অাকাশ নিউজ ডেস্ক:
নির্বাচন কমিশনে (ইসি) রদবদলের বিষয় আগে না জানায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন চার নির্বাচন কমিশনার। এ ঘটনায় বুধবার অনানুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকও করেছেন চার কমিশনার। অবশ্য এ বিষয়ে একজন নির্বাচন কমিশনারের কাছে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইসি সচিব ও অতিরিক্ত সচিব। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে ইসির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হতে পারে। এর আগে মঙ্গলবার বদলি প্রক্রিয়ার বিষয়টি জানতে চেয়ে নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রশাসনিক কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার ইসি সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে আনঅফিসিয়াল (ইউ) নোট দিয়েছেন। ইসি সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে।
বদলির বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, বদলি আদেশ জারির বিষয়টি আগে আমি জানতাম না। কোন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে রদবদল হলো তা জানতে (ইউ) নোট দিয়েছি। এটি কমিশনের একান্ত অভ্যন্তরীণ বিষয়। আরেক নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বদলির বিষয়ে আমি জানি না।নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম বলেন, প্রশাসনিক কমিটিতে আমি নেই। বিষয়টিও সেনসেটিভ। এ বিষয়ে মন্তব্য করবো না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার সম্মতি নিয়ে ইসি সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বদলি আদেশ অনুমোদন করেছেন। এর আগেও বিভিন্ন বিষয়ে চার কমিশনারকে না জানিয়ে ইসি সচিবালয় থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। চোখের আইরিশ ও আঙুলের ছাপ ছাড়াই স্মার্টকার্ড দেওয়ার প্রস্তাব তৈরি করেছিল ইসি সচিবালয়। ওই ঘটনায়ও ক্ষুব্ধ হন কমিশনারা। পরে কমিশন সভায় ওই বিষয়টি তোলা হলে কমিশনাররা ওই বৈঠকে কড়া বক্তব্য রাখেন এবং ওই প্রস্তাব বাতিল করে দেন।
এবার কমিশনারদের সম্মতি না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার ইউনোট দেন। এতে তিনি বলেন, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় দেখতে পেলাম, দেশব্যাপী নির্বাচন কমিশনের অধীনস্থ অফিসারদের বদলি ও পদোন্নতি (চলতি দায়িত্ব) প্রদান করা হয়েছে। এ বিষয়ে অফিসারদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার কথা পত্রিকায় উঠে এসেছে। এতে কমিশনের কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করি। বিষয়টি আমাকে কিছুটা বিস্মিত করেছে। কারণ, কোনো পর্যায়েই আমাকে তা অবহিত করা হয়নি।
এতে সচিবের কাছে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলে ধরেন তিনি। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিগত ১২ জুন আমাকে সভাপতি করে, ‘নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রশাসনিক সংস্কার ও পুনর্বিন্যাস এবং দক্ষতা উন্নয়ন কমিটি’ নামে যে কমিটি গঠিত হয়েছে, উল্লিখিত বদলি বা পদোন্নতি তার কার্যপরিধির আওতায় পড়ে কি না! গণহারে বদলি বা পদোন্নতি প্রদানের ক্ষেত্রে উল্লিখিত কমিটির সভায় তা আলোচিত হওয়া উচিত ছিল কি না?
আরও জানা গেছে, বুধবার নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের কক্ষে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন চার কমিশনার। দুপুরে মাহবুব তালুকদারের সঙ্গে বৈঠক করেন নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেসুর রহমান। ওই বৈঠকে বদলির যৌক্তিকতা ও কমিশন সচিবালয়ের কার্যপরিধি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ইসি সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্ বলেন, ইউনোট (আনঅফিসিয়াল নোট) আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করবো না। এতে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হবে।
প্রসঙ্গত, গত রোববার ৫ জন আঞ্চলিক কর্মকর্তা, ১৮ জন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ ৩৩জনের বদলি আদেশ জারি করা হয়।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















