ঢাকা ০২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগের স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখায় যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার শশিকর গ্রামে পূর্বের স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের সন্দেহে জয় সরকার (১৯) নামে এক যুবককে ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

এ সময় মন্দির ঘরে তালা দিয়ে আটকে রাখারও অভিযোগ করা হয়। বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয় অভিযুক্তরা। ঘটনাটি রবিবার সন্ধ্যায় ঘটলেও সোমবার সকালে ডাসার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পায়নি।

স্থানীয় লোকজনের বরাতে ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান বলেন, শশিকর গ্রামের দিবু সরকারের ছেলে জয় সরকারের সঙ্গে তিন মাস আগে নেত্রকোনার মুসলিম পরিবারের মেয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সম্পর্ক হয়। এক পর্যায়ে তারা বিয়েও করেন। পরে জয় সরকারের পরিবারের পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করে ছেলেকে দিয়ে স্ত্রী পায়েলকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময় তালাক দেওয়া হয়। কিন্তু তার পরিবার মনে করেন পূর্বের স্ত্রীর সঙ্গে পুনরায় সম্পর্কে জড়াচ্ছে তার ছেলে জয় সরকার। এমন সন্দেহ করে নবগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল তালুকদার ও তার সহযোগী অর্গ সরকারসহ প্রায় অর্ধশত লোকজন রবিবার বিকালে শশিকর বাজারে সালিশ বসে।

ওসি আরো বলেন, এসময় ইউপি চেয়ারম্যান প্রথমে জয় সরকারকে একটি থাপ্পড় মারেন। সঙ্গে সঙ্গে শশিকর বাজারের সাধারণ সম্পাদক অর্গ সরকারসহ কয়েকজন মিলে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জয়কে নির্যাতন করেন। এক পর্যায়ে শশিকর বাজারের সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে তালা দিয়ে আটকে রাখেন। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় সাংবাদিকরা সন্ধ্যার দিকে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তাদের ওপর চড়াও হয় ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজন। এ ঘটনায় সোমবার সকালে ডাসার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পায়নি। ভুক্তভোগী জয় সরকারও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।

ভুক্তভোগী জয় সরকার বলেন, ‘আমার ছেড়ে দেওয়া স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক আছে, এমন সন্দেহে প্রথমে চেয়ারম্যান চড়-থাপ্পড় দেন। পরে তার সহযোগী অর্গ সরকারসহ আরো অনেকে মিলে আমাকে পিটিয়ে মন্দির ঘরে তালা দিয়ে আটকে রাখেন। দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর সাংবাদিকদের কারণে ছাড়া পাই। এখন হুমকি দিচ্ছেন, যদি থানায় অভিযোগ করি তাহলে প্রাণে মেরে ফেলবেন। তাই জীবন বাঁচাতে গ্রাম থেকে ঢাকা চলে যাবো।’

অভিযোগের বিষয় অর্গ সরকার বলেন, ‘হ্যাঁ আমি ওরে মারছি। সে গাঁজা-মদ খায়। তার মা আমাদের কাছে নালিশ করেছে, ফলে চেয়ারম্যান আমাদের নিয়ে বিচার বসিয়ে দু’-চারটা থাপ্পড় দেয়া হয়েছে। ওর আরো বিচার হওয়া উচিত।’

এ ব্যাপারে নবগ্রামের ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল তালুকদার বলেন, ‘আমি ওকে চড়া-থাপ্পড় দেইনি। ওর মায়ের অনুরোধে আমরা বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সালিশ মীমাংসা করিয়ে দিয়েছি। পরে উত্তেজিত জনতা কী করেছে, সেটা আমি বলতে পারব না। জয় সরকার মাদকাসক্ত, ওর কঠোর বিচার হওয়া প্রয়োজন।’

এ ব্যাপারে ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান আরো বলেন, ‘বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনে পুলিশ গিয়ে কাউকে পায়নি। লিখিত কোনো অভিযোগও দেয়নি।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে ব্লক রেইড জোরদার

