ঢাকা ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সম্প্রীতি বজায় রেখে নেতাদের রাজনীতি করার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের টাকা ছাপিয়ে ঋণ নয়, প্রাইভেট সেক্টরকে রক্ষা করাই নীতি: অর্থমন্ত্রী ২-৩ বছরের মধ্যে শিক্ষার নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন সম্ভব : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হকারদের পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘ফেলুদা’খ্যাত অভিনেতা বিপ্লব মারা গেছেন আচরণবিধি লঙ্ঘনে শাস্তি পেলেন নাহিদা-শারমিন পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে কাজ করছে সরকার : অর্থমন্ত্রী কুমিল্লায় মহাসড়কের পাশে মিলল কাস্টমস কর্মকর্তার রক্তাক্ত মরদেহ অর্থনীতি মজবুত করতে প্রাণিসম্পদ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী হাজার চেষ্টা করলেও আ.লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির

নিজের বোলারদের ধুয়ে দিলেন মুশফিক

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পচেফস্ট্রুম টেস্ট যেভাবে বাংলাদেশ হেরেছে, তাতে ব্যাটসম্যান-বোলারের উভয়ের দায় দেখা যেতে পারে। মুশফিকও দেখছেন। তবে এই লজ্জার হারে ক্ষোভটা যেন বোলারদের ওপরই ঝাড়লেন বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথাগত উইকেট দেখা যায়নি পচেফস্ট্রুম। টেস্ট শুরুর আগের দিন মুশফিক নিজেও জানিয়েছিলেন উইকেট অনেক শুকনো। সব জেনেও কেন টস জিতে ফিল্ডিং নিলেন? আজ ম্যাচ শেষে এ নিয়ে যে লম্বা উত্তর দিলেন, তাতে বোলারদের ওপর মুশফিকের অনাস্থাই ফুটে উঠল, ‘সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দক্ষিণ আফ্রিকায় এমন উইকেট হবে অনুমান করা কঠিন। যতই ফ্ল্যাট উইকেট হোক, যদি সুবিধা নিতে চান, সেটা প্রথম দুই ঘণ্টায় নিতে হবে। বলতে পারেন না টস জিতে ব্যাটিং নিয়েই ৫০০ রান করতে পারতাম। ঠিকভাবে খেলতে পারলে তৃতীয় দিনে অনেক ভালো রান করতে পারতাম (প্রথম ইনিংসে)। হ্যাঁ, বলতে পারতাম, ফ্ল্যাট উইকেটে ব্যাটিং (শুরুতেই) করতে পারতাম। তবে ফ্ল্যাট উইকেটে আমাদের বোলাররা বোলিং করতে পারবে, এটা কখনোই বিশ্বাস করি না।’

নিজের বোলারদের দিকে সমালোচনার তির ছোড়া মুশফিকের নতুন নয়। তবে আজ রাখঢাক না রেখেই সতীর্থ বোলারদের রীতিমতো ধুয়ে দিলেন অধিনায়ক, ‘ফ্ল্যাট উইকেটে আপনি উইকেট না পান, ঠিক জায়গায় বোলিং তো করতে পারেন। সে জন্যই তো জাতীয় দলে খেলছেন। কিন্তু আপনি এমন নয়। তাহলে আমিও তো ছয়টা বলের মধ্যে দুইটা লাইনে ফেলতে পারতাম। প্রথম ইনিংসে বোলাররা আমাকে অনেক হতাশ করেছে। এক সেশনে উইকেট না পান, রানটা আটকে রাখতে পারেন, যেটা দলকে কাজে দেয়। ৫০০-৫৫০ রানের বোঝা নিয়ে খেলা আর ৩০০-৪০০ রানের বিপক্ষে খেলা দুই রকম ব্যাপার।

শুধু বোলার নয়, ব্যাটসম্যানদেরও দায় আছে। প্রথম ইনিংসে আমরা অনেক পিছিয়ে গিয়েছি। পুরো টেস্টে ব্যাটিং-বোলিংয়ে দুটিই খারাপ করেছি।’
দুই দলের পেসারদের যে বিস্তর পার্থক্য, সেটি তো দেখাই গেল পচেফস্ট্রুমে। প্রসঙ্গটা তুলতেই মুশফিক আবারও কাঠগড়ায় তুললেন তাঁর বোলারদের, ‘যদি আমাদের বোলিং লাইনআপটা দেখেন, তারা ম্যাচও খেলেছে কম। কিন্তু এই অজুহাত আর কত দিন দেব? তারা যদি ভালো না-ই খেলতে পারে, ৫-১০ বছরে নামের পাশে ৫-১০ টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা থাকবে। যদি কেউ ভালো না করে, আমাদের বিকল্প দেখতে হবে। উন্নতিটা নিজেকেই করতে হবে। আপনাকে বারবার কেউ শিখিয়ে দেবে না। গত পাঁচ বছরে ব্যাটসম্যানরা নিজেরা যে উন্নতি করেছে, সেটা বোলাররা করতে পারেনি। দুর্বল বোলিং নিয়ে সব সময়ই ব্যাটিং ইউনিটের ওপর ভরসা করতে পারেন না। নিজের উন্নতির জন্য কোচেরও দরকার নেই। বলছি না দুই দিকে বল সুইং করতে হবে। অন্তত জায়গায় তো বোলিং করতে পারেন। বোলিং ইউনিটের শেখার অনেক কিছু আছে। নিজেদের উদ্যোগটা আগে নিতে হবে। আকুতিটা থাকতে হবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

