ঢাকা ০২:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ ‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না’ গুম হওয়া পরিবারের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু আন্দোলনের সুফল একটি দলের ঘরে নেওয়ার চেষ্টা বিফলে যাবে : ডা. জাহিদ ঢাকাকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর রাইডার্স খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর চালিকাশক্তি : খন্দকার মোশাররফ

অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার ফাঁদে পা দিলেন আইনজীবী, খোয়ালেন ৫৫ লাখ টাকা!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হওয়ার প্রলোভনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম এ বি এম খায়রুল ইসলাম (৪৭) প্রতারক চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ টাকা। একপর্যায়ে প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে গত ১ জুলাই রাজধানীর খিলগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন এ আইনজীবী।

মামলাটি তদন্তের ধারাবাহিকতায় শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বনশ্রী ও শাজাহানপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তারা হলেন- মো.সাইমুন ইসলাম (২৬) ও মো. আশফাকুজ্জামান খন্দকার (২৬)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি কম্পিউটার, জাল ভিসা ও জাল টিকিটসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।

তবে এ চক্রের মূলহোতা অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী উম্মে ফাতেমা রোজী (৩৫)। গ্রেফতারদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাকেও দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মালবাগে সিআইডি প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন।

তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী বসবাসের কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে জাল ভিসা প্রস্তুত করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন প্রবাসী উম্মে ফাতেমা রোজী। তিনি মাঝেমধ্যে দেশে এসে উচ্চবিত্তদের টার্গেট করে আত্মীয়ের ভিসায় অস্ট্রেলিয়া নিয়ে যাবে বলে প্রলোভন দেখান। সপরিবারে গেলে (স্বামী-স্ত্রী) ২৩ লাখ আর একা গেলে ১৮ লাখ, সে হিসেবে চুক্তি করতেন তিনি।

রোজী নিজেকে অস্ট্রেলিয়া ইমিগ্রেশন কনস্যুলার জেনারেল হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিতেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এছাড়া রোজী অস্ট্রেলিয়া প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের কাছ থেকে পুরস্কৃত হন ও পুরস্কারের ছবি ভুক্তভোগীদের দেখান। এতে করে ভুক্তভোগীরা বিশ্বাস করতে থাকেন। এরপর অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশনমন্ত্রী এলেক্স হাউকির সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে বলেও জানান। এরপর ধাপে ধাপে কাগজপত্র ও ভিসার কথা বলে টাকা নিতে থাকেন।

রোজী দেশে থাকাকালীন তার সঙ্গে পরিচয় হয় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম এ বি এম খায়রুল ইসলামের। এরপর রোজীর ফাঁদে পড়ে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের আট সদস্যসহ অস্ট্রেলিয়ায় যেতে চেয়েছিলেন তিনি। এজন্য রোজীর দেওয়া দু’টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ টাকা দেন এ আইনজীবী। টাকা দেওয়ার পর কাগজপত্র ও ভিসা হাতে পেয়ে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখতে পান সবগুলোই ভুয়া এবং জাল।

গ্রেফতারদের বিষয়ে সিআইডির এ কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতার সাইমুন ও আশফাকুজ্জামান বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ান অ্যাম্বাসির নিযুক্ত ‘VFS Global Bangladesh Pvt. Ltd’ এর প্রতিনিধি বলে মিথ্যা পরিচয় দিতেন। তারা অস্ট্রেলিয়া অ্যাম্বাসির লোগোসহ ভিসা সংক্রান্ত সবধরনের কাগজপত্র তৈরি করে রোজীকে ই-মেইলে পাঠাতেন। পরে সেসব ভুয়া কাগজপত্র ভুক্তভোগীদের পাঠিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানেই জমা দিতে বলতেন রোজী।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, মিথ্যা পরিচয় দিয়ে ভুয়া কাজপত্র ব্যবহার করে চক্রটি অনেকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমরা আশা করছি, রোজীকে দ্রুতই দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবো এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ

অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার ফাঁদে পা দিলেন আইনজীবী, খোয়ালেন ৫৫ লাখ টাকা!

আপডেট সময় ০৫:১৯:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হওয়ার প্রলোভনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম এ বি এম খায়রুল ইসলাম (৪৭) প্রতারক চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ টাকা। একপর্যায়ে প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে গত ১ জুলাই রাজধানীর খিলগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন এ আইনজীবী।

মামলাটি তদন্তের ধারাবাহিকতায় শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বনশ্রী ও শাজাহানপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তারা হলেন- মো.সাইমুন ইসলাম (২৬) ও মো. আশফাকুজ্জামান খন্দকার (২৬)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি কম্পিউটার, জাল ভিসা ও জাল টিকিটসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।

তবে এ চক্রের মূলহোতা অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী উম্মে ফাতেমা রোজী (৩৫)। গ্রেফতারদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাকেও দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মালবাগে সিআইডি প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন।

তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী বসবাসের কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে জাল ভিসা প্রস্তুত করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন প্রবাসী উম্মে ফাতেমা রোজী। তিনি মাঝেমধ্যে দেশে এসে উচ্চবিত্তদের টার্গেট করে আত্মীয়ের ভিসায় অস্ট্রেলিয়া নিয়ে যাবে বলে প্রলোভন দেখান। সপরিবারে গেলে (স্বামী-স্ত্রী) ২৩ লাখ আর একা গেলে ১৮ লাখ, সে হিসেবে চুক্তি করতেন তিনি।

রোজী নিজেকে অস্ট্রেলিয়া ইমিগ্রেশন কনস্যুলার জেনারেল হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিতেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এছাড়া রোজী অস্ট্রেলিয়া প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের কাছ থেকে পুরস্কৃত হন ও পুরস্কারের ছবি ভুক্তভোগীদের দেখান। এতে করে ভুক্তভোগীরা বিশ্বাস করতে থাকেন। এরপর অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশনমন্ত্রী এলেক্স হাউকির সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে বলেও জানান। এরপর ধাপে ধাপে কাগজপত্র ও ভিসার কথা বলে টাকা নিতে থাকেন।

রোজী দেশে থাকাকালীন তার সঙ্গে পরিচয় হয় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম এ বি এম খায়রুল ইসলামের। এরপর রোজীর ফাঁদে পড়ে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের আট সদস্যসহ অস্ট্রেলিয়ায় যেতে চেয়েছিলেন তিনি। এজন্য রোজীর দেওয়া দু’টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ টাকা দেন এ আইনজীবী। টাকা দেওয়ার পর কাগজপত্র ও ভিসা হাতে পেয়ে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখতে পান সবগুলোই ভুয়া এবং জাল।

গ্রেফতারদের বিষয়ে সিআইডির এ কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতার সাইমুন ও আশফাকুজ্জামান বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ান অ্যাম্বাসির নিযুক্ত ‘VFS Global Bangladesh Pvt. Ltd’ এর প্রতিনিধি বলে মিথ্যা পরিচয় দিতেন। তারা অস্ট্রেলিয়া অ্যাম্বাসির লোগোসহ ভিসা সংক্রান্ত সবধরনের কাগজপত্র তৈরি করে রোজীকে ই-মেইলে পাঠাতেন। পরে সেসব ভুয়া কাগজপত্র ভুক্তভোগীদের পাঠিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানেই জমা দিতে বলতেন রোজী।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, মিথ্যা পরিচয় দিয়ে ভুয়া কাজপত্র ব্যবহার করে চক্রটি অনেকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমরা আশা করছি, রোজীকে দ্রুতই দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবো এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।