ঢাকা ১১:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান অবিলম্বে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ প্রতারণা করে অর্থ আদায়, ৫১ হাজার সিমসহ ৫ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশকে অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি বিএনপি নেতার মৃত্যু, অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনা সদস্যকে প্রত্যাহার

পানি বৃদ্ধি অব্যাহত, ইজুলির নিপকো বাঁধ খুলে দিয়েছে অরুনাচল

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

বাংলাদেশে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। মূলত: গঙ্গা-পদ্মা ও ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীতে হঠাৎ করে অতিরিক্ত পানি প্রবাহের কারণে এখানে বন্যা হচ্ছে। আজ শুক্রবার বাংলাদেশের নদীগুলোর ৫৪ স্থানে পানি বেড়েছে এবং ১৬ স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ভারতের আসাম ও অরুনাচল প্রদেশে প্রবল বর্ষণের উপচে পড়া পানির সাথে সেখানকার শতাধিক উপ-নদীর পানি ব্রহ্মপুত্রের নিজ প্রবাহের সাথে যুক্ত হওয়ায় আসামে বেড়েছে বন্যার ব্যাপকতা। এ পানি দ্রুত নেমে আসছে ব্রহ্মপুত্র দিয়ে। এছাড়া অরুনাচল প্রদেশে ইজুলির নিপকো কোম্পানির হাইড্রো ইলেকট্রিক বাধের স্লুইস গেটগুলো খুলে দেয়ায় হাজার হাজার কিউসেক অতিরিক্ত পানি যুক্ত হচ্ছে ব্রহ্মপুত্রে। এ পানিও ধীরে ধীরে নেমে আসছে নিচের দিকে বাংলাদেশে। পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীতে এক সাথে হাজার হাজার কিউসেক অতিরিক্ত পানি পতিত হওয়ায় খুব দ্রুতই এ দুই নদীর কূল উপচে সৃষ্টি করছে বন্যা।

আগামী কয়েকদিন ভারী বর্ষণ না হলেও বৃহ্মপুত্র অববাহিকার বন্যা খুব বেশি উন্নতি হবে না উপর থেকে অতিরিক্ত পানি আসা বন্ধ না হওয়ায়।

তবে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর আগামী দু’দিন পর আবারো ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে। বাংলাদেশে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়ে থাকে ভারতের আসাম, অরুনাচল, মেঘালয় প্রদেশে এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বৃষ্টি হয়। সেখানে বৃষ্টির সাথে পাহাড়-পর্বতের বরফ গলা পানিও যুক্ত হচ্ছে নদীতে। সে কারণে সামনের সপ্তাহেও বন্যার উন্নয়নের সম্ভাবনা নেই।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যার সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। অন্যদিকে গঙ্গা অববাহিকার প্রধান নদী গঙ্গা-পদ্মা আগামী দু’দিন বৃদ্ধি পেতে থাকবে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি হ্রাস পেলেও এর মানে এই নয় যে, এ দুই নদীর দুই ধারের বন্যার উন্নতি হতে শুরু করবে। সুরমা নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল থাকলেও কুশিয়ারা নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে।

গাইবান্ধায় ঘাগট, চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র, বাহারদুরাবাদ, সারিয়াকান্দি, সিরাজগঞ্জে যমুনা, বাঘাবাড়িতে আত্রাই, এলাসিনে ধলেশ্বরী, গোয়ালন্দে পদ্মা, ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ, অমলশীদ, শেওলা ও শেরপুর-সিলেট সীমান্তে কুশিয়ারা, দিরাইয়ে পুরাতন সুরমা এবং জারিয়াজাঞ্জাইলে কংস বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এসব স্থানে পানি সর্বোচ্চ ৬৯ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ইজুলিতে নিপকো করপোরেশনের হাইড্রো ইলেকট্রিক বাঁধের স্লুইগ খোলে দেয়ায় আসামের মানুষও বেশ বিরক্ত বলে ভারতীয় মিডিয়ার খবরে প্রকাশ। তারা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে এ নিয়ে অভিযোগ করেছে। ইজুলির বাঁধটির গেট খুলে দেয়ায় আসামে বন্যা বেড়েছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে বলে পানি বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।তারা বলছেন, হঠাৎ করে গত কয়েকদিন বৃহ্মপুত্র বেসিনের পানি বেড়েছে এবং বন্যায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে গেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পানি বৃদ্ধি অব্যাহত, ইজুলির নিপকো বাঁধ খুলে দিয়েছে অরুনাচল

