ঢাকা ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

‘শেখ হাসিনার ছবির নিচে ঘুমিয়ে থাকি, উনিও এ ঘরে থাকেন’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

‘কামাই নাই, ঘরে কাওয়ান নাই, তেও তো ভ্যারাইটা ব্যাটা এইতা হুনতো না, খালি ট্যাহার লাইগ্যা ঘ্যানর-ঘ্যানর করতো, হেই দিনডা কতো যে কষ্টের ছিল। আনহেরে হেডা ক্যামনে বুঝাইয়াম। তহন কষ্টে বুকটা ফাইট্টা যাইতো গা। বেটাও ঘরে অসুখ, হের লাইগ্যাও ঘর থেকে বের হতে পারতাম না। যহন তহন কইতো বার হইয়্যা যা, জাগা-বাসা নাই কই যায়াম, কথা হুইন্যাও থাকত্যাম— এভাবেই কষ্টের দিনলিপি তুলে ধরেন আয়মনা (৬০)।

তিনি জালাল উদ্দিনের স্ত্রী। পেয়েছেন ভূমিহীন-ঘরহীন তালিকায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ঘর ও জমি। ঠাঁই মিলেছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের তাঁতকুড়া গ্রামে।

আয়মনা জানান, এক মেয়ে রাহেলা খাতুনকে বিয়ে দিয়েছেন। মাত্র ৫ শতাংশ জমি ছিল তাদের। ছেলে সন্তান নেই। তার স্বামী জালাল উদ্দিন পায়ের রগে সমস্যা হয়। সেই জমিটুকু বিক্রি করে স্বামীর চিকিৎসা করান। ভূমিহীন-ঘরহীন আয়মনা অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে এ ইউনিয়নের লেবুর মোড় এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। রাস্তার পাশে দোকান দিয়ে স্বামীর চিকিৎসা ও নিজের জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। ভাড়া দিতে না পারায় প্রতিদিনেই নানা কটু কথা শুনতে হতো। সেই দিনের অবসান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, শেখের বেটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হলো আমাদের আম্মা। উনার (শেখ হাসিনা) ছবি আমার বিছানার ওপরে রেখে দিয়েছি। শেখ হাসিনার ছবির নিচে আমি ঘুমিয়ে থাকি। উনিও এ ঘরে থাকেন।

তার স্বামী জালাল উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘরে উঠেছি প্রায় দেড় বছর হলো, সঙ্গেই মুদি দোকান দিয়েছি; যা আয় হয়, তাই দিয়ে চলছি আমরা বুড়াবুড়ি। তবে গৌরীপুরের ইউএনও স্যার হাসান মারুফও আমাদের খোঁজখবর নেন। ঈদের সময় খাদ্যসামগ্রী দিয়েছিলেন।

আয়মনার পাশের ঘরে থাকেন আমজত আলী (৭০)। তার ছেলে সোহেল মিয়া ও পুত্রবধূ কল্পনা আক্তারও তাদের সঙ্গে থাকেন। দুই নাতি ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী সোহানা আক্তার ও প্রথম শ্রেণির ছাত্রী সুমি আক্তারকে নিয়ে তাদের সংসার।

আমজত আলী বলেন, আমার মাথায় যত চুল আছে, প্রধানমন্ত্রী যেন তত বছর সুস্থভাবে বেঁচে থাকেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর দু’হাত তুলে উনার জন্য মোনাজাত করি। সুখেই আছেন আমজত আলীর ঘরের পাশে ঠাঁই পাওয়া সাহেরা খাতুন আর আব্দুল হেলিমের পরিবার।

তাদের প্রসঙ্গে ডৌহাখলা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, মানবতার জননী জননেত্রী শেখ হাসিনা ভূমিহীন-ঠিকানাহীন মানুষদের আশ্রয় দিয়ে পৃথিবীতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের হাতে ঘরের চাবি এবং দলিল হস্তান্তর করবেন। এ নিয়ে উপজেলার ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামে চলছে উল্লাস।

এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ।

তিনি বলেন, এ উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের তৃতীয় পর্যাযের দ্বিতীয় ধাপে ৭টি পরিবারকে জমি ও ঘর দেওয়া হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একযোগে সারা দেশে সুবিধাভোগীদের মাঝে এসব ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হবে।

তিনি আরও জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ‘বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনায় এ উপজেলার এ পর্যন্ত ১৬২টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে ঘর ও জমি প্রদান করা হয়েছে। এবারের ৭টিসহ মোট ১৬৯টি পরিবার ঘর পেয়েছে। এছাড়া উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের ব্যারাকে ২৫টি পরিবার ও অচিন্তপুর ইউনিয়নের শাহগঞ্জে ব্যারাকে ১০টি পরিবারকে আবাসন দেওয়া হয়েছে। সবমিলে ২০৪টি পরিবার স্বপ্নের ঠিকানায় ঠাঁই পেয়েছে।

উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোসা. নিকহাত আরা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহেল রানা পাপ্পু, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. সালাহ উদ্দিন সোহেল, উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী (এলজিইডি) সুলতান মাহমুদ প্রমুখ।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. সালাহ উদ্দিন সোহেল জানান, প্রত্যেকটি গৃহে স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

