ঢাকা ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ ‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না’ গুম হওয়া পরিবারের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু আন্দোলনের সুফল একটি দলের ঘরে নেওয়ার চেষ্টা বিফলে যাবে : ডা. জাহিদ ঢাকাকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর রাইডার্স খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর চালিকাশক্তি : খন্দকার মোশাররফ

বিয়ের পরেই স্ত্রী-শ্যালিকাকে যৌনপল্লীতে বিক্রি!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বিয়ের কিছুদিন পরেই স্ত্রী-শ্যালিকাকে ভারতে পাচার করে যৌনপল্লীতে বিক্রি করে দিয়েছেন ইউসুফ নামে এক ব্যক্তি। তিনি নারী পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত।

ভারতে নারী পাচারকারী এ চক্রের মূল হোতাসহ চার জনকে এরইমধ্যে গ্রেফতার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) রাতে ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন- রানা আহমেদ, মো. সুমন মিয়া, মো. সাহাবুদ্দীন ও নাইমুর রহমান ওরফে সাগর।

বুধবার (১০ আগস্ট) দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির মানবপাচার প্রতিরোধ ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মো. নজরুল ইসলাম।

জবানবন্দিতে ওই দুই বোন জানান, প্রায় দুই বছর আগে তারা গাজীপুরের শ্রীপুরের একটি কারখানায় কাজ নেন। সেখানে থাকার সময় বড় বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন ইউসুফ, পরে বিয়েও করেন। গতবছর বেশি বেতনে চাকরির কথা বলে ইউসুফ তাদের ভারতের নারী পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করে দেন। ইউসুফ যে নারী পাচারের সঙ্গে জড়িত, বিপদে পড়ার আগে সেটা তারা বুঝতে পারেননি তারা।

বিশেষ পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ৪ মে ঝিনাইদহের মহেশপুরের বাঘাডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ইউসুফ তার স্ত্রী ও শ্যালিকাকে ভারতে পাচার করেন। সেখানে ইউসুফের সহযোগীরা তাদের যৌনপল্লীতে বিক্রি করে দেন। ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের শিকার হন ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের ওই দু’বোন। পরে তারা কৌশলে যৌনপল্লী থেকে পালিয়ে ভারতীয় পুলিশের সহায়তায় এ বছরের ২২ মার্চ দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরলে তাদের বাবা মামলা করেন এবং আদালতে জবানবন্দি দেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ইউসুফকে আগেই গ্রেফতার করে।

তিনি বলেন, সংসার করা ইউসুফের উদ্দেশ্য ছিল না। ভারতে পাচার করার জন্যই তিনি বিয়ে করেন।

নজরুল ইসলাম বলেন, নতুন যে চারজন গ্রেফতার হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। এ চক্রের দেশি-বিদেশি সদস্যদের তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। যারাই এ চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকবে তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ

বিয়ের পরেই স্ত্রী-শ্যালিকাকে যৌনপল্লীতে বিক্রি!

আপডেট সময় ০৬:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বিয়ের কিছুদিন পরেই স্ত্রী-শ্যালিকাকে ভারতে পাচার করে যৌনপল্লীতে বিক্রি করে দিয়েছেন ইউসুফ নামে এক ব্যক্তি। তিনি নারী পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত।

ভারতে নারী পাচারকারী এ চক্রের মূল হোতাসহ চার জনকে এরইমধ্যে গ্রেফতার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) রাতে ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন- রানা আহমেদ, মো. সুমন মিয়া, মো. সাহাবুদ্দীন ও নাইমুর রহমান ওরফে সাগর।

বুধবার (১০ আগস্ট) দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির মানবপাচার প্রতিরোধ ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) মো. নজরুল ইসলাম।

জবানবন্দিতে ওই দুই বোন জানান, প্রায় দুই বছর আগে তারা গাজীপুরের শ্রীপুরের একটি কারখানায় কাজ নেন। সেখানে থাকার সময় বড় বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন ইউসুফ, পরে বিয়েও করেন। গতবছর বেশি বেতনে চাকরির কথা বলে ইউসুফ তাদের ভারতের নারী পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করে দেন। ইউসুফ যে নারী পাচারের সঙ্গে জড়িত, বিপদে পড়ার আগে সেটা তারা বুঝতে পারেননি তারা।

বিশেষ পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ৪ মে ঝিনাইদহের মহেশপুরের বাঘাডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ইউসুফ তার স্ত্রী ও শ্যালিকাকে ভারতে পাচার করেন। সেখানে ইউসুফের সহযোগীরা তাদের যৌনপল্লীতে বিক্রি করে দেন। ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের শিকার হন ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের ওই দু’বোন। পরে তারা কৌশলে যৌনপল্লী থেকে পালিয়ে ভারতীয় পুলিশের সহায়তায় এ বছরের ২২ মার্চ দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরলে তাদের বাবা মামলা করেন এবং আদালতে জবানবন্দি দেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ইউসুফকে আগেই গ্রেফতার করে।

তিনি বলেন, সংসার করা ইউসুফের উদ্দেশ্য ছিল না। ভারতে পাচার করার জন্যই তিনি বিয়ে করেন।

নজরুল ইসলাম বলেন, নতুন যে চারজন গ্রেফতার হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। এ চক্রের দেশি-বিদেশি সদস্যদের তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। যারাই এ চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকবে তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।