নিজের বোলারদের ধুয়ে দিলেন মুশফিক

আপডেট সময় ০৮:১২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ অক্টোবর ২০১৭

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পচেফস্ট্রুম টেস্ট যেভাবে বাংলাদেশ হেরেছে, তাতে ব্যাটসম্যান-বোলারের উভয়ের দায় দেখা যেতে পারে। মুশফিকও দেখছেন। তবে এই লজ্জার হারে ক্ষোভটা যেন বোলারদের ওপরই ঝাড়লেন বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথাগত উইকেট দেখা যায়নি পচেফস্ট্রুম। টেস্ট শুরুর আগের দিন মুশফিক নিজেও জানিয়েছিলেন উইকেট অনেক শুকনো। সব জেনেও কেন টস জিতে ফিল্ডিং নিলেন? আজ ম্যাচ শেষে এ নিয়ে যে লম্বা উত্তর দিলেন, তাতে বোলারদের ওপর মুশফিকের অনাস্থাই ফুটে উঠল, ‘সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দক্ষিণ আফ্রিকায় এমন উইকেট হবে অনুমান করা কঠিন। যতই ফ্ল্যাট উইকেট হোক, যদি সুবিধা নিতে চান, সেটা প্রথম দুই ঘণ্টায় নিতে হবে। বলতে পারেন না টস জিতে ব্যাটিং নিয়েই ৫০০ রান করতে পারতাম। ঠিকভাবে খেলতে পারলে তৃতীয় দিনে অনেক ভালো রান করতে পারতাম (প্রথম ইনিংসে)। হ্যাঁ, বলতে পারতাম, ফ্ল্যাট উইকেটে ব্যাটিং (শুরুতেই) করতে পারতাম। তবে ফ্ল্যাট উইকেটে আমাদের বোলাররা বোলিং করতে পারবে, এটা কখনোই বিশ্বাস করি না।’

নিজের বোলারদের দিকে সমালোচনার তির ছোড়া মুশফিকের নতুন নয়। তবে আজ রাখঢাক না রেখেই সতীর্থ বোলারদের রীতিমতো ধুয়ে দিলেন অধিনায়ক, ‘ফ্ল্যাট উইকেটে আপনি উইকেট না পান, ঠিক জায়গায় বোলিং তো করতে পারেন। সে জন্যই তো জাতীয় দলে খেলছেন। কিন্তু আপনি এমন নয়। তাহলে আমিও তো ছয়টা বলের মধ্যে দুইটা লাইনে ফেলতে পারতাম। প্রথম ইনিংসে বোলাররা আমাকে অনেক হতাশ করেছে। এক সেশনে উইকেট না পান, রানটা আটকে রাখতে পারেন, যেটা দলকে কাজে দেয়। ৫০০-৫৫০ রানের বোঝা নিয়ে খেলা আর ৩০০-৪০০ রানের বিপক্ষে খেলা দুই রকম ব্যাপার।

শুধু বোলার নয়, ব্যাটসম্যানদেরও দায় আছে। প্রথম ইনিংসে আমরা অনেক পিছিয়ে গিয়েছি। পুরো টেস্টে ব্যাটিং-বোলিংয়ে দুটিই খারাপ করেছি।’
দুই দলের পেসারদের যে বিস্তর পার্থক্য, সেটি তো দেখাই গেল পচেফস্ট্রুমে। প্রসঙ্গটা তুলতেই মুশফিক আবারও কাঠগড়ায় তুললেন তাঁর বোলারদের, ‘যদি আমাদের বোলিং লাইনআপটা দেখেন, তারা ম্যাচও খেলেছে কম। কিন্তু এই অজুহাত আর কত দিন দেব? তারা যদি ভালো না-ই খেলতে পারে, ৫-১০ বছরে নামের পাশে ৫-১০ টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা থাকবে। যদি কেউ ভালো না করে, আমাদের বিকল্প দেখতে হবে। উন্নতিটা নিজেকেই করতে হবে। আপনাকে বারবার কেউ শিখিয়ে দেবে না। গত পাঁচ বছরে ব্যাটসম্যানরা নিজেরা যে উন্নতি করেছে, সেটা বোলাররা করতে পারেনি। দুর্বল বোলিং নিয়ে সব সময়ই ব্যাটিং ইউনিটের ওপর ভরসা করতে পারেন না। নিজের উন্নতির জন্য কোচেরও দরকার নেই। বলছি না দুই দিকে বল সুইং করতে হবে। অন্তত জায়গায় তো বোলিং করতে পারেন। বোলিং ইউনিটের শেখার অনেক কিছু আছে। নিজেদের উদ্যোগটা আগে নিতে হবে। আকুতিটা থাকতে হবে।’