আপডেট সময় ১১:২৪:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুলাই ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

বাংলাদেশে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। মূলত: গঙ্গা-পদ্মা ও ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীতে হঠাৎ করে অতিরিক্ত পানি প্রবাহের কারণে এখানে বন্যা হচ্ছে। আজ শুক্রবার বাংলাদেশের নদীগুলোর ৫৪ স্থানে পানি বেড়েছে এবং ১৬ স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ভারতের আসাম ও অরুনাচল প্রদেশে প্রবল বর্ষণের উপচে পড়া পানির সাথে সেখানকার শতাধিক উপ-নদীর পানি ব্রহ্মপুত্রের নিজ প্রবাহের সাথে যুক্ত হওয়ায় আসামে বেড়েছে বন্যার ব্যাপকতা। এ পানি দ্রুত নেমে আসছে ব্রহ্মপুত্র দিয়ে। এছাড়া অরুনাচল প্রদেশে ইজুলির নিপকো কোম্পানির হাইড্রো ইলেকট্রিক বাধের স্লুইস গেটগুলো খুলে দেয়ায় হাজার হাজার কিউসেক অতিরিক্ত পানি যুক্ত হচ্ছে ব্রহ্মপুত্রে। এ পানিও ধীরে ধীরে নেমে আসছে নিচের দিকে বাংলাদেশে। পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীতে এক সাথে হাজার হাজার কিউসেক অতিরিক্ত পানি পতিত হওয়ায় খুব দ্রুতই এ দুই নদীর কূল উপচে সৃষ্টি করছে বন্যা।

আগামী কয়েকদিন ভারী বর্ষণ না হলেও বৃহ্মপুত্র অববাহিকার বন্যা খুব বেশি উন্নতি হবে না উপর থেকে অতিরিক্ত পানি আসা বন্ধ না হওয়ায়।

তবে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর আগামী দু’দিন পর আবারো ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে। বাংলাদেশে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়ে থাকে ভারতের আসাম, অরুনাচল, মেঘালয় প্রদেশে এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বৃষ্টি হয়। সেখানে বৃষ্টির সাথে পাহাড়-পর্বতের বরফ গলা পানিও যুক্ত হচ্ছে নদীতে। সে কারণে সামনের সপ্তাহেও বন্যার উন্নয়নের সম্ভাবনা নেই।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যার সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। অন্যদিকে গঙ্গা অববাহিকার প্রধান নদী গঙ্গা-পদ্মা আগামী দু’দিন বৃদ্ধি পেতে থাকবে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি হ্রাস পেলেও এর মানে এই নয় যে, এ দুই নদীর দুই ধারের বন্যার উন্নতি হতে শুরু করবে। সুরমা নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল থাকলেও কুশিয়ারা নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে।

গাইবান্ধায় ঘাগট, চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র, বাহারদুরাবাদ, সারিয়াকান্দি, সিরাজগঞ্জে যমুনা, বাঘাবাড়িতে আত্রাই, এলাসিনে ধলেশ্বরী, গোয়ালন্দে পদ্মা, ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ, অমলশীদ, শেওলা ও শেরপুর-সিলেট সীমান্তে কুশিয়ারা, দিরাইয়ে পুরাতন সুরমা এবং জারিয়াজাঞ্জাইলে কংস বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এসব স্থানে পানি সর্বোচ্চ ৬৯ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ইজুলিতে নিপকো করপোরেশনের হাইড্রো ইলেকট্রিক বাঁধের স্লুইগ খোলে দেয়ায় আসামের মানুষও বেশ বিরক্ত বলে ভারতীয় মিডিয়ার খবরে প্রকাশ। তারা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে এ নিয়ে অভিযোগ করেছে। ইজুলির বাঁধটির গেট খুলে দেয়ায় আসামে বন্যা বেড়েছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে বলে পানি বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।তারা বলছেন, হঠাৎ করে গত কয়েকদিন বৃহ্মপুত্র বেসিনের পানি বেড়েছে এবং বন্যায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে গেছে।