আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
নারী ড্রাইভার নিয়ম মেনে, ঠাণ্ডা মাথায় গাড়ি চালায় এবং তারা নেশা করেন না। তাই সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিসি নারী ড্রাইভার বাড়াতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, নারী ড্রাইভার বাড়াতে তাদের নিয়োগের জন্য বিআরটিসি এর আগে সার্কুলার দিয়েছিল। কিন্তু তাদের তেমন সারা পাওয়া যায়নি। আমরা চাই নারী ড্রাইভার। তারা ড্রাইভিং কাজ আগ্রাহ করে আসুক।
শনিবার রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে নারী গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণ পরবর্তী সার্টিফিকেট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ব্রাক।
ব্রাকের নির্বাহী পরিচালক আশিফ সালেহের সভাপতিত্বে রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে “গ্রাজুয়েশন অব উইমেন ড্রাইভার: এ স্টেপ টোয়ার্ডস রোড সেফটি শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডাইরেক্টর মারসি মিয়াং টেমবন, বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার, বিআরটিসির চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামসহ অনেকেই।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, নারী গাড়িচালকেরা নিয়ম মেনে চলেন। ঠাণ্ডা মাথায় গাড়ি চালান। তারা নেশা করেন না। দায়িত্ব পালনের সময় মোবাইল ফোনে কথাও বলেন না। তাই যত বেশি নারীচালক নিয়োগ দেওয়া হবে, সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি ততটাই কমবে।
মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি গাড়ির পাশাপাশি সরকারি গাড়িতেও নারী চালক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর আগেও নারী ড্রাইভার নিয়োগের জন্য বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ সার্কুলার দিয়েছিলো। কিন্তু ১০২ জন নিয়োগের জন্য সার্কুলার দিলেও মাত্র তিনজন আবেদন করেছেন। এরমধ্যে দুইজন টিকেছেন। আর কাউকে পাওয়া যায়নি। এই হলো বাস্তবতা।
তিনি আরও বলেন, আমি রাস্তায় দেখেছি কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে ঝাঁকে ঝাঁকে মোটরসাইকেল চলতে। সাধারণ মানুষ কিন্তু ঢাকা শহরে আইন মেনে চলে। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মীরা আইনকে ডোন্ট কেয়ার করে ঝাঁকে ঝাঁকে মোটরসাইকেল নিয়ে চলে। রাজনৈতিক কর্মীরা আইন মানতে চায় না। এই বিষয়টা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। এখন নিয়ন্ত্রণে চলেও আসছে। এখন কিন্তু এক মোটরসাইকেল তিনজনকে চলতে দেখা যায় না। হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল আরোহীও দেখা যায় না তেমন একটা। সামনে আরও নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে ইনশাল্লাহ।
সড়ক নিরাপত্তা এবং নারীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার জন্য পেশাদার নারী গাড়িচালক তৈরির কার্যক্রম ব্র্যাকের একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ, যা দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। নারী প্রশিক্ষণার্থীদের এই ৬ষ্ঠ ব্যাচে মোট ১০জন নারী ও ১ জন তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠির সদস্যসহ মোট ১১ জন প্রশিক্ষণার্থী ছিলেন। উত্তরা, আশকোনা ও নিকেতনে অবস্থিত ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুলে ৩ মাসের আবাসিক ও ৩ মাসের শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ শেষে এদের শতভাগই এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষে বিআরটিএ হতে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















