আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা বড় ধরনের লৌহ ত্রিভুজে আটকে আছে। এই ত্রিভুজের তিনটি রেখা হলো-এক মাত্রিক উন্নয়নের চিন্তা, স্বার্থভিত্তিক নীতি তৈরি ও বাস্তবায়ন এবং নিম্ন আয়ের মানুষের প্রতি অর্থনৈতিক অবিচার। বড় কোনো ধাক্কা ছাড়া এই ত্রিভুজ ভাঙ্গা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক উপলব্ধি, সদিচ্ছা এবং সিদ্ধান্ত জরুরি।
বেসরকারি গবেষনা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত রোববার এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন। তাদের মতে, মধ্যমেয়াদী অর্থনৈতিক সংকটে দেশ। খুব শিগগিরই এই সংকট কাটছে না। এছাড়াও সরকারের পলিসি গ্রহনের ক্ষেত্রে মানুষের অংশগ্রহন নেই।
সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিংখাত ও আর্থিকখাতে আগে থেকেই বিশৃঙ্খলা ছিল। রাজস্ব আদায় কম। প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় দুর্নীতি ও বেপরোয়া অর্থ পাচার হয়েছে। আর নতুন করে যোগ হয়েছে বৈশ্বিক পরিস্থিতি। এ অবস্থা বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বাড়াতে অর্থ পাচার বন্ধের ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করতে হবে।
সিপিডির কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাবেক তত্তাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা-ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ও অধ্যাপক ম. তামিম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, গবেষনা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এবং ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু।
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, এই মুহুর্তে অর্থনীতিতে সংকট রয়েছে। তবে স্বল্পমেয়াদীভাবে এই সংকট মোকাবেলার চিন্তা করলে হবে না। এজন্য সংকটের নেপথ্যে যেতে হবে।
তিনি বলেন, কোনো ধরনের রাগ-ঢাক না করে পরিস্কারভাবে একটি জিনিষ দেখানো দরকার। আমার দৃষ্টিতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা লৌহ ত্রিভুজে আটকে আছে। এই ত্রিভুজের প্রথম অংশটি হলো একমাত্রিক উন্নয়ন দর্শন। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে এক মাত্রিক উন্নয়ন দর্শনে আটকে গেছে দেশ। দ্বিতীয়ত স্বার্থের দ্বন্দ্বভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা। প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা দেখছি, আইনগতভাবে অনিয়ম তৈরি করা হচ্ছে। এরমধ্যে বিদ্যুৎখাত অন্যতম। অর্থাৎ সেখানে যাদের স্বার্থ আছে, সেখানে তাদেরকে যুক্ত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে, সাময়িক সময়ের জন্য কুইক রেন্টার তৈরি করা হয়েছিল। সেটি কেন দীর্ঘমেয়াদী করা হলো তা ভাবা দরকার। অর্থনৈতিক দিক থেকে এর কোনো ব্যাখা নেই। দ্বিতীয়ত পরিবহনখাত। কেন বছরের পর বছর বিআরটিএ’কে অচল করে রাখা হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তায় দীর্ঘদিন থেকে অব্যবস্থাপনা। মন্ত্রীদের সম্পৃক্ততায় এখাতের জন্য ১০১টি সুপারিশ তৈরি করা হয়েছে। এগুলো- বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
তৃতীয়ত সমস্যা রয়েছে ব্যাংক ও আর্থিকখাতে। এরপরে রয়েছে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প। সামগ্রিকভাবে এসব অবিচারের খড়ক জনগনের উপর পড়ছে। তিনি বলেন, বড় কোনো ধাক্কা ছাড়া এই ত্রিভুজ ভাঙ্গা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক উপলব্দি, সদিচ্ছা এবং সিদ্ধান্ত জরুরি।
ড. হোসেন জিল্লুর বলেন, আর এক্ষেত্রে শুধু সামষ্টিক অর্থনীতি নয়, এর সঙ্গে বেষ্টিক অর্থনীতি ও মধ্যমেয়াদী সংস্কার যোগ করতে হবে।
তিনি বলেন, করোনার ধাক্কা এখনও আমরা সামলে উঠতে পারিনি। আর বেষ্টিক বা ক্ষুদ্র পর্যায়ে অবিচারের একটি বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তিনটি জায়গায় এই অবিচারের ফলাফল দেখা গেছে। এর একটি হলো নতুন দরিদ্র। বিভিন্ন কর্মসূচীর পরেও ৩ কোটি মানুষ নতুন দরিদ্রের আওতায় পড়েছে। দ্বিতীয়ত পুষ্টিহীনতা ও শিক্ষা থেকে মানুষ ঝড়ে পড়ছে। তৃতীয়ত যে ধরনের অর্থনৈতিক পলিসি নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, তাতে কর্মসংস্থান সংকট সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের চাহিদা পূরণে কতটা আগাচ্ছি তা দেখতে হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















