ঢাকা ১১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস বিজয় আমাদের হয়েই গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু আনুষ্ঠানিকতা: নুরুল হক নুর

খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মো. আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে এ উপজেলার মণ্ডপে বরাদ্ধকৃৃত চাল উত্তোলনে প্রতি কেজিতে ১ টাকা ৪০ পয়সা করে ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগে জানা গেছে।

জানা গেছে, এ বছর মির্জাপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নে ২২০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরমধ্যে ১৬৭টি মণ্ডপে সার্বজনিন এবং ৫৩টি মণ্ডপে ব্যক্তিগত পূজা অনৃুষ্ঠিত হয়। সরকার ১৬৭টি সার্বজনীন পূজা মণ্ডপের জন্য ৫শ কেজি করে ৮৩ টান ৫শ কেজি আতপ চাল বরাদ্ধ দেন। আতপ চাল মির্জাপুরে খাওয়ার রিতি না থাকায় মণ্ডপের সভাপতি ও সম্পাদকদ্বয় ব্যবসায়ীদের কাছে ওই চাল বিক্রি করে দেন।

ব্যবসায়ীরা ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকায় প্রতি মণ্ডপের চাল ক্রয় করেন। এভাবে ব্যবসায়ীরা ১শ ৪০টি মণ্ডপের প্রায় ৭০ টন চাল ক্রয় করেন। ব্যবসায়ীরা ক্রয়কৃত ওই চাল খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করতে গেলে খাদ্য গুদামের কর্মকর্তার চাহিদা মত ঘুষ না দেয়ায় কর্মকর্তা চালগুলো আটকিয়ে দেন। পরে ব্যবসায়ীরা তার চাহিদামত প্রতি টনে এক হাজার ৪শ টাকা করে দিয়ে চাল উত্তোলন করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী খাদ্য গুদামের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, খাদ্য গুদাম থেকে ব্যবসায়ীদের চাল উত্তোলন করতে হলে আমার চাহিদামত টাকা দিয়েই উত্তোলন করতে হবে। তা না হলে স্থানীয় সরকার দলীয় নেতাদের দিয়ে আমাকে অন্যত্র বদলি করে দেন।

বুধবার সকাল সোয়া দশটার দিকে খাদ্য ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য আব্দুল মান্নান সিদ্দিকী খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে উত্তেজিত হয়ে প্রতি কেজি চাল উত্তোলনে ১ টাকা ৪০ পয়সা করে কেন নেয়া হয়েছে জানতে চান। পরে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ২৮ জন সদস্য এ ব্যবসার সাথে জড়িত। আমাদের হিসাবে খাদ্যগুদামের কর্মকর্তার নামে প্রতি টনে ১৪শ টাকা করে খরচ দেখানো হয়েছে।

মির্জাপুর খাদ্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সিবার উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তারা কয়েকজন ব্যবসায়ী পুজা মণ্ডপের সভাপতি ও সম্পাদকদের কাছ থেকে প্রায় ৭০ টন চাল ক্রয় করেন। ক্রয়কৃত চাল গুদাম থেকে বের করতে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানকে প্রতি টনে ১ হাজার ৪শ টাকা করে দেয়া হয়েছে। টাকা না দেয়ায় তিনি চাল বের করতে দেননি বলে অভিযোগ করেন। আমরা ২৮ জন ব্যবসায়ী টানা ১০/১২দিন পরিশ্রম করে ক্রয়কৃত চাল অন্যত্র বিক্রি যে টাকা পেয়েছি তাতে একজন দিনমজুরের সমান টাকাও পায়নি। তাছাড়া সরকারি কর্মকর্তা বসে থেকেই হুমকি দিয়ে এতো টাকা নেবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি গোচর হওয়া উচিত।

খাদ্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. হারুন অর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাল উত্তোলনে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কত টাকা নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোন টাকা নেননি। পরে সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিবার উদ্দিন তার উপস্থিতিতেই খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা প্রতি টনে ১৪শ টাকা নিয়েছেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মির্জাপুর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে কথা হলে তিনি এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, কে আমাকে টাকা দিয়েছেন। আমাকে টাকা দিলে আমি টাকা নেব। এখন পর্যন্ত আপনি টাকা পাননি জানতে চাইলে নিরোত্তর থাকেন। তাছাড়া আপনার চাহিদা মত টাকা না দেয়া হলে অন্যত্র বদলি করার বিষয়টি বলেছেন কথাটি কতটুকু সত্য। পরে কিছু সময় নিরব থেকে বলেন, বিষয়টি ওভাবে বলা হয়নি। ব্যবসায়ীরা অন্যায় দাবি করেন বলেই এ কথা বলেছি।

