ঢাকা ১১:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতীয় পতাকা আমাকে প্রতি মুহূর্তে সততা-দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয় আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে গান গাওয়ায় ১৭ শিক্ষার্থীকে পেটালেন শিক্ষক গাজী নজরুলের আরেকটি ভিডিও ভাইরাল, ‘নতুন তরুণীকে’ ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপ, যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তিন দাবিতে শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সুফিবাদী সুন্নি মহাসমাবেশ ১১২ টাকায় সরকারি চাকরি সরকারের স্বচ্ছতার নিদর্শন: ত্রাণমন্ত্রী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম লাইফ সাপোর্টে সরকারের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ককরোচ জনতা পার্টির চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করলো বিজিবি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা চলছে

ইমামের ধর্ষণে মাদ্রাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, মিথ্যা প্রতিবেদন দেয়ার অভিযোগ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ইমাম কর্তৃক মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলায় ছাত্রীর বাবা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করেছেন।

মামলার বাদী বলেন, পিবিআই প্রভাবিত হয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়ে আমার নির্যাতিতা কন্যা ও আমার পরিবারকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে।

জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার বিশারাবাড়ী গ্রামের মসজিদের ইমাম মাওলানা ওবায়দুল্লাহ (৫০) ওই গ্রামের এক মাদ্রাসাছাত্রীকে আরবি পড়ানোর অজুহাতে ২০১৯ সালের ২৫ ডিসেম্বর তাকে ও তার মা-বাবাকে হত্যার ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ফলে ওই মাদ্রাসাছাত্রী প্রায় ৪-৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

বিষয়টি ওই ছাত্রী হুজুরকে জানালে গত বছরের ২৩ জুলাই হুজুর মিথ্যা কথা বলে তাকে দুটি গর্ভপাতের ট্যাবলেট খাওয়ায়। এতে ওই ছাত্রীর প্রসব ব্যথা শুরু হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক নার্সকে দিয়ে তার একটি মৃতসন্তান প্রসব হয়। ঘটনা জানাজানি হলে পরে গ্রাম্যসালিশ বসে। সালিশের পূর্বেই কতিপয় সরদার ইমামকে গোপনে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে। ধর্ষিতার পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়।

পরে বাদী এ বিষয়ে কসবা থানায় অভিযোগ দিলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জিহাদ দেওয়ানের সময়ক্ষেপণের কারণে নিরুপায় হয়ে ধর্ষিতার পিতা ব্রাহ্মণবাড়িয়া (কসবা) আদালতে গত বছরের ৯ আগস্ট মামলা করেন। আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলা তদন্ত করেন পিবিআইয়ের এসআই ফরিদুল আলম।

পিবিআই চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। মামলার বাদী অভিযোগ করে বলেন, আদালত ধর্ষিতার ২২ ধারা জবানবন্দি রেকর্ড করে এবং ডাক্তারি পরীক্ষা করায়। ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেলেও পিবিআই তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফরিদুল আলম প্রভাবিত হয়ে মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মিথ্যা তথ্য সংবলিত প্রতিবেদন দেন।

তদন্ত কর্মকর্তা বিজ্ঞ আদালতে মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়ে আমাকে ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত করেছেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, তিনি ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় তদন্ত রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে মামলাটি সরাসরি আমলে নেয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মহিলা পরিষদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন জানান, আমরা এ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়েছি। অনাস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

এ বিষয়ে জানতে তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই ফরিদুল আলমের মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় পতাকা আমাকে প্রতি মুহূর্তে সততা-দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়

ইমামের ধর্ষণে মাদ্রাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, মিথ্যা প্রতিবেদন দেয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় ০৯:৪৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ইমাম কর্তৃক মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলায় ছাত্রীর বাবা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করেছেন।

মামলার বাদী বলেন, পিবিআই প্রভাবিত হয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়ে আমার নির্যাতিতা কন্যা ও আমার পরিবারকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে।

জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার বিশারাবাড়ী গ্রামের মসজিদের ইমাম মাওলানা ওবায়দুল্লাহ (৫০) ওই গ্রামের এক মাদ্রাসাছাত্রীকে আরবি পড়ানোর অজুহাতে ২০১৯ সালের ২৫ ডিসেম্বর তাকে ও তার মা-বাবাকে হত্যার ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ফলে ওই মাদ্রাসাছাত্রী প্রায় ৪-৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

বিষয়টি ওই ছাত্রী হুজুরকে জানালে গত বছরের ২৩ জুলাই হুজুর মিথ্যা কথা বলে তাকে দুটি গর্ভপাতের ট্যাবলেট খাওয়ায়। এতে ওই ছাত্রীর প্রসব ব্যথা শুরু হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক নার্সকে দিয়ে তার একটি মৃতসন্তান প্রসব হয়। ঘটনা জানাজানি হলে পরে গ্রাম্যসালিশ বসে। সালিশের পূর্বেই কতিপয় সরদার ইমামকে গোপনে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে। ধর্ষিতার পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়।

পরে বাদী এ বিষয়ে কসবা থানায় অভিযোগ দিলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জিহাদ দেওয়ানের সময়ক্ষেপণের কারণে নিরুপায় হয়ে ধর্ষিতার পিতা ব্রাহ্মণবাড়িয়া (কসবা) আদালতে গত বছরের ৯ আগস্ট মামলা করেন। আদালত মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলা তদন্ত করেন পিবিআইয়ের এসআই ফরিদুল আলম।

পিবিআই চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। মামলার বাদী অভিযোগ করে বলেন, আদালত ধর্ষিতার ২২ ধারা জবানবন্দি রেকর্ড করে এবং ডাক্তারি পরীক্ষা করায়। ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেলেও পিবিআই তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফরিদুল আলম প্রভাবিত হয়ে মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মিথ্যা তথ্য সংবলিত প্রতিবেদন দেন।

তদন্ত কর্মকর্তা বিজ্ঞ আদালতে মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়ে আমাকে ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত করেছেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, তিনি ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় তদন্ত রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে মামলাটি সরাসরি আমলে নেয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মহিলা পরিষদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন জানান, আমরা এ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়েছি। অনাস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

এ বিষয়ে জানতে তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই ফরিদুল আলমের মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।