ঢাকা ১২:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘পেপ্যাল’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী আমরা ভালো হয়ে গেলে দেশও ভালো হয়ে যাবে: শফিকুর রহমান ২৫ এপ্রিল ঢাকায় সমাবেশের ডাক দিল জামায়াত হান্নান মাসউদ, আপনি সরকারি দলে যোগ দিয়েছেন নাকি: স্পিকার ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চলতে দেওয়া হবে না: ছাত্রদল সম্পাদক নাছির ডিআইজিসহ ১৩ পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে তনু হত্যা মামলা: ১০ বছর পর সাবেক সেনাসদস্য গ্রেফতার, ৩ দিনের রিমান্ডে কর জরিপের একটা বড় প্রজেক্ট নিতে চাই: এনবিআর চেয়ারম্যান গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখে গ্রামপুলিশের আত্মহত্যা

জার্মানিতে তেল সরবরাহে বড় ধাক্কা, প্রধান পাইপলাইন বন্ধ করতে যাচ্ছেন পুতিন

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে বড় ধাক্কা দিতে যাচ্ছে রাশিয়া। মস্কো জানিয়েছে, আগামী নয় দিনের মধ্যে জার্মানিমুখী গুরুত্বপূর্ণ দ্রুজবা তেল পাইপলাইন বন্ধ করা হবে। এই পদক্ষেপের ফলে ইউরোপ, বিশেষ করে জার্মানি, বড় ধরনের সরবরাহ সংকটে পড়তে পারে।

এই পাইপলাইন বন্ধ হয়ে গেলে জার্মানিতে কাজাখস্তান থেকে আসা তেল সরবরাহও থেমে যাবে। এমন সময় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যখন ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ ইতোমধ্যেই ব্যাহত এবং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তীব্র।

দ্রুজবা পাইপলাইনের মাধ্যমে জার্মানির পিসিকে (PCK) রিফাইনারি তাদের ব্যবহৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১৭ শতাংশ পায়। এই রিফাইনারি বার্লিনের যানবাহনে ব্যবহৃত জ্বালানির প্রায় ৯০ শতাংশ সরবরাহ করে। এটি বার্লিনের বিমানবন্দরের জন্য বিমান জ্বালানি (জেট ফুয়েল) এবং শহরের ঘরবাড়ি ও শিল্পকারখানার জন্য গরম করার জ্বালানির প্রধান সরবরাহকারী। রিফাইনারিটি বার্লিন থেকে প্রায় ৬০ মাইল উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এবং এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ স্থাপনা।

২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর আগে রিফাইনারিটি রুশ রাষ্ট্রায়ত্ত রোসনেফট-এর নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং রাশিয়ার তেলের ওপর নির্ভরশীল ছিল। পরে জার্মানি সরবরাহের উৎস হিসেবে কাজাখস্তানের দিকে ঝুঁকে পড়ে। কিন্তু ১ মে থেকে ওই তেল প্রবাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে ক্রেমলিন কাজাখস্তান ও জার্মানিকে সতর্ক করেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাবও পড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে উঠে গেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান সতর্ক করেছেন, ইউরোপে জেট জ্বালানির মজুত দুই মাসেরও কম থাকতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনকে অস্ত্র সহায়তা দেওয়া জার্মানির ওপর চাপ বাড়াতেই মস্কো আবারও জ্বালানিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। অতীতে নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন বন্ধের মাধ্যমে এমন চাপের নজিরও রয়েছে।

এদিকে, ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত থাকার পর ইউক্রেন অংশের দ্রুজবা পাইপলাইন দিয়ে আবার তেল প্রবাহ শুরু হয়েছে, যা হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় যায়। এর পরপরই হাঙ্গেরি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউক্রেন ঋণ পরিকল্পনার ওপর দেওয়া ভেটো তুলে নেয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘পেপ্যাল’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

জার্মানিতে তেল সরবরাহে বড় ধাক্কা, প্রধান পাইপলাইন বন্ধ করতে যাচ্ছেন পুতিন

আপডেট সময় ০৯:১২:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে বড় ধাক্কা দিতে যাচ্ছে রাশিয়া। মস্কো জানিয়েছে, আগামী নয় দিনের মধ্যে জার্মানিমুখী গুরুত্বপূর্ণ দ্রুজবা তেল পাইপলাইন বন্ধ করা হবে। এই পদক্ষেপের ফলে ইউরোপ, বিশেষ করে জার্মানি, বড় ধরনের সরবরাহ সংকটে পড়তে পারে।

এই পাইপলাইন বন্ধ হয়ে গেলে জার্মানিতে কাজাখস্তান থেকে আসা তেল সরবরাহও থেমে যাবে। এমন সময় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যখন ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ ইতোমধ্যেই ব্যাহত এবং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তীব্র।

দ্রুজবা পাইপলাইনের মাধ্যমে জার্মানির পিসিকে (PCK) রিফাইনারি তাদের ব্যবহৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১৭ শতাংশ পায়। এই রিফাইনারি বার্লিনের যানবাহনে ব্যবহৃত জ্বালানির প্রায় ৯০ শতাংশ সরবরাহ করে। এটি বার্লিনের বিমানবন্দরের জন্য বিমান জ্বালানি (জেট ফুয়েল) এবং শহরের ঘরবাড়ি ও শিল্পকারখানার জন্য গরম করার জ্বালানির প্রধান সরবরাহকারী। রিফাইনারিটি বার্লিন থেকে প্রায় ৬০ মাইল উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এবং এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ স্থাপনা।

২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর আগে রিফাইনারিটি রুশ রাষ্ট্রায়ত্ত রোসনেফট-এর নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং রাশিয়ার তেলের ওপর নির্ভরশীল ছিল। পরে জার্মানি সরবরাহের উৎস হিসেবে কাজাখস্তানের দিকে ঝুঁকে পড়ে। কিন্তু ১ মে থেকে ওই তেল প্রবাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে ক্রেমলিন কাজাখস্তান ও জার্মানিকে সতর্ক করেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাবও পড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে উঠে গেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান সতর্ক করেছেন, ইউরোপে জেট জ্বালানির মজুত দুই মাসেরও কম থাকতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনকে অস্ত্র সহায়তা দেওয়া জার্মানির ওপর চাপ বাড়াতেই মস্কো আবারও জ্বালানিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। অতীতে নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন বন্ধের মাধ্যমে এমন চাপের নজিরও রয়েছে।

এদিকে, ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত থাকার পর ইউক্রেন অংশের দ্রুজবা পাইপলাইন দিয়ে আবার তেল প্রবাহ শুরু হয়েছে, যা হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় যায়। এর পরপরই হাঙ্গেরি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউক্রেন ঋণ পরিকল্পনার ওপর দেওয়া ভেটো তুলে নেয়।