মির্জাপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কনক কান্তি দেবনাথের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদমীনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা

খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় ১১:২৬:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মো. আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে এ উপজেলার মণ্ডপে বরাদ্ধকৃৃত চাল উত্তোলনে প্রতি কেজিতে ১ টাকা ৪০ পয়সা করে ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগে জানা গেছে।

জানা গেছে, এ বছর মির্জাপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নে ২২০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরমধ্যে ১৬৭টি মণ্ডপে সার্বজনিন এবং ৫৩টি মণ্ডপে ব্যক্তিগত পূজা অনৃুষ্ঠিত হয়। সরকার ১৬৭টি সার্বজনীন পূজা মণ্ডপের জন্য ৫শ কেজি করে ৮৩ টান ৫শ কেজি আতপ চাল বরাদ্ধ দেন। আতপ চাল মির্জাপুরে খাওয়ার রিতি না থাকায় মণ্ডপের সভাপতি ও সম্পাদকদ্বয় ব্যবসায়ীদের কাছে ওই চাল বিক্রি করে দেন।

ব্যবসায়ীরা ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকায় প্রতি মণ্ডপের চাল ক্রয় করেন। এভাবে ব্যবসায়ীরা ১শ ৪০টি মণ্ডপের প্রায় ৭০ টন চাল ক্রয় করেন। ব্যবসায়ীরা ক্রয়কৃত ওই চাল খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করতে গেলে খাদ্য গুদামের কর্মকর্তার চাহিদা মত ঘুষ না দেয়ায় কর্মকর্তা চালগুলো আটকিয়ে দেন। পরে ব্যবসায়ীরা তার চাহিদামত প্রতি টনে এক হাজার ৪শ টাকা করে দিয়ে চাল উত্তোলন করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী খাদ্য গুদামের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, খাদ্য গুদাম থেকে ব্যবসায়ীদের চাল উত্তোলন করতে হলে আমার চাহিদামত টাকা দিয়েই উত্তোলন করতে হবে। তা না হলে স্থানীয় সরকার দলীয় নেতাদের দিয়ে আমাকে অন্যত্র বদলি করে দেন।

বুধবার সকাল সোয়া দশটার দিকে খাদ্য ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য আব্দুল মান্নান সিদ্দিকী খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে উত্তেজিত হয়ে প্রতি কেজি চাল উত্তোলনে ১ টাকা ৪০ পয়সা করে কেন নেয়া হয়েছে জানতে চান। পরে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ২৮ জন সদস্য এ ব্যবসার সাথে জড়িত। আমাদের হিসাবে খাদ্যগুদামের কর্মকর্তার নামে প্রতি টনে ১৪শ টাকা করে খরচ দেখানো হয়েছে।

মির্জাপুর খাদ্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সিবার উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তারা কয়েকজন ব্যবসায়ী পুজা মণ্ডপের সভাপতি ও সম্পাদকদের কাছ থেকে প্রায় ৭০ টন চাল ক্রয় করেন। ক্রয়কৃত চাল গুদাম থেকে বের করতে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানকে প্রতি টনে ১ হাজার ৪শ টাকা করে দেয়া হয়েছে। টাকা না দেয়ায় তিনি চাল বের করতে দেননি বলে অভিযোগ করেন। আমরা ২৮ জন ব্যবসায়ী টানা ১০/১২দিন পরিশ্রম করে ক্রয়কৃত চাল অন্যত্র বিক্রি যে টাকা পেয়েছি তাতে একজন দিনমজুরের সমান টাকাও পায়নি। তাছাড়া সরকারি কর্মকর্তা বসে থেকেই হুমকি দিয়ে এতো টাকা নেবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি গোচর হওয়া উচিত।

খাদ্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. হারুন অর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাল উত্তোলনে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কত টাকা নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোন টাকা নেননি। পরে সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিবার উদ্দিন তার উপস্থিতিতেই খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা প্রতি টনে ১৪শ টাকা নিয়েছেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মির্জাপুর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে কথা হলে তিনি এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, কে আমাকে টাকা দিয়েছেন। আমাকে টাকা দিলে আমি টাকা নেব। এখন পর্যন্ত আপনি টাকা পাননি জানতে চাইলে নিরোত্তর থাকেন। তাছাড়া আপনার চাহিদা মত টাকা না দেয়া হলে অন্যত্র বদলি করার বিষয়টি বলেছেন কথাটি কতটুকু সত্য। পরে কিছু সময় নিরব থেকে বলেন, বিষয়টি ওভাবে বলা হয়নি। ব্যবসায়ীরা অন্যায় দাবি করেন বলেই এ কথা বলেছি।

মির্জাপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কনক কান্তি দেবনাথের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদমীনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।