ঢাকা ১০:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে বর্বর নির্যাতন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

যৌতুকের টাকা না পেয়ে এক গৃহবধূকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কেটে দেয়া হয়েছে তার মাথার চুল, ব্লেড দিয়ে চেঁছে ফেলা হয়েছে দুচোখের ভ্রু। নির্যাতনের সময় হাত-পা ধরে অনুনয়-বিনয় ও কান্নাকাটি করার পরও নির্যাতন থেকে রক্ষা পাননি ওই গৃহবধূ।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় খাস সাত বাড়িয়া গ্রামে নির্যাতিত এই গৃহবধূর নাম গুলনাহার পারভীন মিনু (৩০)। তিনি হাসপাতালের ভর্তি অবস্থায় বলেন, রাতভর গবাদিপশুর মতো হাত-পা বেঁধে তার সারা শরীরে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৩ ডিসেম্বর রাতে। একপর্যায়ে তাকে আটকে রেখে হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করানো হয়।

পরে খবর পেয়ে মিনুর পরিবার মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রবিবার সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রায় ১৩ বছর আগে শাহজাদপুর উপজেলার খাস সাতবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে মেহেদি হাসান সুজনের (৪৩) সঙ্গে পাশের তাড়াশ উপজেলা সদরের মৃত গোলাম মোস্তফার মেয়ে গুলনাহার পারভীন মিনুর (৩০) পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদে দুটি মেয়ে সন্তানও রয়েছে। বিয়ের পর থেকে স্বামী যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে। এ ছাড়া স্ত্রী সুন্দরী হওয়ায় তাকে বিভিন্ন সময়ে সন্দেহ করতো সুজন।

দরিদ্র পরিবারের পক্ষে যৌতুকের টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেওয়া হলে নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। এ ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার গ্রাম্য সালিস হয়েছে। তবুও থামেনি নির্যাতন। পরে নির্যাতন সইতে না পেরে ২০১৮ সালে বাবার বাড়ি ফিরে যান মিনু।

নির্যাতিত গৃহবধূর মা আনোয়ারা খাতুন জানান, বিয়ের সময় জামাতাকে যৌতুক হিসেবে নগদ এক লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, খাট, আলমিরাসহ প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার মালামাল দেওয়া হয়। ছোট ছোট বাচ্চাদের কথা বিবেচনা আবার তাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

সিরাজগঞ্জ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গৃহবধূ গুলনাহার পারভীন মিনু জানান, বিয়ের পর থেকেই কখনো নগদ টাকা, কখনো মোটরসাইকেল, কখনো মোবাইল ফোন বাবার বাড়ি থেকে এনে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল। এ ছাড়া অন্য কারো সাথে কথা বললেই সন্দেহের চোখে দেখে বিভিন্ন সময় তার উপর শারিরীক নির্যাতন চালাতো স্বামীসহ শ্বশুর বাড়িরর লোকেরা।

অভিযুক্ত মেহেদি হাসান সুজন বলেন, আমার স্ত্রী এক প্রবাসীর সাথে পরকীয়ায় আসক্ত। প্রায় ভিডিও কলে কথা বলে। তাই আমি রাগ চেক দিতে না পেরে ঘটনা ঘটিয়েছি।

শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদ মাহমুদ খান বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে বর্বর নির্যাতন

আপডেট সময় ০৬:১০:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

যৌতুকের টাকা না পেয়ে এক গৃহবধূকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কেটে দেয়া হয়েছে তার মাথার চুল, ব্লেড দিয়ে চেঁছে ফেলা হয়েছে দুচোখের ভ্রু। নির্যাতনের সময় হাত-পা ধরে অনুনয়-বিনয় ও কান্নাকাটি করার পরও নির্যাতন থেকে রক্ষা পাননি ওই গৃহবধূ।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় খাস সাত বাড়িয়া গ্রামে নির্যাতিত এই গৃহবধূর নাম গুলনাহার পারভীন মিনু (৩০)। তিনি হাসপাতালের ভর্তি অবস্থায় বলেন, রাতভর গবাদিপশুর মতো হাত-পা বেঁধে তার সারা শরীরে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৩ ডিসেম্বর রাতে। একপর্যায়ে তাকে আটকে রেখে হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করানো হয়।

পরে খবর পেয়ে মিনুর পরিবার মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রবিবার সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রায় ১৩ বছর আগে শাহজাদপুর উপজেলার খাস সাতবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে মেহেদি হাসান সুজনের (৪৩) সঙ্গে পাশের তাড়াশ উপজেলা সদরের মৃত গোলাম মোস্তফার মেয়ে গুলনাহার পারভীন মিনুর (৩০) পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদে দুটি মেয়ে সন্তানও রয়েছে। বিয়ের পর থেকে স্বামী যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে। এ ছাড়া স্ত্রী সুন্দরী হওয়ায় তাকে বিভিন্ন সময়ে সন্দেহ করতো সুজন।

দরিদ্র পরিবারের পক্ষে যৌতুকের টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেওয়া হলে নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। এ ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার গ্রাম্য সালিস হয়েছে। তবুও থামেনি নির্যাতন। পরে নির্যাতন সইতে না পেরে ২০১৮ সালে বাবার বাড়ি ফিরে যান মিনু।

নির্যাতিত গৃহবধূর মা আনোয়ারা খাতুন জানান, বিয়ের সময় জামাতাকে যৌতুক হিসেবে নগদ এক লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, খাট, আলমিরাসহ প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার মালামাল দেওয়া হয়। ছোট ছোট বাচ্চাদের কথা বিবেচনা আবার তাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

সিরাজগঞ্জ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গৃহবধূ গুলনাহার পারভীন মিনু জানান, বিয়ের পর থেকেই কখনো নগদ টাকা, কখনো মোটরসাইকেল, কখনো মোবাইল ফোন বাবার বাড়ি থেকে এনে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল। এ ছাড়া অন্য কারো সাথে কথা বললেই সন্দেহের চোখে দেখে বিভিন্ন সময় তার উপর শারিরীক নির্যাতন চালাতো স্বামীসহ শ্বশুর বাড়িরর লোকেরা।

অভিযুক্ত মেহেদি হাসান সুজন বলেন, আমার স্ত্রী এক প্রবাসীর সাথে পরকীয়ায় আসক্ত। প্রায় ভিডিও কলে কথা বলে। তাই আমি রাগ চেক দিতে না পেরে ঘটনা ঘটিয়েছি।

শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদ মাহমুদ খান বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।