ঢাকা ১২:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান অবিলম্বে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ প্রতারণা করে অর্থ আদায়, ৫১ হাজার সিমসহ ৫ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশকে অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি

দাদার স্মৃতি আঁকড়ে অভিনয়শিল্পী হতে চায় লুবাবা

আকাশ বিনোদন ডেস্ক : 

সিমরিন লুবাবার জন্ম সংস্কৃতিমনা পরিবারে। তার দাদা প্রখ্যাত মঞ্চ ও টেলিভিশন অভিনেতা আব্দুল কাদের।

দাদার অনুপ্রেরণায় খুব ছোট বয়সে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ায় ছোট্ট লুবাবা। সে থেকে শিশুশিল্পী হিসেবে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। নিয়মিতই কাজ করে যাচ্ছে বিজ্ঞাপনে।

প্রথমদিকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে খানিকটা ভয় লাগলেও দাদা আব্দুল কাদেরের উৎসাহে এখন আর তার ভয় করে না বলেও জানায় সে। লুবাবার কথায়, ‘প্রথমে একটু একটু ভয় পেতাম। কিন্তু দাদা আমাকে শিখিয়ে দিয়েছেন, বুঝিয়ে দিয়েছেন- কীভাবে কাজ করতে হয়। তাই এখন শুটিং করতে খুব সাহস পাই। একদম ভয় করে না’।

বিএএফ শাহীন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী লুবাবা। কেজিতে পড়ার সময় প্রথম শিশুশিল্পী হিসেবে বিজ্ঞাপনের মডেল হয় সে। এরপর গত বছর একটি শর্টফিল্মে কাজ করেছে। যেখানে সে পার্কে ফুল বিক্রেতা এক শিশুর চরিত্রে অভিনয় করেছে। তার ভাষ্যে, ‘গরীব শিশুদের দেখলে আমার খুব খারাপ লাগে। তারা কত কষ্ট করে, পড়াশোনা করতে পারে না। তাদের কষ্টটাকে শর্টফিল্মটার মাধ্যমে আমি তুলে ধরেছি। এ ধরনের কাজ করে আমার খুব ভালো লাগে’।

ভবিষ্যতে বহু কাজ করার ইচ্ছা আছে লুবাবার। কিন্তু একটি অপ্রাপ্তি তাকে খুব কষ্ট দেয়। যেটা সে আর কখনো পূরণ করতে পারবে না। লুবাবার কথায়, ‘দাদা বলেছিলেন, তার সঙ্গে আমিও কাজ করব, কিন্তু আমার প্রাণের দাদা তো এখন আর নেই। তাই আর কোনোদিন তার সঙ্গে শুটিং করতে পারবো না। তাকে অনেক মনে পড়ে। আমার ইচ্ছা দাদার মতো অভিনয়শিল্পী হবো’।

ভালো ও পছন্দের গল্প হলে নিয়মিত অভিনয় করবে বলে জানায় লুবাবা। তবে আপাতত সেটা খুব বেশি না। কারণ পড়াশোনায় ভালো করার তার প্রবল ইচ্ছা।

লুবাবা বলে, ‘দাদাকে আমি তার পছন্দের অনেক গান গেয়ে শোনাতাম। সবচেয়ে বেশি শোনাতাম- দামা দাম মাস্ত কালান্দার-এটা ওনার খুব প্রিয় ছিল। আরও অন্য বাংলা, ইংরেজি এবং হিন্দি গান শোনাতাম। তিনি চাইতেন আমি যেন সিঙ্গার হই। তাই বড় হয়ে দাদার ইচ্ছায় সিঙ্গার হতে চাই, আরও ইচ্ছা আছে পড়াশোনা করে পাইলট হবো’।

মেয়ের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিতে চায় সিমরিন লুবাবার মা জাহিদা ইসলাম। তিনি জানান, লুবাবা পড়াশোনায় অনেক ভালো। কোনো কিছু একবার পড়লে সে দ্রুত সেটা মুখস্থ করে ফেলতে পারে। তাছাড়া একবার কোনো কিছু তাকে দেখিয়ে দিলে সেটা আর সহজে ভোলে না সে। তাই মেয়ের ইচ্ছায় তাকে পাইলট বানাতে বিদেশে পড়াতে চান তিনি।

দাদার চলে যাওয়ার কষ্টের কথা বলতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত লুবাবা বলে, ‘আমি জানি দুনিয়া থেকে সবাইকে চলে যেতে হবে, কাউকে আগে যেতে হবে কাউকে পরে যেতে হবে। দাদার ছবির দিকে তাকালে মনে হয় তিনি আমাকে বলছেন- কীরে কানছো কেনো? কী হয়েছে?’

