ঢাকা ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

দাদির লাশ দেখতে গিয়ে মা-বাবা দুই বোনের লাশ নিয়ে ফিরছে শিশু মিম

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার দোতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মা-বাবা ও দুই বোনের লাশ দেখে কাঁদছিলেন ৯ বছর বয়সী শিশু মিম। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার কেউ নেই। স্বজন হারানোর কান্না থামছেই না।

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ির বাংলাবাজার নৌপথে দুই নৌযানের দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মিম। দুর্ঘটনায় তার বাবা মনির মিয়া, মা হেনা বেগম, বোন সুমী ও রুমি প্রাণ হারিয়েছেন।

মিমের বাড়ি খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার পারুখালি এলাকায়। মিমের বাবা নিহত মনির মিয়া তার পরিবার নিয়ে থাকতেন ঢাকার মিরপুরে। সেখানে টেইলার্সের দোকান তার।

রোববার দুপুরে মিমের দাদি মারা যান। দাদির নাম বলতে পারছে না মিম। দাদির লাশ দেখতে গ্রামে যাচ্ছিল মিমের পরিবার। সকাল পৌনে ৭টার দিকে অন্তত ৩২ যাত্রী নিয়ে স্পিডবোট শিমুলিয়া ঘাট থেকে শিবচরের বাংলাবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বাংলাবাজার ঘাটে নোঙর করা বালুবোঝাই শিফান শায়হান নামের বালুভর্তি বাল্কহেডে ধাক্কা খায় স্পিডবোটটি। এতে ঘটনাস্থলেই ২৬ যাত্রী প্রাণ হারান।

স্থানীয় লোকজন পাঁচ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। ফায়ার সার্ভিস ও নৌপুলিশ কর্মীরা লাশ উদ্ধার করে কাঁঠালবাড়ির ইয়াছিন মাদবরকান্দি গ্রামের দোতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে রাখেন। দাদির লাশ দেখতে যাচ্ছিল মেয়েটি। এখন মা-বাবা দুই বোনের লাশ নিয়ে তাকে ফিরতে হচ্ছে।

মৃত ২৬ জনের মধ্যে আছেন মিমের পরিবারের চারজন। আর জীবিত উদ্ধার হন মিম। প্রথমে আহত অবস্থায় মিমকে পাচ্চর রয়েল হাসপাতালে নেয়া হয়। একটু সুস্থ হলে দোতরা স্কুলের মাঠে আনা হয় মিমকে। মা, বাবা, দুই বোন নেই জেনে তার কান্না আর থামছিল না।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে যান শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান। তিনি লাশের সারি থেকে মিমের মাধ্যমে মনির, হেনা, সুমী ও রুমির লাশ শনাক্ত করেন।

ইউএনও আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের খরচে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে মিমসহ নিহত মনির, হেনা, সুমি ও রুমির মরদেহ তাদের নিজ বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

দাদির লাশ দেখতে গিয়ে মা-বাবা দুই বোনের লাশ নিয়ে ফিরছে শিশু মিম

আপডেট সময় ১০:৫৮:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ মে ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার দোতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মা-বাবা ও দুই বোনের লাশ দেখে কাঁদছিলেন ৯ বছর বয়সী শিশু মিম। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার কেউ নেই। স্বজন হারানোর কান্না থামছেই না।

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ির বাংলাবাজার নৌপথে দুই নৌযানের দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মিম। দুর্ঘটনায় তার বাবা মনির মিয়া, মা হেনা বেগম, বোন সুমী ও রুমি প্রাণ হারিয়েছেন।

মিমের বাড়ি খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার পারুখালি এলাকায়। মিমের বাবা নিহত মনির মিয়া তার পরিবার নিয়ে থাকতেন ঢাকার মিরপুরে। সেখানে টেইলার্সের দোকান তার।

রোববার দুপুরে মিমের দাদি মারা যান। দাদির নাম বলতে পারছে না মিম। দাদির লাশ দেখতে গ্রামে যাচ্ছিল মিমের পরিবার। সকাল পৌনে ৭টার দিকে অন্তত ৩২ যাত্রী নিয়ে স্পিডবোট শিমুলিয়া ঘাট থেকে শিবচরের বাংলাবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বাংলাবাজার ঘাটে নোঙর করা বালুবোঝাই শিফান শায়হান নামের বালুভর্তি বাল্কহেডে ধাক্কা খায় স্পিডবোটটি। এতে ঘটনাস্থলেই ২৬ যাত্রী প্রাণ হারান।

স্থানীয় লোকজন পাঁচ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। ফায়ার সার্ভিস ও নৌপুলিশ কর্মীরা লাশ উদ্ধার করে কাঁঠালবাড়ির ইয়াছিন মাদবরকান্দি গ্রামের দোতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে রাখেন। দাদির লাশ দেখতে যাচ্ছিল মেয়েটি। এখন মা-বাবা দুই বোনের লাশ নিয়ে তাকে ফিরতে হচ্ছে।

মৃত ২৬ জনের মধ্যে আছেন মিমের পরিবারের চারজন। আর জীবিত উদ্ধার হন মিম। প্রথমে আহত অবস্থায় মিমকে পাচ্চর রয়েল হাসপাতালে নেয়া হয়। একটু সুস্থ হলে দোতরা স্কুলের মাঠে আনা হয় মিমকে। মা, বাবা, দুই বোন নেই জেনে তার কান্না আর থামছিল না।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে যান শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান। তিনি লাশের সারি থেকে মিমের মাধ্যমে মনির, হেনা, সুমী ও রুমির লাশ শনাক্ত করেন।

ইউএনও আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের খরচে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে মিমসহ নিহত মনির, হেনা, সুমি ও রুমির মরদেহ তাদের নিজ বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।