ঢাকা ১০:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

সাত দিনে ডিমের ডজন ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘এক সপ্তাহ আগে এক ডজন ফার্মের মুরগির লাল ডিম ১৩৫ টাকা দিয়ে কিনেছি। দুঃখের বিষয় হলো আজ বাজারে গিয়ে দেখি এক ডজন ডিমের দাম ১৮০ টাকা। গত সাত দিনে ডজনপ্রতি ৪৫ টাকা বেড়েছে। এই হিসাবে হালিপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ল। আর একটি ডিম কিনলে কমপক্ষে ১৫ টাকা দিতে হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১১ টাকা। এ রকম চলতে থাকলে আমরা চলবো কীভাবে!’ — এভাবেই হতাশার সঙ্গে কথাগুলো বলছিলেন এলিফ্যান্ট রোড এলাকার ক্রেতা আতিকুর রহমান।

আলাপকালে আতিক বলেন, ‘আমি তো কল্পনাও করতে পারিনি যে, এত কম সময়ে এত টাকা হারে ডিমের দাম বাড়বে। এর আগে কখনোই এতটা বাড়তি দাম দেখিনি। সব দোকানদার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে সব কিছুর দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।‘

সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা দোকানে ফার্মের মুরগির লাল ডিম প্রতি পিস ১৪-১৫ টাকা, আর এক হালি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং ডজন ১৬৫ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের সঙ্গে ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের দাম যতটা বেড়েছে, ততটা বাড়ার কথা নয় বলেও স্বীকার করেছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে মুরগির খাদ্যের উপকরণের দাম বেড়ে গেছে। ফলে ডিমের দামও বাড়িয়েছেন পাইকারী ব্যবসায়ীরা।

ফরিদুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, আমাদের দেশে একটা কিছু শুনলেই মানুষ এর পেছনে ছুটে। ডিম ব্যবসায়ীরাও যার কাছ থেকে যত আদায় করে টাকা নিতে পারে, সেই চেষ্টাই চলছে। কোনো পণ্যে এক টাকা বাড়লে ডিম ব্যবসায়ীরাও বাড়িয়ে দেন তাদের মতো করে। মানে যার কাছ থেকে যত নিতে পারে। একটি ডিম ১৫/১৬ টাকা বিক্রি করছে। এক সপ্তাহে লাল ডিম প্রতিটিতে ছয় টাকা বাড়িয়েছে। এ রকম চলতে দেওয়া যাবে না। প্রশাসনের নজরে এসব আসা খুব জরুরি।

খুচরা ব্যবসায়ী আলিফ আখন্দ বলেন, আমাদের কিছু করার নেই। আরতদার বেশি দামে বিক্রি করছে। আমাদেরই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

আলিফ আখন্দ বলেন, পাইকারী দামে ৩/৪ টাকা বেশি দিয়ে প্রতি পিস কিনতে হচ্ছে। এজন্য ক্রেতাদের কাছে ডিমের দাম প্রায় ৪ থেকে ৬ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

মুরগি ব্যবসায়ী সৈকত হোসেন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় আরতদাররা ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়িয়েছেন। মুরগির দাম বেড়ে যাওয়াতে ডিমের দামও বেড়েছে।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মুরগির খাদ্য তৈরির সামগ্রী ভুট্টা ও সয়ামিলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে মুরগির উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এজন্য ডিমের দাম বেড়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

সাত দিনে ডিমের ডজন ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০

আপডেট সময় ০৭:০৮:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘এক সপ্তাহ আগে এক ডজন ফার্মের মুরগির লাল ডিম ১৩৫ টাকা দিয়ে কিনেছি। দুঃখের বিষয় হলো আজ বাজারে গিয়ে দেখি এক ডজন ডিমের দাম ১৮০ টাকা। গত সাত দিনে ডজনপ্রতি ৪৫ টাকা বেড়েছে। এই হিসাবে হালিপ্রতি ১৫ টাকা বাড়ল। আর একটি ডিম কিনলে কমপক্ষে ১৫ টাকা দিতে হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১১ টাকা। এ রকম চলতে থাকলে আমরা চলবো কীভাবে!’ — এভাবেই হতাশার সঙ্গে কথাগুলো বলছিলেন এলিফ্যান্ট রোড এলাকার ক্রেতা আতিকুর রহমান।

আলাপকালে আতিক বলেন, ‘আমি তো কল্পনাও করতে পারিনি যে, এত কম সময়ে এত টাকা হারে ডিমের দাম বাড়বে। এর আগে কখনোই এতটা বাড়তি দাম দেখিনি। সব দোকানদার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে সব কিছুর দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।‘

সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা দোকানে ফার্মের মুরগির লাল ডিম প্রতি পিস ১৪-১৫ টাকা, আর এক হালি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং ডজন ১৬৫ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের সঙ্গে ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের দাম যতটা বেড়েছে, ততটা বাড়ার কথা নয় বলেও স্বীকার করেছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে মুরগির খাদ্যের উপকরণের দাম বেড়ে গেছে। ফলে ডিমের দামও বাড়িয়েছেন পাইকারী ব্যবসায়ীরা।

ফরিদুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, আমাদের দেশে একটা কিছু শুনলেই মানুষ এর পেছনে ছুটে। ডিম ব্যবসায়ীরাও যার কাছ থেকে যত আদায় করে টাকা নিতে পারে, সেই চেষ্টাই চলছে। কোনো পণ্যে এক টাকা বাড়লে ডিম ব্যবসায়ীরাও বাড়িয়ে দেন তাদের মতো করে। মানে যার কাছ থেকে যত নিতে পারে। একটি ডিম ১৫/১৬ টাকা বিক্রি করছে। এক সপ্তাহে লাল ডিম প্রতিটিতে ছয় টাকা বাড়িয়েছে। এ রকম চলতে দেওয়া যাবে না। প্রশাসনের নজরে এসব আসা খুব জরুরি।

খুচরা ব্যবসায়ী আলিফ আখন্দ বলেন, আমাদের কিছু করার নেই। আরতদার বেশি দামে বিক্রি করছে। আমাদেরই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

আলিফ আখন্দ বলেন, পাইকারী দামে ৩/৪ টাকা বেশি দিয়ে প্রতি পিস কিনতে হচ্ছে। এজন্য ক্রেতাদের কাছে ডিমের দাম প্রায় ৪ থেকে ৬ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

মুরগি ব্যবসায়ী সৈকত হোসেন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় আরতদাররা ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়িয়েছেন। মুরগির দাম বেড়ে যাওয়াতে ডিমের দামও বেড়েছে।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মুরগির খাদ্য তৈরির সামগ্রী ভুট্টা ও সয়ামিলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে মুরগির উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এজন্য ডিমের দাম বেড়েছে।