ঢাকা ০১:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আন্দোলন-সংগ্রামে যারা ছিলেন, তারা মনোনয়ন পাবেন: রিজভী যুদ্ধবিরতি হলেও জ্বালানি সংকট থাকবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আর বাজার নিয়ন্ত্রিত হবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না: ট্রাম্প একাদশ শ্রেণিতে ৬ হাজার টাকা ভর্তি সহায়তা পাবেন যেসব শিক্ষার্থীরা পাকিস্তানে পৌঁছেছে মার্কিন প্রতিনিধিদল চট্টগ্রামে শপিং কমপ্লেক্সে আগুন ইসরাইলি হামলায় বাংলাদেশি নারীর মৃত্যুতে নিন্দা আপত্তি থাকলে আগেই বলুন, বিল পাশের পর বলছেন আমি কিছু বুঝিলাম না:জামায়াত আমিরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির উচিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো ৬ মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলা: সামান্থা

সন্তান কার জানে না বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মা, দায়িত্ব নিলেন ইউএনও

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

অন্তঃসত্ত্বা হয়ে প্রায় তিনমাস ধরে বাজারের অলিগলিতে ঘুরে বেড়ানো বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণী অবশেষে কন্যা সন্তানের মা হলেন। রোববার মদন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।

তবে ওই মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণীর জানে না ওই কন্যা সন্তানের বাবাকে? কি বা তার পরিচয়? এমন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বুলবুল আহমেদের নির্দেশে সহকারী কমিশনার ভূমি উম্মে সালমা মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরী কন্যা সন্তানটিকে দেখতে মদন হাসপাতালে যান এবং তার খোঁজ খবর নেন।

এর আগে মদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বুলবুল আহমেদ ওই তরুণীর এমন সংবাদ শুনে তার গ্রামের বাড়ি খোঁজ খবর নেন এবং চিকিৎসাসহ সকল দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এলাকাবাসী জানান,ওই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে প্রায় তিনমাস ধরে বাজারের অলিগলিতে ঘুরে বেড়াতেন। আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার খবর পেয়ে বিষয়টি মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেন। এমন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী তার গ্রামে বাড়ি পাঠায় এবং তার সব দায়িত্ব গ্রহণ করেন ইউএনও বুলবুল আহমেদ।

পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বুলবুল আহমেদের নির্দেশে একজন গর্ভবতী মাকে যা যা চিকিৎসা দেওয়া লাগে সব দিয়ে জানতে পারে মেয়েটির মা নিজেও একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। বাবা বেঁচে নেই। ভাই বোন কেউ নেই। স্বজন বলতে রিকশাচালক একজন মামা আছেন। যার রোজগার দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন পরিবারটি।

সহকারী কমিশনার ভূমি উম্মে সালমা জানান, ইউএনও করোনায় আক্রান্ত। ওই মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরীর সন্তান হয়েছে খবর পেয়ে তাকে দেখার জন্য আমাকে বলেন ইউএনও। আমি হাসপাতালে ফুটফুটে তার কন্যা সন্তানটি দেখে এসেছি এবং তারা ভাল আছে। তাদের ব্যয়ভার উপজেলা প্রশাসন বহন করছে।

মদন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সাঈম আহমেদ রিয়াদ জানান, রোববার তার কন্যা সন্তান জন্ম হয়েছে। মা ও মেয়ে ভালই আছে।

মদন উপজেলার নির্বাহী অফিসার বুলবুল আহমেদ মোবাইল ফোনে জানান, গত ১৫ দিন আগে আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি মদনে ওই ভারসাম্যহীন কিশোরীর অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি জেনে তাকে ডাক্তারি পরীক্ষাসহ সব দায়িত্ব নিয়েছি। রোববার তার একটি কন্যা সন্তান হয়েছে। তার পরিবারে মা আছে তিনিও প্রতিবন্ধী। সংসারটি দেখার কেউ নেই। তবে অনেকেই বাচ্চাটিকে দত্তক নিতে চাচ্ছেন। এটি আইনের বিষয়। তাই পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাকে দেখাশোনা করার জন্য আপাতত এক নারীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

সন্তান কার জানে না বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মা, দায়িত্ব নিলেন ইউএনও

আপডেট সময় ০৯:২৩:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ অগাস্ট ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

অন্তঃসত্ত্বা হয়ে প্রায় তিনমাস ধরে বাজারের অলিগলিতে ঘুরে বেড়ানো বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণী অবশেষে কন্যা সন্তানের মা হলেন। রোববার মদন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।

তবে ওই মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণীর জানে না ওই কন্যা সন্তানের বাবাকে? কি বা তার পরিচয়? এমন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বুলবুল আহমেদের নির্দেশে সহকারী কমিশনার ভূমি উম্মে সালমা মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরী কন্যা সন্তানটিকে দেখতে মদন হাসপাতালে যান এবং তার খোঁজ খবর নেন।

এর আগে মদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বুলবুল আহমেদ ওই তরুণীর এমন সংবাদ শুনে তার গ্রামের বাড়ি খোঁজ খবর নেন এবং চিকিৎসাসহ সকল দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এলাকাবাসী জানান,ওই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে প্রায় তিনমাস ধরে বাজারের অলিগলিতে ঘুরে বেড়াতেন। আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার খবর পেয়ে বিষয়টি মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেন। এমন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী তার গ্রামে বাড়ি পাঠায় এবং তার সব দায়িত্ব গ্রহণ করেন ইউএনও বুলবুল আহমেদ।

পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বুলবুল আহমেদের নির্দেশে একজন গর্ভবতী মাকে যা যা চিকিৎসা দেওয়া লাগে সব দিয়ে জানতে পারে মেয়েটির মা নিজেও একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। বাবা বেঁচে নেই। ভাই বোন কেউ নেই। স্বজন বলতে রিকশাচালক একজন মামা আছেন। যার রোজগার দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন পরিবারটি।

সহকারী কমিশনার ভূমি উম্মে সালমা জানান, ইউএনও করোনায় আক্রান্ত। ওই মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরীর সন্তান হয়েছে খবর পেয়ে তাকে দেখার জন্য আমাকে বলেন ইউএনও। আমি হাসপাতালে ফুটফুটে তার কন্যা সন্তানটি দেখে এসেছি এবং তারা ভাল আছে। তাদের ব্যয়ভার উপজেলা প্রশাসন বহন করছে।

মদন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সাঈম আহমেদ রিয়াদ জানান, রোববার তার কন্যা সন্তান জন্ম হয়েছে। মা ও মেয়ে ভালই আছে।

মদন উপজেলার নির্বাহী অফিসার বুলবুল আহমেদ মোবাইল ফোনে জানান, গত ১৫ দিন আগে আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি মদনে ওই ভারসাম্যহীন কিশোরীর অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি জেনে তাকে ডাক্তারি পরীক্ষাসহ সব দায়িত্ব নিয়েছি। রোববার তার একটি কন্যা সন্তান হয়েছে। তার পরিবারে মা আছে তিনিও প্রতিবন্ধী। সংসারটি দেখার কেউ নেই। তবে অনেকেই বাচ্চাটিকে দত্তক নিতে চাচ্ছেন। এটি আইনের বিষয়। তাই পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাকে দেখাশোনা করার জন্য আপাতত এক নারীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।