ঢাকা ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সম্প্রীতি বজায় রেখে নেতাদের রাজনীতি করার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের টাকা ছাপিয়ে ঋণ নয়, প্রাইভেট সেক্টরকে রক্ষা করাই নীতি: অর্থমন্ত্রী ২-৩ বছরের মধ্যে শিক্ষার নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন সম্ভব : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হকারদের পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘ফেলুদা’খ্যাত অভিনেতা বিপ্লব মারা গেছেন আচরণবিধি লঙ্ঘনে শাস্তি পেলেন নাহিদা-শারমিন পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে কাজ করছে সরকার : অর্থমন্ত্রী কুমিল্লায় মহাসড়কের পাশে মিলল কাস্টমস কর্মকর্তার রক্তাক্ত মরদেহ অর্থনীতি মজবুত করতে প্রাণিসম্পদ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী হাজার চেষ্টা করলেও আ.লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির

বাংলাদেশের অবস্থা ভারতের মতো হতে পারে: ডা. লেলিন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা ভাইরাসে ভারতের চিত্র বাংলাদেশে পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন হেলথ অ্যান্ড হোপ স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী।

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) এক স্বাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, করোনা ভাইরাসের বর্তমান ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ‘লকডাউন’ শিথিলে খুব সহজেই বলা যায় করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে মৃত্যুর সংখ্যাও আরও বাড়বে। হাসপাতালগুলো ইতোমধ্যে প্রায় পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে। অচিরেই হয়তো হাসপাতালে আর কোনো শয্যা খালি থাকবে না। অক্সিজেনের অভাবে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাবে। ইতোমধ্যেই যশোরে আমরা গাছের নিচে মানুষকে অক্সিজেন নিতে দেখেছি। সেই অবস্থা সারাদেশে হতে পারে। অর্থাৎ কিছুদিন আগে করোনায় ভারতের যে চিত্র আমরা দেখেছিলাম, সেই চিত্রের পুনরাবৃত্তি বাংলাদেশে ঘটতে পারে বলে আমাদের আশঙ্কা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা সবাই জানি করোনা একটি ভাইরাস বাহিত রোগ। এই ভাইরাস বাহিত রোগকে নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধ করতে হবে স্বাস্থ্যবিজ্ঞানে যে চিকিৎসা এবং নিয়মকানুন রয়েছে সেগুলো দিয়ে। সেই দৃষ্টিকোন থেকে যখন সংক্রমণ ঊর্ধ্বগামী পৃথিবীব্যাপী প্রমাণিত এবং একটি স্বীকৃত পন্থা হচ্ছে ‘লকডাউনের’ মধ্য দিয়ে জনগণের চলাচলকে সীমিত করে, টেস্টের সংখ্যা বাড়িয়ে ভাইরাস বাহিত মানুষগুলোকে শনাক্ত করে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা। যেটাকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘লকডাউন’ বলা হয়। বাংলাদেশের সেই অর্থে ‘লকডাউন’ কখনোই আরোপ করা হয়নি। বাংলাদেশ কিছু খোলা কিছু বন্ধ টাইপের লকডাউন আরোপ করা হয়েছে। সংক্রমণের বর্তমান ঊর্ধ্বগতিতে প্রয়োজন ছিল আন্তর্জাতিকভাবে যে ‘লকডাউন’ সেটি আরোপ করা। সেটি না করে শিথিল করে দেওয়া মূলত একটি অবনতিশীল ভয়াবহ অবস্থার তৈরি করবে। করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যু বাড়বে। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনে বিজ্ঞানভিত্তিক কোনো যুক্তি রয়েছে বলে মনে হয় না, সম্ভবত এটি একটি সাধারণ আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের প্রতিফলন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশের অবস্থা ভারতের মতো হতে পারে: ডা. লেলিন

আপডেট সময় ০৭:৪৮:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনা ভাইরাসে ভারতের চিত্র বাংলাদেশে পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন হেলথ অ্যান্ড হোপ স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী।

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) এক স্বাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, করোনা ভাইরাসের বর্তমান ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ‘লকডাউন’ শিথিলে খুব সহজেই বলা যায় করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে মৃত্যুর সংখ্যাও আরও বাড়বে। হাসপাতালগুলো ইতোমধ্যে প্রায় পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে। অচিরেই হয়তো হাসপাতালে আর কোনো শয্যা খালি থাকবে না। অক্সিজেনের অভাবে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাবে। ইতোমধ্যেই যশোরে আমরা গাছের নিচে মানুষকে অক্সিজেন নিতে দেখেছি। সেই অবস্থা সারাদেশে হতে পারে। অর্থাৎ কিছুদিন আগে করোনায় ভারতের যে চিত্র আমরা দেখেছিলাম, সেই চিত্রের পুনরাবৃত্তি বাংলাদেশে ঘটতে পারে বলে আমাদের আশঙ্কা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা সবাই জানি করোনা একটি ভাইরাস বাহিত রোগ। এই ভাইরাস বাহিত রোগকে নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধ করতে হবে স্বাস্থ্যবিজ্ঞানে যে চিকিৎসা এবং নিয়মকানুন রয়েছে সেগুলো দিয়ে। সেই দৃষ্টিকোন থেকে যখন সংক্রমণ ঊর্ধ্বগামী পৃথিবীব্যাপী প্রমাণিত এবং একটি স্বীকৃত পন্থা হচ্ছে ‘লকডাউনের’ মধ্য দিয়ে জনগণের চলাচলকে সীমিত করে, টেস্টের সংখ্যা বাড়িয়ে ভাইরাস বাহিত মানুষগুলোকে শনাক্ত করে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা। যেটাকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘লকডাউন’ বলা হয়। বাংলাদেশের সেই অর্থে ‘লকডাউন’ কখনোই আরোপ করা হয়নি। বাংলাদেশ কিছু খোলা কিছু বন্ধ টাইপের লকডাউন আরোপ করা হয়েছে। সংক্রমণের বর্তমান ঊর্ধ্বগতিতে প্রয়োজন ছিল আন্তর্জাতিকভাবে যে ‘লকডাউন’ সেটি আরোপ করা। সেটি না করে শিথিল করে দেওয়া মূলত একটি অবনতিশীল ভয়াবহ অবস্থার তৈরি করবে। করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যু বাড়বে। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনে বিজ্ঞানভিত্তিক কোনো যুক্তি রয়েছে বলে মনে হয় না, সম্ভবত এটি একটি সাধারণ আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের প্রতিফলন।