ঢাকা ১১:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতির সুযোগ নেই : মির্জা ফখরুল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশে নতুন বিভাজনের রাজনীতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ ইসলাম ধর্মের জনসংখ্যা বেশি হলেও এ দেশে সবার সমান গুরুত্ব। ইসলাম ব্যতীত অন্য সব ধর্মের মানুষকে খাটো করার সুযোগ নেই।

আজ বুধবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেম্বার এসোসিয়েশন’ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ। বিএনপি ও জামায়াত বলে কেউ সুবিধা পাবে না। জনগণের ভালোবাসা দিয়ে নির্বাচিত হতে হবে। সত্যিকারার্থে গণতন্ত্রের ভিত্তিই অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন। নির্বাচনের পর চেয়ারম্যান-মেম্বারদের নিয়ে জাতীয় সংগঠন করা হবে। এডহক কমিটি করবেন আপনারা। আপনাদের সংগঠনের সেই কাউন্সিলে প্রধানমন্ত্রী আসবেন।’

তিনি বলেন, আমাদের ছোট দেশ। কিন্তু সমস্যা অনেক। সীমিত সম্পদ দিয়ে বিশাল জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণে কাজ শুরু করেছে সরকার। নির্বাচনের আগে দল গুছিয়ে নেওয়া হয়েছে। সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনায় দেশ গঠনের কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আগে দল গুছিয়েছি, সরকার গঠন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কাজ শুরু করেছেন, এ বছরের মধ্যে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড সুবিধার আওতায় আনা হবে। কৃষক কার্ড চালু করা, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষক ঋণ মওকুফ করেছেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতার ব্যবস্থা করেছেন, খাল খনন শুরু করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘এই কাজগুলো জনগণের, তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষের উপকারের কাজ, জনগণের স্বস্তির জন্য। আমাদের প্রস্তাব আছে এসব উন্নয়নমূলক কাজে তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের, তৃণমূল নেতাদের সম্পৃক্ত করতে হবে। সেটির কাজও শুরু হয়েছে। প্রতিটি উন্নয়নের ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হবে। এটি বেশি প্রয়োজন, না হলে শক্তিশালী রাষ্ট্র কাঠামো তৈরি হয় না।’

তিনি বলেন, শুধু ইউএনও, সরকরি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিয়ে শক্তিশালী উন্নয়ন সম্ভব না। চেয়ারম্যান-মেম্বারদেরও ক্ষমতায়ন করতে হবে। তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ সঠিক নেতৃত্বের পথ বেছে নেয়। তৃণমূল নেতারাই দেশকে সবচেয়ে ভালো চিনে।

এসময় ধর্মীয় বিভাজনের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের সমস্য অনেক। সম্পদ সীমিত। আমাদের মধ্যে নতুন বিভাজনের রাজনীতি করার চেষ্টা হচ্ছে। ধর্মের নামে বিভাজনের চেষ্টা চলছে। আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ কিন্তু অন্য ধর্মকে খাটো করা যাবে না। অন্য সব ধর্মকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। রাষ্ট্র সবার। আপনি চেয়ারম্যান হলে পূজায় যান, ঈদে উৎসবে অংশ নেন, সুতরাং বিভাজন চলবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অনেক ক্ষতি করেছে, আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র একসাথে যায় না। ৭১ এর পর থেকে ২৪ পর্যন্ত তারা যখনই ক্ষমতায় এসেছেন, তখনই গণতন্ত্রের সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছেন। জনগণের প্রতিনিধিদের অন্যায় প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে বরখাস্ত করা যেন না হয় সেভাবেই আইন পাস করার চেষ্টা আছে। চেয়ারম্যান-মেম্বারদের যে ভাতা দেওয়া হয়, তা অতি সামান্য, তদের সমস্যা সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতির সুযোগ নেই : মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় ১০:১০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশে নতুন বিভাজনের রাজনীতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ ইসলাম ধর্মের জনসংখ্যা বেশি হলেও এ দেশে সবার সমান গুরুত্ব। ইসলাম ব্যতীত অন্য সব ধর্মের মানুষকে খাটো করার সুযোগ নেই।

আজ বুধবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেম্বার এসোসিয়েশন’ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ। বিএনপি ও জামায়াত বলে কেউ সুবিধা পাবে না। জনগণের ভালোবাসা দিয়ে নির্বাচিত হতে হবে। সত্যিকারার্থে গণতন্ত্রের ভিত্তিই অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন। নির্বাচনের পর চেয়ারম্যান-মেম্বারদের নিয়ে জাতীয় সংগঠন করা হবে। এডহক কমিটি করবেন আপনারা। আপনাদের সংগঠনের সেই কাউন্সিলে প্রধানমন্ত্রী আসবেন।’

তিনি বলেন, আমাদের ছোট দেশ। কিন্তু সমস্যা অনেক। সীমিত সম্পদ দিয়ে বিশাল জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণে কাজ শুরু করেছে সরকার। নির্বাচনের আগে দল গুছিয়ে নেওয়া হয়েছে। সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনায় দেশ গঠনের কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আগে দল গুছিয়েছি, সরকার গঠন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কাজ শুরু করেছেন, এ বছরের মধ্যে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড সুবিধার আওতায় আনা হবে। কৃষক কার্ড চালু করা, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষক ঋণ মওকুফ করেছেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতার ব্যবস্থা করেছেন, খাল খনন শুরু করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘এই কাজগুলো জনগণের, তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষের উপকারের কাজ, জনগণের স্বস্তির জন্য। আমাদের প্রস্তাব আছে এসব উন্নয়নমূলক কাজে তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের, তৃণমূল নেতাদের সম্পৃক্ত করতে হবে। সেটির কাজও শুরু হয়েছে। প্রতিটি উন্নয়নের ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হবে। এটি বেশি প্রয়োজন, না হলে শক্তিশালী রাষ্ট্র কাঠামো তৈরি হয় না।’

তিনি বলেন, শুধু ইউএনও, সরকরি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিয়ে শক্তিশালী উন্নয়ন সম্ভব না। চেয়ারম্যান-মেম্বারদেরও ক্ষমতায়ন করতে হবে। তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ সঠিক নেতৃত্বের পথ বেছে নেয়। তৃণমূল নেতারাই দেশকে সবচেয়ে ভালো চিনে।

এসময় ধর্মীয় বিভাজনের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের সমস্য অনেক। সম্পদ সীমিত। আমাদের মধ্যে নতুন বিভাজনের রাজনীতি করার চেষ্টা হচ্ছে। ধর্মের নামে বিভাজনের চেষ্টা চলছে। আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ কিন্তু অন্য ধর্মকে খাটো করা যাবে না। অন্য সব ধর্মকে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। রাষ্ট্র সবার। আপনি চেয়ারম্যান হলে পূজায় যান, ঈদে উৎসবে অংশ নেন, সুতরাং বিভাজন চলবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অনেক ক্ষতি করেছে, আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র একসাথে যায় না। ৭১ এর পর থেকে ২৪ পর্যন্ত তারা যখনই ক্ষমতায় এসেছেন, তখনই গণতন্ত্রের সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছেন। জনগণের প্রতিনিধিদের অন্যায় প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে বরখাস্ত করা যেন না হয় সেভাবেই আইন পাস করার চেষ্টা আছে। চেয়ারম্যান-মেম্বারদের যে ভাতা দেওয়া হয়, তা অতি সামান্য, তদের সমস্যা সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’