‘শেখ হাসিনার ছবির নিচে ঘুমিয়ে থাকি, উনিও এ ঘরে থাকেন’

আপডেট সময় ০৮:২২:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ জুলাই ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

‘কামাই নাই, ঘরে কাওয়ান নাই, তেও তো ভ্যারাইটা ব্যাটা এইতা হুনতো না, খালি ট্যাহার লাইগ্যা ঘ্যানর-ঘ্যানর করতো, হেই দিনডা কতো যে কষ্টের ছিল। আনহেরে হেডা ক্যামনে বুঝাইয়াম। তহন কষ্টে বুকটা ফাইট্টা যাইতো গা। বেটাও ঘরে অসুখ, হের লাইগ্যাও ঘর থেকে বের হতে পারতাম না। যহন তহন কইতো বার হইয়্যা যা, জাগা-বাসা নাই কই যায়াম, কথা হুইন্যাও থাকত্যাম— এভাবেই কষ্টের দিনলিপি তুলে ধরেন আয়মনা (৬০)।

তিনি জালাল উদ্দিনের স্ত্রী। পেয়েছেন ভূমিহীন-ঘরহীন তালিকায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ঘর ও জমি। ঠাঁই মিলেছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের তাঁতকুড়া গ্রামে।

আয়মনা জানান, এক মেয়ে রাহেলা খাতুনকে বিয়ে দিয়েছেন। মাত্র ৫ শতাংশ জমি ছিল তাদের। ছেলে সন্তান নেই। তার স্বামী জালাল উদ্দিন পায়ের রগে সমস্যা হয়। সেই জমিটুকু বিক্রি করে স্বামীর চিকিৎসা করান। ভূমিহীন-ঘরহীন আয়মনা অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে এ ইউনিয়নের লেবুর মোড় এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। রাস্তার পাশে দোকান দিয়ে স্বামীর চিকিৎসা ও নিজের জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। ভাড়া দিতে না পারায় প্রতিদিনেই নানা কটু কথা শুনতে হতো। সেই দিনের অবসান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, শেখের বেটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হলো আমাদের আম্মা। উনার (শেখ হাসিনা) ছবি আমার বিছানার ওপরে রেখে দিয়েছি। শেখ হাসিনার ছবির নিচে আমি ঘুমিয়ে থাকি। উনিও এ ঘরে থাকেন।

তার স্বামী জালাল উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘরে উঠেছি প্রায় দেড় বছর হলো, সঙ্গেই মুদি দোকান দিয়েছি; যা আয় হয়, তাই দিয়ে চলছি আমরা বুড়াবুড়ি। তবে গৌরীপুরের ইউএনও স্যার হাসান মারুফও আমাদের খোঁজখবর নেন। ঈদের সময় খাদ্যসামগ্রী দিয়েছিলেন।

আয়মনার পাশের ঘরে থাকেন আমজত আলী (৭০)। তার ছেলে সোহেল মিয়া ও পুত্রবধূ কল্পনা আক্তারও তাদের সঙ্গে থাকেন। দুই নাতি ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী সোহানা আক্তার ও প্রথম শ্রেণির ছাত্রী সুমি আক্তারকে নিয়ে তাদের সংসার।

আমজত আলী বলেন, আমার মাথায় যত চুল আছে, প্রধানমন্ত্রী যেন তত বছর সুস্থভাবে বেঁচে থাকেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর দু’হাত তুলে উনার জন্য মোনাজাত করি। সুখেই আছেন আমজত আলীর ঘরের পাশে ঠাঁই পাওয়া সাহেরা খাতুন আর আব্দুল হেলিমের পরিবার।

তাদের প্রসঙ্গে ডৌহাখলা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, মানবতার জননী জননেত্রী শেখ হাসিনা ভূমিহীন-ঠিকানাহীন মানুষদের আশ্রয় দিয়ে পৃথিবীতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের হাতে ঘরের চাবি এবং দলিল হস্তান্তর করবেন। এ নিয়ে উপজেলার ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামে চলছে উল্লাস।

এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ।

তিনি বলেন, এ উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের তৃতীয় পর্যাযের দ্বিতীয় ধাপে ৭টি পরিবারকে জমি ও ঘর দেওয়া হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একযোগে সারা দেশে সুবিধাভোগীদের মাঝে এসব ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হবে।

তিনি আরও জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ‘বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনায় এ উপজেলার এ পর্যন্ত ১৬২টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে ঘর ও জমি প্রদান করা হয়েছে। এবারের ৭টিসহ মোট ১৬৯টি পরিবার ঘর পেয়েছে। এছাড়া উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের ব্যারাকে ২৫টি পরিবার ও অচিন্তপুর ইউনিয়নের শাহগঞ্জে ব্যারাকে ১০টি পরিবারকে আবাসন দেওয়া হয়েছে। সবমিলে ২০৪টি পরিবার স্বপ্নের ঠিকানায় ঠাঁই পেয়েছে।

উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোসা. নিকহাত আরা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহেল রানা পাপ্পু, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. সালাহ উদ্দিন সোহেল, উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী (এলজিইডি) সুলতান মাহমুদ প্রমুখ।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. সালাহ উদ্দিন সোহেল জানান, প্রত্যেকটি গৃহে স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করা হয়েছে।