ঢাকা ০৩:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

হত্যার পর মেঘনায় ভাসিয়ে দেয়া হয় মিলনের লাশ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বরিশালের হিজলা উপজেলায় গত ৬ মাস পূর্বে পল্লি চিকিৎসক নিখোঁজের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে পল্লি চিকিৎসককে হত্যার পর লাশ নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে বলে আটককৃতরা স্বীকার করেছে পুলিশের কাছে।

হত্যার শিকার পল্লি চিকিৎসক মিলন দপ্তরি (৩০) উপজেলার হরিণাথপুর ইউনিয়নের ছয়গাও গ্রামের আবদুল খালেক দপ্তরির ছেলে।

হত্যার কথা স্বীকার করে পুলিশের কাছে জবানবন্দি দেওয়া আসামিরা হলো- উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের পূর্ব খাগেরচর গ্রামের মৃত আব্দুর রব ঘরামীর ছেলে আব্দুর রশিদ ঘরামী (৬৪) ও তার প্রবাসী ছেলে মনির হোসেনের স্ত্রী রাহেলা বেগম (২৭)।

হিজলা থানার ওসি ইউনুস মিঞা জানান, আব্দুর রশিদ ঘরামী ও তার পুত্রবধূ রাহেলা হত্যার কথা স্বীকার করে পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

আসামিদের স্বীকারোক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে ওসি জানান, পল্লি চিকিৎসক মিলনের সঙ্গে রাহেলা বেগমের বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক হয়। বিষয়টি রাহেলার শ্বশুর রশিদ জেনে ফেলে। পরে রাহেলার মাধ্যমে চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে ফোন করে মিলনকে ঘরে আনে আব্দুর রশিদ।

মিলন ঘরে আসার আগে থেকে আলমারির পেছনে লুকিয়ে থাকা আব্দুর রশিদ এসে মিলনের চোখে মরিচের গুড়া নিক্ষেপ করে। এ সময় মিলন বিষয়টি ভালো করেননি বলে হুমকি দেয় আব্দুর রশিদকে। তখন রশিদ মুগুর (গাব গাছের লাঠি) দিয়ে সজোরে মিলনের বুকে আঘাত করে। এতে মিলন ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে।

একপর্যায়ে আব্দুর রশিদ ও তার পুত্রবধূ বুঝতে পারে মিলনের মৃত্যু হয়েছে। তখন তারা লাশ গুমের পরিকল্পনা করে। মিলনের পা রশি দিয়ে বেঁধে টেনে বাড়ির সামনের খালে ফেলে দেয়। সেখান থেকে টেনে মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে দেয়।

ওসি বলেন, এই ঘটনায় মিলনের ভাই সবুজ দপ্তরি ১ ফেব্রুয়ারি হিজলা থানায় নিখোঁজের জিডি করেছিলেন। জিডির তদন্ত করে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে মিলনের সর্বশেষ অবস্থান জানতে পেরে আব্দুর রশিদ ও তার পুত্রবধূ রাহেলাকে সোমবার রাতে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেন।

তবে লাশের কোনো সন্ধান পাননি জানিয়ে ওসি বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

হত্যার পর মেঘনায় ভাসিয়ে দেয়া হয় মিলনের লাশ

আপডেট সময় ১১:৩২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বরিশালের হিজলা উপজেলায় গত ৬ মাস পূর্বে পল্লি চিকিৎসক নিখোঁজের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে পল্লি চিকিৎসককে হত্যার পর লাশ নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে বলে আটককৃতরা স্বীকার করেছে পুলিশের কাছে।

হত্যার শিকার পল্লি চিকিৎসক মিলন দপ্তরি (৩০) উপজেলার হরিণাথপুর ইউনিয়নের ছয়গাও গ্রামের আবদুল খালেক দপ্তরির ছেলে।

হত্যার কথা স্বীকার করে পুলিশের কাছে জবানবন্দি দেওয়া আসামিরা হলো- উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের পূর্ব খাগেরচর গ্রামের মৃত আব্দুর রব ঘরামীর ছেলে আব্দুর রশিদ ঘরামী (৬৪) ও তার প্রবাসী ছেলে মনির হোসেনের স্ত্রী রাহেলা বেগম (২৭)।

হিজলা থানার ওসি ইউনুস মিঞা জানান, আব্দুর রশিদ ঘরামী ও তার পুত্রবধূ রাহেলা হত্যার কথা স্বীকার করে পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

আসামিদের স্বীকারোক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে ওসি জানান, পল্লি চিকিৎসক মিলনের সঙ্গে রাহেলা বেগমের বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক হয়। বিষয়টি রাহেলার শ্বশুর রশিদ জেনে ফেলে। পরে রাহেলার মাধ্যমে চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে ফোন করে মিলনকে ঘরে আনে আব্দুর রশিদ।

মিলন ঘরে আসার আগে থেকে আলমারির পেছনে লুকিয়ে থাকা আব্দুর রশিদ এসে মিলনের চোখে মরিচের গুড়া নিক্ষেপ করে। এ সময় মিলন বিষয়টি ভালো করেননি বলে হুমকি দেয় আব্দুর রশিদকে। তখন রশিদ মুগুর (গাব গাছের লাঠি) দিয়ে সজোরে মিলনের বুকে আঘাত করে। এতে মিলন ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে।

একপর্যায়ে আব্দুর রশিদ ও তার পুত্রবধূ বুঝতে পারে মিলনের মৃত্যু হয়েছে। তখন তারা লাশ গুমের পরিকল্পনা করে। মিলনের পা রশি দিয়ে বেঁধে টেনে বাড়ির সামনের খালে ফেলে দেয়। সেখান থেকে টেনে মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে দেয়।

ওসি বলেন, এই ঘটনায় মিলনের ভাই সবুজ দপ্তরি ১ ফেব্রুয়ারি হিজলা থানায় নিখোঁজের জিডি করেছিলেন। জিডির তদন্ত করে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে মিলনের সর্বশেষ অবস্থান জানতে পেরে আব্দুর রশিদ ও তার পুত্রবধূ রাহেলাকে সোমবার রাতে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেন।

তবে লাশের কোনো সন্ধান পাননি জানিয়ে ওসি বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা হবে।