আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:
একদিন আগেও আব্দুর রাজ্জাক ছিলেন ক্রিকেটার। আর এখন তিনি ‘সাবেক ক্রিকেটার’।
বিষয়টা যত সহজ ভাবা হচ্ছে, সদ্য সাবেক বাঁহাতি স্পিনারের নিজের কাছে তা মোটেও সহজ নয়। দীর্ঘদিন খেলাটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যার শুরু সেই ১৯৯৪ সালে। বিদায়বেলার তাই স্বাভাবিকভাবেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেন তিনি।
শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টার সংলগ্ন ১নং প্লাজায় ‘পিচ ফাউন্ডেশন’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই খেলোয়াড়ি জীবনকে বিদায় বলে দেন আব্দুর রাজ্জাক ও নাফিস। তবে এখান থেকে শুরু হচ্ছে তাদের নতুন পথচলা। রাজ্জাক যোগ দিচ্ছেন জাতীয় দলের নির্বাচক হিসেবে। আর নাফিস যুক্ত হচ্ছেন বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার হিসেবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, এমপি। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তা ও ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোশিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটার ও ক্রীড়া সংগঠক। অনুষ্ঠানে সদ্য সাবেক দুই ক্রিকেটারকা বিদায়ী শুভেচ্ছা জানানো হয়।
বিদায়ের অনুভূতি প্রকাশ করতে বললে রাজ্জাক বলেন, ‘গতকাল পর্যন্ত আমি বলতে পেরেছি আমি ক্রিকেট খেলোয়াড়। এখন থেকে বলতে হবে অন্যকিছু, যা আমার পেশা। হয়ত জিনিসটা সহজে বলতে পারছি, তবে আমার জন্য এত সহজ না। ঘোরের মধ্যে আছি এখনো। ১৯৯৪ সাল থেকে ক্রিকেটের মধ্যে, তখন বিকেএসপিতে ভর্তি হয়েছি। সেই জিনিসটাকে বিদায় বলা… খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। একটা সময় আসলে প্রত্যেক মানুষকেই এক কাজ থেকে অন্য ভূমিকায় যেতে হয়। তারপরও আবেগ বলে যেহেতু একটা কথা আছে আমার মাঝে সেটা খুব কঠিনভাবে কাজ করছে। খুব ভালোভাবে কিছু বলা, গুছিয়ে বলা আমার জন্য একটু কঠিন। ‘
এই দীর্ঘ সময়ে পরিবারের অকুণ্ঠ সমর্থনের কথা স্মরণ করে রাজ্জা বলেন, ‘পরিবারকে সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ জানাই। এত কম বয়সে বিকেএসপিতে ভর্তি হতে চেয়েছি, তারা রাজি হয়েছে। সাধারণত তার আগে খেলতে গেলে আমরা বকা খেতাম। যত খেলাই খেলেছি সবকিছুতে সাপোর্ট করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় জাতীয় দলে সুযোগ পেলাম। জাতীয় দলে সুযোগ পেলে তো পরিবারের আর কোনো আপত্তি থাকে না। প্রত্যেক সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে নিতাম। আবার তারাও সিদ্ধান্ত গ্রহণে কখনো আমাকে বাধা দেননি।
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে সফল বোলার রাজ্জাক। জাতীয় দলে অনিয়মিত হয়ে যাওয়ার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত ছিলেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই ঘরোয়া ক্রিকেটকে মিস করবেন বলে জানালেন রাজ্জাক, ‘আশা করব আমার চেয়েও বেশি অভিজ্ঞ হয়ে কেউ খেলবে, পারফর্ম করবে, জাতীয় দলে আসবে। এটা না হলে ক্রিকেটের জন্য ভালো কিছু হবে না। আশা করব যেন ওরকম হয়। মিস করার কথা যদি বলেন…আমার এই ক্যারিয়ার জীবনের সবচেয়ে বিশেষ জিনিস। এটা আসলে ভোলার মতো না। প্রত্যেক ধাপে ধাপে মনে পড়বে… মিস করব না ঠিক, স্মরণীয় থাকবে। মিস তখন করতাম যদি জোরপূর্বক হয়ে যেত। এটা জোরপূর্বক না, আমারই সিদ্ধান্ত। মিস করা মানে এই নয় যে থাকলে ভালো হতো। থাকলে ভালো হতো এটা আমি আর বলবো না, ইনশাআল্লাহ। ‘
আনুষ্ঠানিক বিদায় নেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় কৃতজ্ঞ রাজ্জাক বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক টেস্ট ক্রিকেটার ছিলেন। অনেকে এই সুযোগটাও পাননি। আমরা আশা করব এরকম প্রচলন আস্তে আস্তে তৈরি হবে যেন আমরা মাঠ থেকে বিদায় নিতে পারি। দেশের জন্য যে এতকিছু করছে। জাতীয় দলে খেলা কিন্তু বিশাল ত্যাগের ব্যাপার। আপনাদের (সাংবাদিক) জন্যও ত্যাগের ব্যাপার। কারণ আমরা যতক্ষণ খেলি ততক্ষণ আপনারাও মাঠে থাকেন। এভাবে বিদায় নেওয়াটা… ভালোর শেষ নেই। ভালো হচ্ছে মাঠ থেকে। আগে তো এরকম সুযোগও আসত না। হঠাৎ করে একজন খেলোয়াড় বলত আর খেলবে না। কেউ হয়ত জানতও না সে যে আর খেলবে না। এখন অন্তত মানুষ জানতে পারছে। এরপর থেকে আমাদের আশা থাকবে মাঠ থেকে বিদায় নেওয়ার প্রত্যাশা যেন থাকে.। ‘
ক্যারিয়ারে নিয়ে কোনো হতাশা বা আক্ষেপ আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি হতাশ না। আমি আমার পুরো ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো হতাশা নেই, এটা নিয়েও নেই। শুরু যেভাবে হয়েছে আমি খুশি ছিলাম, মাঝখানে যেমন চলেছে তাতে খুশির চেয়েও বেশি, আর শেষ যেভাবে হচ্ছে তাতেও আমি খুশি। ‘
বাংলাদেশের একমাত্র বোলার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৬০০ উইকেট শিকারের কৃতিত্বের অধিকারী রাজ্জাক জাতীয় দলের জার্সিতে ১৩ টেস্ট খেলে ২৮ উইকেট, ১৫৩ ওয়ানডেতে ২০৭ উইকেট এবং ৩৪টি টি-টোয়েন্টি খেলে নিয়েছেন ৪৩ উইকেট। তিনি প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০০ উইকেট নেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