আগের স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখায় যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৭:৫০:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ জুলাই ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার শশিকর গ্রামে পূর্বের স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের সন্দেহে জয় সরকার (১৯) নামে এক যুবককে ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

এ সময় মন্দির ঘরে তালা দিয়ে আটকে রাখারও অভিযোগ করা হয়। বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয় অভিযুক্তরা। ঘটনাটি রবিবার সন্ধ্যায় ঘটলেও সোমবার সকালে ডাসার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পায়নি।

স্থানীয় লোকজনের বরাতে ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান বলেন, শশিকর গ্রামের দিবু সরকারের ছেলে জয় সরকারের সঙ্গে তিন মাস আগে নেত্রকোনার মুসলিম পরিবারের মেয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সম্পর্ক হয়। এক পর্যায়ে তারা বিয়েও করেন। পরে জয় সরকারের পরিবারের পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করে ছেলেকে দিয়ে স্ত্রী পায়েলকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময় তালাক দেওয়া হয়। কিন্তু তার পরিবার মনে করেন পূর্বের স্ত্রীর সঙ্গে পুনরায় সম্পর্কে জড়াচ্ছে তার ছেলে জয় সরকার। এমন সন্দেহ করে নবগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল তালুকদার ও তার সহযোগী অর্গ সরকারসহ প্রায় অর্ধশত লোকজন রবিবার বিকালে শশিকর বাজারে সালিশ বসে।

ওসি আরো বলেন, এসময় ইউপি চেয়ারম্যান প্রথমে জয় সরকারকে একটি থাপ্পড় মারেন। সঙ্গে সঙ্গে শশিকর বাজারের সাধারণ সম্পাদক অর্গ সরকারসহ কয়েকজন মিলে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জয়কে নির্যাতন করেন। এক পর্যায়ে শশিকর বাজারের সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে তালা দিয়ে আটকে রাখেন। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় সাংবাদিকরা সন্ধ্যার দিকে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তাদের ওপর চড়াও হয় ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজন। এ ঘটনায় সোমবার সকালে ডাসার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পায়নি। ভুক্তভোগী জয় সরকারও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।

ভুক্তভোগী জয় সরকার বলেন, ‘আমার ছেড়ে দেওয়া স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক আছে, এমন সন্দেহে প্রথমে চেয়ারম্যান চড়-থাপ্পড় দেন। পরে তার সহযোগী অর্গ সরকারসহ আরো অনেকে মিলে আমাকে পিটিয়ে মন্দির ঘরে তালা দিয়ে আটকে রাখেন। দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর সাংবাদিকদের কারণে ছাড়া পাই। এখন হুমকি দিচ্ছেন, যদি থানায় অভিযোগ করি তাহলে প্রাণে মেরে ফেলবেন। তাই জীবন বাঁচাতে গ্রাম থেকে ঢাকা চলে যাবো।’

অভিযোগের বিষয় অর্গ সরকার বলেন, ‘হ্যাঁ আমি ওরে মারছি। সে গাঁজা-মদ খায়। তার মা আমাদের কাছে নালিশ করেছে, ফলে চেয়ারম্যান আমাদের নিয়ে বিচার বসিয়ে দু’-চারটা থাপ্পড় দেয়া হয়েছে। ওর আরো বিচার হওয়া উচিত।’

এ ব্যাপারে নবগ্রামের ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল তালুকদার বলেন, ‘আমি ওকে চড়া-থাপ্পড় দেইনি। ওর মায়ের অনুরোধে আমরা বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সালিশ মীমাংসা করিয়ে দিয়েছি। পরে উত্তেজিত জনতা কী করেছে, সেটা আমি বলতে পারব না। জয় সরকার মাদকাসক্ত, ওর কঠোর বিচার হওয়া প্রয়োজন।’

এ ব্যাপারে ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান আরো বলেন, ‘বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনে পুলিশ গিয়ে কাউকে পায়নি। লিখিত কোনো অভিযোগও দেয়নি।’