ঢাকা ০৩:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ক্রীড়ার বিকল্প নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী যেকোনো দুর্যোগে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে: জুবাইদা রহমান নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান রিজভীর ভাইরাল ভিডিওর নারীকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি জামায়াত এমপির প্রবাসী কার্ডধারীদের ভূমি সেবা সহজ করতে ভূমিমন্ত্রীর নির্দেশ মানবতাবিরোধী অপরাধে মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ নারায়ণগঞ্জে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৮ রাজধানীতে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড সাইবার বুলিং শক্ত হাতে দমনে সরকার বদ্ধপরিকর: তথ্য উপদেষ্টা মুন্সীগঞ্জে চাচাতো ভাইকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেফতার

দাদির লাশ দেখতে গিয়ে মা-বাবা দুই বোনের লাশ নিয়ে ফিরছে শিশু মিম

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার দোতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মা-বাবা ও দুই বোনের লাশ দেখে কাঁদছিলেন ৯ বছর বয়সী শিশু মিম। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার কেউ নেই। স্বজন হারানোর কান্না থামছেই না।

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ির বাংলাবাজার নৌপথে দুই নৌযানের দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মিম। দুর্ঘটনায় তার বাবা মনির মিয়া, মা হেনা বেগম, বোন সুমী ও রুমি প্রাণ হারিয়েছেন।

মিমের বাড়ি খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার পারুখালি এলাকায়। মিমের বাবা নিহত মনির মিয়া তার পরিবার নিয়ে থাকতেন ঢাকার মিরপুরে। সেখানে টেইলার্সের দোকান তার।

রোববার দুপুরে মিমের দাদি মারা যান। দাদির নাম বলতে পারছে না মিম। দাদির লাশ দেখতে গ্রামে যাচ্ছিল মিমের পরিবার। সকাল পৌনে ৭টার দিকে অন্তত ৩২ যাত্রী নিয়ে স্পিডবোট শিমুলিয়া ঘাট থেকে শিবচরের বাংলাবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বাংলাবাজার ঘাটে নোঙর করা বালুবোঝাই শিফান শায়হান নামের বালুভর্তি বাল্কহেডে ধাক্কা খায় স্পিডবোটটি। এতে ঘটনাস্থলেই ২৬ যাত্রী প্রাণ হারান।

স্থানীয় লোকজন পাঁচ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। ফায়ার সার্ভিস ও নৌপুলিশ কর্মীরা লাশ উদ্ধার করে কাঁঠালবাড়ির ইয়াছিন মাদবরকান্দি গ্রামের দোতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে রাখেন। দাদির লাশ দেখতে যাচ্ছিল মেয়েটি। এখন মা-বাবা দুই বোনের লাশ নিয়ে তাকে ফিরতে হচ্ছে।

মৃত ২৬ জনের মধ্যে আছেন মিমের পরিবারের চারজন। আর জীবিত উদ্ধার হন মিম। প্রথমে আহত অবস্থায় মিমকে পাচ্চর রয়েল হাসপাতালে নেয়া হয়। একটু সুস্থ হলে দোতরা স্কুলের মাঠে আনা হয় মিমকে। মা, বাবা, দুই বোন নেই জেনে তার কান্না আর থামছিল না।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে যান শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান। তিনি লাশের সারি থেকে মিমের মাধ্যমে মনির, হেনা, সুমী ও রুমির লাশ শনাক্ত করেন।

ইউএনও আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের খরচে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে মিমসহ নিহত মনির, হেনা, সুমি ও রুমির মরদেহ তাদের নিজ বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ক্রীড়ার বিকল্প নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

দাদির লাশ দেখতে গিয়ে মা-বাবা দুই বোনের লাশ নিয়ে ফিরছে শিশু মিম

আপডেট সময় ১০:৫৮:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ মে ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার দোতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মা-বাবা ও দুই বোনের লাশ দেখে কাঁদছিলেন ৯ বছর বয়সী শিশু মিম। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার কেউ নেই। স্বজন হারানোর কান্না থামছেই না।

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ির বাংলাবাজার নৌপথে দুই নৌযানের দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মিম। দুর্ঘটনায় তার বাবা মনির মিয়া, মা হেনা বেগম, বোন সুমী ও রুমি প্রাণ হারিয়েছেন।

মিমের বাড়ি খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার পারুখালি এলাকায়। মিমের বাবা নিহত মনির মিয়া তার পরিবার নিয়ে থাকতেন ঢাকার মিরপুরে। সেখানে টেইলার্সের দোকান তার।

রোববার দুপুরে মিমের দাদি মারা যান। দাদির নাম বলতে পারছে না মিম। দাদির লাশ দেখতে গ্রামে যাচ্ছিল মিমের পরিবার। সকাল পৌনে ৭টার দিকে অন্তত ৩২ যাত্রী নিয়ে স্পিডবোট শিমুলিয়া ঘাট থেকে শিবচরের বাংলাবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বাংলাবাজার ঘাটে নোঙর করা বালুবোঝাই শিফান শায়হান নামের বালুভর্তি বাল্কহেডে ধাক্কা খায় স্পিডবোটটি। এতে ঘটনাস্থলেই ২৬ যাত্রী প্রাণ হারান।

স্থানীয় লোকজন পাঁচ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। ফায়ার সার্ভিস ও নৌপুলিশ কর্মীরা লাশ উদ্ধার করে কাঁঠালবাড়ির ইয়াছিন মাদবরকান্দি গ্রামের দোতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে রাখেন। দাদির লাশ দেখতে যাচ্ছিল মেয়েটি। এখন মা-বাবা দুই বোনের লাশ নিয়ে তাকে ফিরতে হচ্ছে।

মৃত ২৬ জনের মধ্যে আছেন মিমের পরিবারের চারজন। আর জীবিত উদ্ধার হন মিম। প্রথমে আহত অবস্থায় মিমকে পাচ্চর রয়েল হাসপাতালে নেয়া হয়। একটু সুস্থ হলে দোতরা স্কুলের মাঠে আনা হয় মিমকে। মা, বাবা, দুই বোন নেই জেনে তার কান্না আর থামছিল না।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে যান শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান। তিনি লাশের সারি থেকে মিমের মাধ্যমে মনির, হেনা, সুমী ও রুমির লাশ শনাক্ত করেন।

ইউএনও আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের খরচে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে মিমসহ নিহত মনির, হেনা, সুমি ও রুমির মরদেহ তাদের নিজ বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।