আকাশ বিনোদন ডেস্ক :
কিছুদিন আগেও অনেকটা দা-কুমড়ার মতো ছিল খল অভিনেতা মিশা সওদাগর এবং অভিনেতা-প্রযোজক অনন্ত জলিলের সম্পর্ক। কথার তিরে বিদ্ধ করেছেন একে অপরকে। তাদের কথার যুদ্ধ যেন কিছুতেই থামছিল না। অবশেষে সে যুদ্ধে দাড়ি। সমাঝোতা করে নিয়েছেন দুই অভিনেতা। শুধু তাই নয়, ফের এক সিনেমায় অভিনয়ও করছেন।
শনিবার এফডিসিতে এক মহরত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঘোষণা করা হয় অনন্ত জলিলের নতুন সিনেমার। নাম ‘কিল হিম’। সেই ছবিতেই একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করবেন মিশা সওদাগর। এর আগে দুই অভিনেতাকে নিয়ে রাজধানীর একটি রেস্টুরেন্টে আলোচনায় বসেন পরিচালক-প্রযোজক মোহাম্মদ ইকবাল। সেখানে তিনি অনন্ত ও মিশাকে মিলিয়ে দেন। এরপরই এলো নতুন সিনেমার ঘোষণা।
মহরত থেকে জানা যায়, ‘কিল হিম’ সিনেমাটি পরিচালনা এবং প্রযোজনা করবেন মোহাম্মদ ইকবাল। যদিও মহরত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না মিশা। তবে এ সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেছেন, ‘অসাধারণ অ্যাকশন ধাঁচের গল্পের সিনেমা এটি। ইকবাল খুব কাছের ছোটভাই। ও যখন আমাকে সিনেমার গল্প শোনাল মনে হয়েছিল, এই সিনেমার সঙ্গে আমি না থাকতে পারলে স্পেশাল কিছু মিস করব। এ জন্যই সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হওয়া।’
অন্যদিকে অনন্তর সঙ্গে দ্বন্দ্বের অবসান সম্পর্কে মিশা বলেন, ‘অনন্তরসঙ্গে আমার কখনো খারাপ সর্ম্পক ছিল না। সর্ম্পকের ফাটল সেটাও বলব না। আমি কোনো কিছুই মনে রাখিনি। তার সঙ্গে মনের দূরত্ব ছিল না। ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে হয়তো কিছু কথা বলেছি। অনন্তকে নিয়ে একটি কথাও বলিনি। ও অসম্ভব ভালো একজন মানুষ। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানেও তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে।’
অনন্ত-মিশা দ্বন্দ্বের শুরু যেখান থেকে-
অনন্ত জলিলের ‘দিন: দ্য ডে’ মুক্তির পর মিশা একটি টিভি অনুষ্ঠানে গিয়ে মন্তব্য করেন, এই সিনেমা দিয়ে ইন্ডাস্ট্রির কোনো উপকার হবে না। কারণ, হাতে গোনা কয়েকজন বাদে আর্টিস্টরা-কলাকুশলীরা বেশির ভাই বাইরের। তাছাড়া এই সময়ে এত বাজেটের (শত কোটি) সিনেমা এ দেশে দরকার নেই বলেও মন্তব্য করেন মিশা।
ব্যস, এই মন্তব্য কানে যেতেই ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন অনন্ত এবং তার স্ত্রী বর্ষা। অনন্ত জলিল সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, মিশা সওদাগর বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য কিছুই করেননি। তাকে দিয়ে চলচ্চিত্রের কোনো উপকার হয়নি। তার কোনো ক্ষমতাই নেই। কারণ সে একজন আর্টিস্ট, কোনো প্রযোজক বা ক্রিয়েটিভ ব্যক্তি নয়।’
এছাড়া শিল্পী সমিতি থেকে দেড় শতাধিক শিল্পীর ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার পেছনে মিশার হাত ছিল বলেও মন্তব্য করেন অনন্ত। অভিনেতা প্রশ্ন করেন, মিশা চার বছর শিল্পী সমিতির দায়িত্বে ছিল। সে এই সময়ে কী করেছে শিল্পীদের জন্য। কাউকে কোনো সাহায্য সহযোগিতাই তো করেনি। আমি কয়েক দফায় শিল্পীদের সহায়তা করেছি। তাই মিশার মুখে বড় কথা মানায় না।’
এভাবে বেশ কয়েক দিন ধরে এফডিসিপাড়া গরম ছিল মিশা সওদাগর ও অনন্ত জলিলের কথার যুদ্ধ নিয়ে। সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন অনন্তর স্ত্রী বর্ষাও। তিনিও মিশার সমালোচনা করে সংবাদমাধ্যমে ক্ষোভ ঝাড়েন। অবশেষে সেই বিভেদ ভুলে ফের এক সিনেমায় অনন্ত বর্ষা। এর আগে তারা ‘দিন: দ্য ডে’ এবং ‘মোস্ট ওয়েলকাম টু’সহ একাধিক সিনেমায় তারা একসঙ্গে কাজ করেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















