আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
রাজধানীর ভাটারা এলাকায় গৃহপরিচারিকা কুলসুমা আক্তারকে নির্যাতনের মামলায় অভিযুক্ত গৃহকর্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১। তারা নাম মাহফুজা রহমান।
রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাহফুজাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে শনিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে র্যাব-১।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে একই অভিযোগে মূল আসামি আসাদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ভাটারা থানা পুলিশ।
র্যাবের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৩০ জুন ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে ভাটারা থানার কুড়িল বিশ^রোড এলাকায় মোহাম্মদ আসাদুর রহমান তার বাসার গৃহকর্মী কুলসুমা আক্তারকে অসুস্থ অবস্থায় তার বোন ফাতেমা বেগমের কাছে দিয়ে চলে যান। তখন কুলসুমা আক্তারের বোন ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আগুনে পোড়া ক্ষতসহ বিভিন্ন দাগ দেখতে পান। পরবর্তী সময়ে ফাতেমা তার বোনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে ভাটারা থানায় একটি মামলা করেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গৃহকর্মীকে এই নির্মম নির্যাতনের ঘটনাটি বর্ণিত এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন টেলিভিশন ও সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়। এই ঘটনার পর র্যাবের সদরদপ্তরের গোয়েন্দা শাখা তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত শুরু করে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে র্যাব-১ এবং র্যাবের গোয়েন্দা শাখার একটি দল ভাটারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত গৃহকর্ত্রী মাহফুজা রহমানকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত মাহফুজা রহমানের বরাত দিয়ে র্যাব জানায়, তিনি গহকর্মী কুলসুমা আক্তারকে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছেন।
র্যাব জানায়, ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর কুলসুমা আক্তার মাহফুজা রহমানের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করে। কুলসুমা ওই বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করার পর থেকে সামান্য বিষয়ে মাহফুজা ও তার স্বামী তাকে মারধর করতেন। কাজে সামান্য ভুল করলেই তারা কুলসুমাকে লাঠি দিয়ে মারধর, প্লাস দিয়ে চুল ধরে টান দেয়া, রান্নার কাজে ব্যবহৃত খুন্তি আগুনে জ্বালিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত করাসহ বিভিন্ন উপায়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন।
গত ১৫ জুন সকাল ১০টার দিকে বাসায় ঘর পরিষ্কার করতে দেরি হওয়ায় মাহফুজার স্বামী মোহাম্মদ আসাদুর রহমান লাঠি দিয়ে কুলসুমার পায়ের উরুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। এছাড়াও মাহফুজা রহমান কুলসুমার চুলের মুঠি ধরে মারধর করতে থাকেন। মারধরের একপর্যায়ে আসাদুর রহমান গ্যাসের চুলার আগুনে রড় গরম করে কুলসুমার ডান পায়ের হাঁটুর নিচের অংশে চেপে ধরেন এবং মাহফুজা রহমান তার হাত গরম পানিতে চেপে ধরেন। এতে তার হাঁটুর নিচে আগুনে পোড়া ক্ষতের সৃষ্টি হয় এবং হাতের তালুতে ফোস্কা পড়ে। এরকম শারীরিক নির্যাতনের ফলে কুলসুমা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই দম্পতি কুলসুমাকে তার বোনের কাছে পাঠিয়ে দেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























