহত্যা করেছে বলা ধারণা করা হচ্ছে।

গভীর রাতে এই তিন বোন তাদের বাসার বারান্দায় গিয়ে দরজা আটকে দেয় এবং জানালা দিয়ে একে একে লাফিয়ে নিচে পড়ে। তাদের চিৎকার এবং মাটিতে আছড়ে পড়ার শব্দ এতটাই জোরালো ছিল যে, তাদের মা–বাবা, প্রতিবেশী ও গাজিয়াবাদের ‘ভারত সিটি’ আবাসন কমপ্লেক্সের নিরাপত্তারক্ষীদের ঘুম ভেঙে যায়। মা–বাবা যখন বারান্দার দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।

সহকারী পুলিশ কমিশনার অতুল কুমার সিং বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিশ্চিত হই, চেতন কুমারের তিন মেয়ে ভবন থেকে লাফিয়ে মারা গেছে।

বুধবার সকালে দেখা গেছে, তিন মেয়ের নিথর দেহ মাটিতে পড়ে আছে, তাদের মা শোকে চিৎকার করে কাঁদছেন। সেখানে প্রতিবেশীদের ভিড় জমে গেছে।

তিন বোন একটি ‘কোরিয়ান লাভ গেম’-এ এতটাই আসক্ত ছিল যে, তারা ওই গেম ছাড়া অন্য কিছু খুব কমই করত। দুই বছর আগে তারা স্কুলে যাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছিল বলে জানা গেছে।

এদিকে, তদন্ত কর্মকর্তারা তাদের একটি আট পৃষ্ঠার সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। ওই নোটে লেখা ছিল, “এই ডায়েরিতে যা কিছু লেখা আছে, সব পড়ে নিও, কারণ এসবই সত্যি। এখনই পড়ো। আমি সত্যিই দুঃখিত। স্যরি পাপা।”

নোটটির সঙ্গে হাতে আঁকা একটি কান্নার ইমোজি ছিল। পকেট ডায়েরির আট পাতায় লেখা ওই নোটে তাদের গেমিং এবং মোবাইল ব্যবহারের খুঁটিনাটি বিবরণ লেখা ছিল।

তিন বোনের বাবা চেতন কুমার কোরীয় সংস্কৃতির প্রতি মেয়েদের চরম আসক্তির কথা বর্ণনা করেছেন। মা–বাবার মতে, তারা নিজেদের কোরীয় নামও রেখেছিল। মেজ বোন প্রাচী সব বিষয়ে তাদের নেতৃত্ব দিত।

জানা গেছে, কোভিড-১৯ মহামারির সময় তাদের এই গেমিং আসক্তি শুরু হয়। এর পর থেকে তারা স্কুলে অনিয়মিত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা স্কুলে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।

পুলিশের তথ্যমতে, চেতন কুমার দুই বোনকে বিয়ে করেছেন। দুই স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তিনি একসঙ্গে থাকেন। তার সব সন্তানই মেয়ে। লাফ দিয়ে মারা যাওয়া মেয়েদের মধ্যে দু’জন এক স্ত্রীর এবং তৃতীয়জন তাদের সৎবোন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জে বাবাকে গলা কেটে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন

অনলাইন গেমে আসক্তি, নবম তলা থেকে লাফিয়ে তিন বোনের আত্মহত্যা

আপডেট সময় ০৯:৩৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতে। দেশটির উত্তর প্রদেশ রাজ্যের গাজিয়াবাদে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে তিন বোন তাদের নবম তলার বাসা থেকে নিচে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে। তাদের নাম পাখি (১২), প্রাচী (১৪) ও বিশিকা (১৬)। লাফ দেওয়ার আগে তারা হাতে লেখা একটি নোট রেখে গেছে, যেখানে লেখা ছিল, “স্যরি পাপা।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা তিন বোনই অনলাইনে কোরীয় গেমে আসক্ত ছিল। মা–বাবা তাদের মোবাইল ফোন দেওয়া কমিয়ে দিলে গেম খেলা বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে তারা আত্মহত্যা করেছে বলা ধারণা করা হচ্ছে।

গভীর রাতে এই তিন বোন তাদের বাসার বারান্দায় গিয়ে দরজা আটকে দেয় এবং জানালা দিয়ে একে একে লাফিয়ে নিচে পড়ে। তাদের চিৎকার এবং মাটিতে আছড়ে পড়ার শব্দ এতটাই জোরালো ছিল যে, তাদের মা–বাবা, প্রতিবেশী ও গাজিয়াবাদের ‘ভারত সিটি’ আবাসন কমপ্লেক্সের নিরাপত্তারক্ষীদের ঘুম ভেঙে যায়। মা–বাবা যখন বারান্দার দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।

সহকারী পুলিশ কমিশনার অতুল কুমার সিং বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিশ্চিত হই, চেতন কুমারের তিন মেয়ে ভবন থেকে লাফিয়ে মারা গেছে।

বুধবার সকালে দেখা গেছে, তিন মেয়ের নিথর দেহ মাটিতে পড়ে আছে, তাদের মা শোকে চিৎকার করে কাঁদছেন। সেখানে প্রতিবেশীদের ভিড় জমে গেছে।

তিন বোন একটি ‘কোরিয়ান লাভ গেম’-এ এতটাই আসক্ত ছিল যে, তারা ওই গেম ছাড়া অন্য কিছু খুব কমই করত। দুই বছর আগে তারা স্কুলে যাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছিল বলে জানা গেছে।

এদিকে, তদন্ত কর্মকর্তারা তাদের একটি আট পৃষ্ঠার সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। ওই নোটে লেখা ছিল, “এই ডায়েরিতে যা কিছু লেখা আছে, সব পড়ে নিও, কারণ এসবই সত্যি। এখনই পড়ো। আমি সত্যিই দুঃখিত। স্যরি পাপা।”

নোটটির সঙ্গে হাতে আঁকা একটি কান্নার ইমোজি ছিল। পকেট ডায়েরির আট পাতায় লেখা ওই নোটে তাদের গেমিং এবং মোবাইল ব্যবহারের খুঁটিনাটি বিবরণ লেখা ছিল।

তিন বোনের বাবা চেতন কুমার কোরীয় সংস্কৃতির প্রতি মেয়েদের চরম আসক্তির কথা বর্ণনা করেছেন। মা–বাবার মতে, তারা নিজেদের কোরীয় নামও রেখেছিল। মেজ বোন প্রাচী সব বিষয়ে তাদের নেতৃত্ব দিত।

জানা গেছে, কোভিড-১৯ মহামারির সময় তাদের এই গেমিং আসক্তি শুরু হয়। এর পর থেকে তারা স্কুলে অনিয়মিত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা স্কুলে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।

পুলিশের তথ্যমতে, চেতন কুমার দুই বোনকে বিয়ে করেছেন। দুই স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তিনি একসঙ্গে থাকেন। তার সব সন্তানই মেয়ে। লাফ দিয়ে মারা যাওয়া মেয়েদের মধ্যে দু’জন এক স্ত্রীর এবং তৃতীয়জন তাদের সৎবোন।