ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে: মাহ্দী আমিন আমরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি: হাসনাত আবদুল্লাহ চাঁদপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন এমপি গাজী নজরুলের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে ইসি ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতির সুযোগ নেই : মির্জা ফখরুল প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হরমুজে প্রতিটি হামলার জন্য একটি করে ইরানি সেতু বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে: ট্রাম্প ২১ দিনে রেমিট্যান্স এলো প্রায় ২৫ হাজার ৭৬৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা গত ১৭ বছর দেশে জনগণের নির্বাচিত সরকার ছিল না: খায়রুল কবির খোকন পোশাক শিল্পের বিকাশে প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতির সুযোগ নেই : মির্জা ফখরুল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশে নতুন বিভাজনের রাজনীতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ ইসলাম ধর্মের জনসংখ্যা বেশি হলেও এ দেশে সবার সমান গুরুত্ব। ইসলাম ব্যতীত অন্য সব ধর্মের মানুষকে খাটো করার সুযোগ নেই।

আজ বুধবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেম্বার এসোসিয়েশন’ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ। বিএনপি ও জামায়াত বলে কেউ সুবিধা পাবে না। জনগণের ভালোবাসা দিয়ে নির্বাচিত হতে হবে। সত্যিকারার্থে গণতন্ত্রের ভিত্তিই অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন। নির্বাচনের পর চেয়ারম্যান-মেম্বারদের নিয়ে জাতীয় সংগঠন করা হবে। এডহক কমিটি করবেন আপনারা। আপনাদের সংগঠনের সেই কাউন্সিলে প্রধানমন্ত্রী আসবেন।’

তিনি বলেন, আমাদের ছোট দেশ। কিন্তু সমস্যা অনেক। সীমিত সম্পদ দিয়ে বিশাল জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণে কাজ শুরু করেছে সরকার। নির্বাচনের আগে দল গুছিয়ে নেওয়া হয়েছে। সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনায় দেশ গঠনের কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আগে দল গুছিয়েছি, সরকার গঠন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কাজ শুরু করেছেন, এ বছরের মধ্যে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড সুবিধার আওতায় আনা হবে। কৃষক কার্ড চালু করা, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষক ঋণ মওকুফ করেছেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতার ব্যবস্থা করেছেন, খাল খনন শুরু করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘এই কাজগুলো জনগণের, তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষের উপকারের কাজ, জনগণের স্বস্তির জন্য। আমাদের প্রস্তাব আছে এসব উন্নয়নমূলক কাজে তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের, তৃণমূল নেতাদের সম্পৃক্ত করতে হবে। সেটির কাজও শুরু হয়েছে। প্রতিটি উন্নয়নের ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হবে। এটি বেশি প্রয়োজন, না হলে শক্তিশালী রাষ্ট্র কাঠামো তৈরি হয় না।’

তিনি বলেন, শুধু ইউএনও, সরকরি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিয়ে শক্তিশালী উন্নয়ন সম্ভব না। চেয়ারম্যান-মেম্বারদেরও ক্ষমতায়ন করতে হবে। তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ সঠিক নেতৃত্বের পথ বেছে নেয়। তৃণমূল নেতারাই দেশকে সবচেয়ে ভালো চিনে।

এসময় ধর্মীয় বিভাজনের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের সমস্য অনেক। সম্পদ সীমিত। আমাদের মধ্যে নতুন বিভাজনের রাজনীতি করার চেষ্টা হচ্ছে। ধর্মের নামে বিভাজনের চেষ্টা চলছে। আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ কিন্তু অন্য ধর্মকে খাটো করা যাবে না। অন্য সব ধর্মকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। রাষ্ট্র সবার। আপনি চেয়ারম্যান হলে পূজায় যান, ঈদে উৎসবে অংশ নেন, সুতরাং বিভাজন চলবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অনেক ক্ষতি করেছে, আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র একসাথে যায় না। ৭১ এর পর থেকে ২৪ পর্যন্ত তারা যখনই ক্ষমতায় এসেছেন, তখনই গণতন্ত্রের সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছেন। জনগণের প্রতিনিধিদের অন্যায় প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে বরখাস্ত করা যেন না হয় সেভাবেই আইন পাস করার চেষ্টা আছে। চেয়ারম্যান-মেম্বারদের যে ভাতা দেওয়া হয়, তা অতি সামান্য, তদের সমস্যা সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে: মাহ্দী আমিন

ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতির সুযোগ নেই : মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় ১০:১০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশে নতুন বিভাজনের রাজনীতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ ইসলাম ধর্মের জনসংখ্যা বেশি হলেও এ দেশে সবার সমান গুরুত্ব। ইসলাম ব্যতীত অন্য সব ধর্মের মানুষকে খাটো করার সুযোগ নেই।

আজ বুধবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেম্বার এসোসিয়েশন’ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ। বিএনপি ও জামায়াত বলে কেউ সুবিধা পাবে না। জনগণের ভালোবাসা দিয়ে নির্বাচিত হতে হবে। সত্যিকারার্থে গণতন্ত্রের ভিত্তিই অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন। নির্বাচনের পর চেয়ারম্যান-মেম্বারদের নিয়ে জাতীয় সংগঠন করা হবে। এডহক কমিটি করবেন আপনারা। আপনাদের সংগঠনের সেই কাউন্সিলে প্রধানমন্ত্রী আসবেন।’

তিনি বলেন, আমাদের ছোট দেশ। কিন্তু সমস্যা অনেক। সীমিত সম্পদ দিয়ে বিশাল জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণে কাজ শুরু করেছে সরকার। নির্বাচনের আগে দল গুছিয়ে নেওয়া হয়েছে। সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনায় দেশ গঠনের কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আগে দল গুছিয়েছি, সরকার গঠন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কাজ শুরু করেছেন, এ বছরের মধ্যে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড সুবিধার আওতায় আনা হবে। কৃষক কার্ড চালু করা, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষক ঋণ মওকুফ করেছেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতার ব্যবস্থা করেছেন, খাল খনন শুরু করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘এই কাজগুলো জনগণের, তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষের উপকারের কাজ, জনগণের স্বস্তির জন্য। আমাদের প্রস্তাব আছে এসব উন্নয়নমূলক কাজে তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের, তৃণমূল নেতাদের সম্পৃক্ত করতে হবে। সেটির কাজও শুরু হয়েছে। প্রতিটি উন্নয়নের ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হবে। এটি বেশি প্রয়োজন, না হলে শক্তিশালী রাষ্ট্র কাঠামো তৈরি হয় না।’

তিনি বলেন, শুধু ইউএনও, সরকরি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিয়ে শক্তিশালী উন্নয়ন সম্ভব না। চেয়ারম্যান-মেম্বারদেরও ক্ষমতায়ন করতে হবে। তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ সঠিক নেতৃত্বের পথ বেছে নেয়। তৃণমূল নেতারাই দেশকে সবচেয়ে ভালো চিনে।

এসময় ধর্মীয় বিভাজনের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের সমস্য অনেক। সম্পদ সীমিত। আমাদের মধ্যে নতুন বিভাজনের রাজনীতি করার চেষ্টা হচ্ছে। ধর্মের নামে বিভাজনের চেষ্টা চলছে। আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ কিন্তু অন্য ধর্মকে খাটো করা যাবে না। অন্য সব ধর্মকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। রাষ্ট্র সবার। আপনি চেয়ারম্যান হলে পূজায় যান, ঈদে উৎসবে অংশ নেন, সুতরাং বিভাজন চলবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অনেক ক্ষতি করেছে, আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র একসাথে যায় না। ৭১ এর পর থেকে ২৪ পর্যন্ত তারা যখনই ক্ষমতায় এসেছেন, তখনই গণতন্ত্রের সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছেন। জনগণের প্রতিনিধিদের অন্যায় প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে বরখাস্ত করা যেন না হয় সেভাবেই আইন পাস করার চেষ্টা আছে। চেয়ারম্যান-মেম্বারদের যে ভাতা দেওয়া হয়, তা অতি সামান্য, তদের সমস্যা সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’