ঢাকা ১১:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

মিয়ানমারে নির্বাচন চলাকালে জান্তার বিমান হামলায় নিহত ১৭০

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

মিয়ানমারে সামরিক জান্তা নিয়ন্ত্রিত তিন দফার বিতর্কিত নির্বাচন চলাকালীন ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ১৭০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

গত বছরের ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত চলা এই নির্বাচনী প্রচার ও ভোটগ্রহণের সময়কালে জান্তা বাহিনী অন্তত ৪০৮টি আকাশপথে হামলা চালিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দফতর শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) জেনেভায় এক বিবৃতিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক এই নির্বাচনকে ‘সামরিক বাহিনীর সাজানো নাটক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তিনি জানান, সংঘাতকবলিত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বদলে জান্তা বাহিনী নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে গত ২২ জানুয়ারি কাচিন রাজ্যের ভামো টাউনশিপের একটি জনবহুল এলাকায় চালানো বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ প্রায় ৫০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, অনেক নাগরিক জীবননাশের ভয়ে বা জান্তার চাপের মুখে ভোট দিতে বাধ্য হয়েছেন, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের পরিপন্থী।

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সমর্থিত দল ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ (ইউএসডিপি) এই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তবে এই নির্বাচনকে শুরু থেকেই ‘প্রহসন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠী।

অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে (এনএলডি) নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া এবং সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা ও বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ মানুষকে ভোটাধিকার বঞ্চিত করার মাধ্যমে জান্তা তাদের ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মিয়ানমারে জাতিসংঘের মানবাধিকার দলের প্রধান জেমস রোডহ্যাভার জানিয়েছেন, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ১৭০-এর চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এবং জান্তার ভয়ে স্থানীয়রা তথ্য দিতে সাহস না পাওয়ায় হতাহতের পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো অস্পষ্ট।

নির্বাচন পরবর্তী দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে প্রায় ৪ শতাধিক মানুষকে আটক করার খবরও নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘ। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মিয়ানমারে নির্বাচন চলাকালে জান্তার বিমান হামলায় নিহত ১৭০

আপডেট সময় ০২:৩৪:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

মিয়ানমারে সামরিক জান্তা নিয়ন্ত্রিত তিন দফার বিতর্কিত নির্বাচন চলাকালীন ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ১৭০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

গত বছরের ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত চলা এই নির্বাচনী প্রচার ও ভোটগ্রহণের সময়কালে জান্তা বাহিনী অন্তত ৪০৮টি আকাশপথে হামলা চালিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দফতর শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) জেনেভায় এক বিবৃতিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক এই নির্বাচনকে ‘সামরিক বাহিনীর সাজানো নাটক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তিনি জানান, সংঘাতকবলিত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বদলে জান্তা বাহিনী নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে গত ২২ জানুয়ারি কাচিন রাজ্যের ভামো টাউনশিপের একটি জনবহুল এলাকায় চালানো বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ প্রায় ৫০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, অনেক নাগরিক জীবননাশের ভয়ে বা জান্তার চাপের মুখে ভোট দিতে বাধ্য হয়েছেন, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের পরিপন্থী।

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সমর্থিত দল ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ (ইউএসডিপি) এই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তবে এই নির্বাচনকে শুরু থেকেই ‘প্রহসন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠী।

অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে (এনএলডি) নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া এবং সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা ও বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ মানুষকে ভোটাধিকার বঞ্চিত করার মাধ্যমে জান্তা তাদের ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মিয়ানমারে জাতিসংঘের মানবাধিকার দলের প্রধান জেমস রোডহ্যাভার জানিয়েছেন, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ১৭০-এর চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এবং জান্তার ভয়ে স্থানীয়রা তথ্য দিতে সাহস না পাওয়ায় হতাহতের পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো অস্পষ্ট।

নির্বাচন পরবর্তী দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে প্রায় ৪ শতাধিক মানুষকে আটক করার খবরও নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘ। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারে সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।