গত বছর ভারতের রাজস্থান সরকারের করোনা নিয়ে জনসচেতনতামূলক একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হয়েছে সিমরিন লুবাবা। রাজস্থানের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও সামাজিক মাধ্যমে সেটি প্রচার হয়েছে। একটি তামিল সিনেমাতেও অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিল সে। কিন্তু সেটা তার করা হয়নি। তবে সামনের দিনগুলোতে মনের মতো কাজ পেলে সিনেমায় কাজ করবে বলে জানায় প্রয়াত আব্দুল কাদেরের নাতনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দাদার স্মৃতি আঁকড়ে অভিনয়শিল্পী হতে চায় লুবাবা

আপডেট সময় ১১:৫৫:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১

আকাশ বিনোদন ডেস্ক : 

সিমরিন লুবাবার জন্ম সংস্কৃতিমনা পরিবারে। তার দাদা প্রখ্যাত মঞ্চ ও টেলিভিশন অভিনেতা আব্দুল কাদের।

দাদার অনুপ্রেরণায় খুব ছোট বয়সে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ায় ছোট্ট লুবাবা। সে থেকে শিশুশিল্পী হিসেবে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। নিয়মিতই কাজ করে যাচ্ছে বিজ্ঞাপনে।

প্রথমদিকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে খানিকটা ভয় লাগলেও দাদা আব্দুল কাদেরের উৎসাহে এখন আর তার ভয় করে না বলেও জানায় সে। লুবাবার কথায়, ‘প্রথমে একটু একটু ভয় পেতাম। কিন্তু দাদা আমাকে শিখিয়ে দিয়েছেন, বুঝিয়ে দিয়েছেন- কীভাবে কাজ করতে হয়। তাই এখন শুটিং করতে খুব সাহস পাই। একদম ভয় করে না’।

বিএএফ শাহীন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী লুবাবা। কেজিতে পড়ার সময় প্রথম শিশুশিল্পী হিসেবে বিজ্ঞাপনের মডেল হয় সে। এরপর গত বছর একটি শর্টফিল্মে কাজ করেছে। যেখানে সে পার্কে ফুল বিক্রেতা এক শিশুর চরিত্রে অভিনয় করেছে। তার ভাষ্যে, ‘গরীব শিশুদের দেখলে আমার খুব খারাপ লাগে। তারা কত কষ্ট করে, পড়াশোনা করতে পারে না। তাদের কষ্টটাকে শর্টফিল্মটার মাধ্যমে আমি তুলে ধরেছি। এ ধরনের কাজ করে আমার খুব ভালো লাগে’।

ভবিষ্যতে বহু কাজ করার ইচ্ছা আছে লুবাবার। কিন্তু একটি অপ্রাপ্তি তাকে খুব কষ্ট দেয়। যেটা সে আর কখনো পূরণ করতে পারবে না। লুবাবার কথায়, ‘দাদা বলেছিলেন, তার সঙ্গে আমিও কাজ করব, কিন্তু আমার প্রাণের দাদা তো এখন আর নেই। তাই আর কোনোদিন তার সঙ্গে শুটিং করতে পারবো না। তাকে অনেক মনে পড়ে। আমার ইচ্ছা দাদার মতো অভিনয়শিল্পী হবো’।

ভালো ও পছন্দের গল্প হলে নিয়মিত অভিনয় করবে বলে জানায় লুবাবা। তবে আপাতত সেটা খুব বেশি না। কারণ পড়াশোনায় ভালো করার তার প্রবল ইচ্ছা।

লুবাবা বলে, ‘দাদাকে আমি তার পছন্দের অনেক গান গেয়ে শোনাতাম। সবচেয়ে বেশি শোনাতাম- দামা দাম মাস্ত কালান্দার-এটা ওনার খুব প্রিয় ছিল। আরও অন্য বাংলা, ইংরেজি এবং হিন্দি গান শোনাতাম। তিনি চাইতেন আমি যেন সিঙ্গার হই। তাই বড় হয়ে দাদার ইচ্ছায় সিঙ্গার হতে চাই, আরও ইচ্ছা আছে পড়াশোনা করে পাইলট হবো’।

মেয়ের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিতে চায় সিমরিন লুবাবার মা জাহিদা ইসলাম। তিনি জানান, লুবাবা পড়াশোনায় অনেক ভালো। কোনো কিছু একবার পড়লে সে দ্রুত সেটা মুখস্থ করে ফেলতে পারে। তাছাড়া একবার কোনো কিছু তাকে দেখিয়ে দিলে সেটা আর সহজে ভোলে না সে। তাই মেয়ের ইচ্ছায় তাকে পাইলট বানাতে বিদেশে পড়াতে চান তিনি।

দাদার চলে যাওয়ার কষ্টের কথা বলতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত লুবাবা বলে, ‘আমি জানি দুনিয়া থেকে সবাইকে চলে যেতে হবে, কাউকে আগে যেতে হবে কাউকে পরে যেতে হবে। দাদার ছবির দিকে তাকালে মনে হয় তিনি আমাকে বলছেন- কীরে কানছো কেনো? কী হয়েছে?’

গত বছর ভারতের রাজস্থান সরকারের করোনা নিয়ে জনসচেতনতামূলক একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হয়েছে সিমরিন লুবাবা। রাজস্থানের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও সামাজিক মাধ্যমে সেটি প্রচার হয়েছে। একটি তামিল সিনেমাতেও অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিল সে। কিন্তু সেটা তার করা হয়নি। তবে সামনের দিনগুলোতে মনের মতো কাজ পেলে সিনেমায় কাজ করবে বলে জানায় প্রয়াত আব্দুল কাদেরের নাতনি।