ঢাকা ১১:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমার বাবাকে মিথ্যা মামলায় হত্যা করা হয়, সে কারণেই আমি আজ সংসদে ১৮ মাস যে আরামে ছিলেন, সে আরাম এখন হচ্ছে না: বিরোধী দলকে প্রতিমন্ত্রী জামায়াতের এমপিকে মসজিদে হত্যাচেষ্টা, সংসদে চাইলেন নিরাপত্তা গাইবান্ধায় বজ্রপাতে শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কার্যক্রম চলছে : সেতুমন্ত্রী সচিবালয়ে ২১ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়নি একনেক আত্মঘাতী হামলায় মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত এসি রুমে বসে জনগণের সমস্যা বোঝা যায় না: সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল করে সংসদে বিল পাস বাসা থেকে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, চিরকুটে পাওয়া গেল শিক্ষকের নাম

স্বামীকে হত্যার পর ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখে স্ত্রী!

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার স্বামী জাকির হোসেন বিপুকে (৪০) হত্যার পর শয়ন ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার তিন দিন পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। উপজেলার নাড়ুয়ামালা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ শুক্রবার রাত ১০টায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। নিহত জাকির হোসেন বগুড়া শহরের খান্দার বিলপাড়া এলাকার মৃত শাজাহান আলীর ছেলে।

পুলিশ এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বানু আকতারকে গ্রেপ্তার করেছে। বানু একই ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত শমশের আলীর মেয়ে।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় নয় বছর আগে বগুড়া শহরের খান্দার বিলপাড়া এলাকায় মায়ের সঙ্গে ভাড়া থাকা অবস্থায় বাহাদুর পুর গ্রামের মৃত শমশের আলীর মেয়ে বানু আকতারের সাথে জাকিরের পরিচয় হয়। সেই থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তাদের বিয়ে হয়।

হত্যায় দায় স্বীকার করে বানু আকতার পুলিশকে জানান, গত বুধবার রাতের খাবার শেষে জাকির যখন ঘুমিয়ে পড়েন, তখন বানু আকতার ইসুবগুলের শরবতের সাথে ৫/৬টি ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে জাকিরকে ঘুম থেকে ডেকে পান করায়। জাকিরের আগে থেকেই ঘুমের ঔষধ ও ইসুবগুলের শরবত খাওয়ার অভ্যাস ছিল। রাত একটায় ঘুমে অচেতন স্বামী জাকিরকে বানু আকতার লোহার পাইপ দিয়ে নাক, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি নির্যাতন করেও যখন মৃত্যু হচ্ছিল না, তখন গামছা দিয়ে স্বামী জাকিরের গলায় ফাঁস লাগিয়ে নাক-মুখ চেপে ধরে হত্যা নিশ্চিত করে। এর পর শয়ন ঘরের বিছানা থেকে লাশ টেনে খাটের নিচে মেঝেতে গর্ত করে পুঁতে রাখে। পরে মাটির প্রলেপ দিয়ে ঘরের মেঝে স্বাভাবিক অবস্থায় রেখে ঘর তালাবন্ধ করে রাখে। বড় মেয়েকে অন্যত্র পাঠিয়ে বানু আকতার স্বামীকে হত্যার পর থেকে ২৩ মাসের সন্তানকে নিয়ে পাশের ঘরে রাত্রিযাপন করতে থাকে। বাড়িতে বানু আকতার একা থাকার কারণে দুই দিন সে বাড়ির বাইরে বের হয়নি। তৃতীয়দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘর থেকে পঁচা দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে বানু আকতার নিজেই গ্রামের লোকজনকে সংবাদ দেয়। স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ মাটি খুড়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে।

গাবতলী মডেল থানার ওসি খায়রুল বাসার জানান, জাকিরের মা জাকিয়া সুলতানা বাদী হয়ে পুত্রবধূ বানু আকতারসহ ৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। তিনি জানান, বানু আকতারের একার পক্ষে হত্যা করা সম্ভব নয়। এর সাথে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরকেও খুঁজে বের করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

স্বামীকে হত্যার পর ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখে স্ত্রী!

আপডেট সময় ১২:০০:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার স্বামী জাকির হোসেন বিপুকে (৪০) হত্যার পর শয়ন ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার তিন দিন পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। উপজেলার নাড়ুয়ামালা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ শুক্রবার রাত ১০টায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। নিহত জাকির হোসেন বগুড়া শহরের খান্দার বিলপাড়া এলাকার মৃত শাজাহান আলীর ছেলে।

পুলিশ এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বানু আকতারকে গ্রেপ্তার করেছে। বানু একই ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত শমশের আলীর মেয়ে।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় নয় বছর আগে বগুড়া শহরের খান্দার বিলপাড়া এলাকায় মায়ের সঙ্গে ভাড়া থাকা অবস্থায় বাহাদুর পুর গ্রামের মৃত শমশের আলীর মেয়ে বানু আকতারের সাথে জাকিরের পরিচয় হয়। সেই থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তাদের বিয়ে হয়।

হত্যায় দায় স্বীকার করে বানু আকতার পুলিশকে জানান, গত বুধবার রাতের খাবার শেষে জাকির যখন ঘুমিয়ে পড়েন, তখন বানু আকতার ইসুবগুলের শরবতের সাথে ৫/৬টি ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে জাকিরকে ঘুম থেকে ডেকে পান করায়। জাকিরের আগে থেকেই ঘুমের ঔষধ ও ইসুবগুলের শরবত খাওয়ার অভ্যাস ছিল। রাত একটায় ঘুমে অচেতন স্বামী জাকিরকে বানু আকতার লোহার পাইপ দিয়ে নাক, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি নির্যাতন করেও যখন মৃত্যু হচ্ছিল না, তখন গামছা দিয়ে স্বামী জাকিরের গলায় ফাঁস লাগিয়ে নাক-মুখ চেপে ধরে হত্যা নিশ্চিত করে। এর পর শয়ন ঘরের বিছানা থেকে লাশ টেনে খাটের নিচে মেঝেতে গর্ত করে পুঁতে রাখে। পরে মাটির প্রলেপ দিয়ে ঘরের মেঝে স্বাভাবিক অবস্থায় রেখে ঘর তালাবন্ধ করে রাখে। বড় মেয়েকে অন্যত্র পাঠিয়ে বানু আকতার স্বামীকে হত্যার পর থেকে ২৩ মাসের সন্তানকে নিয়ে পাশের ঘরে রাত্রিযাপন করতে থাকে। বাড়িতে বানু আকতার একা থাকার কারণে দুই দিন সে বাড়ির বাইরে বের হয়নি। তৃতীয়দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘর থেকে পঁচা দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে বানু আকতার নিজেই গ্রামের লোকজনকে সংবাদ দেয়। স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ মাটি খুড়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে।

গাবতলী মডেল থানার ওসি খায়রুল বাসার জানান, জাকিরের মা জাকিয়া সুলতানা বাদী হয়ে পুত্রবধূ বানু আকতারসহ ৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। তিনি জানান, বানু আকতারের একার পক্ষে হত্যা করা সম্ভব নয়। এর সাথে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরকেও খুঁজে বের করা হবে।