আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
রাশিয়ায় ফেরার পরই গ্রেপ্তার করা হয়েছে পুতিনের কট্টর সমালোচক এবং প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা অ্যালেক্সাই নাভালনিকে। স্থানীয় সময় রবিবার দুপুর ১২টায় তাকে মস্কোর শেরেমিতিয়েভো বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আলেক্সেই নাভালনির মুখপাত্র কীরা ইয়ারমিশ এক টুইট বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।
আটক হওয়ার আগে তার সমর্থকদের উদ্দেশে নাভালনি বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে তোলা যাবতীয় অভিযোগ ভুয়ো ও মনগড়া।’ খবর বিবিসির
মস্কো বিমানবন্দরে বিরোধী রাজনীতিক’কে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় ছিলেন হাজারো কর্মী-সমর্থক। তাদের সামলানোর জন্য মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ। বেশ কয়েকজন আটকও হন।
কিন্তু উড়োজাহাজটির গতিপথ পাল্টে শেরেম-তিয়েভো এয়ারপোর্টে নামানো হয়। তার সফরসঙ্গী ছিলেন স্ত্রী জুলিয়া, আইনজীবী, ডজনখানেক সংবাদকর্মী। সেখানে, নাভালনিকে পুলিশের একটি দল আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। নতুবা বলপ্রয়োগের হুঁশিয়ারি আসে।
গত আগস্টে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ায় নাভালনিকে চিকিৎসার জন্য জার্মানি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তার উপরে বিষপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে ভ্লাদিমির পুতিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে। বুধবার এই পুতিন-বিরোধী নেতা ঘোষণা করেছিলেন, রুশ প্রশাসনের গ্রেপ্তারির হুমকি সত্ত্বেও, তিনি রাশিয়া ফিরবেন।
বৃহস্পতিবার রাশিয়ার কারা বিভাগ (এফএসআইএন) এর তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, নাভালনি বার্লিন থেকে মস্কো ফিরলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।
নাভালনি তাকে হত্যা চেষ্টার জন্য ভ্লাদিমির পুতিনকে দায়ী করে আসছেন। বিষপ্রয়োগে হত্যা চেষ্টা থেকে বেঁচে, লম্বা সময় জার্মানির হাসপাতালে কাটিয়ে সুস্থ হয়ে রাশিয়াতে ফিরেতেই গ্রেপ্তার করা হল আলেক্সেই নাভালনিকে।
তার গ্রেফতার হওয়ার খবরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স ও ইতালির পক্ষ থেকে অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট জো বাইডেন যাকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেবেন বলে চূড়ান্ত করেছেন সেই জ্যাক সালিভান পুরো বিষয়টিকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন।
দীর্ঘদিন যাবৎ রাশিয়াতে সংস্কারের জন্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন নাভালনি। এর আগে বারবার গ্রেফতার হয়েছেন তিনি। ২০১৯ সালে তিনি ভুগেছেন অদ্ভুত এক অ্যালার্জির সমস্যায়।
গত জুন মাসে ভ্লাদিমির পুতিনের আনা সাংবিধানিক সংস্কারের ভোটকে তিনি ‘অভ্যুত্থান’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন ওই সংস্কার সংবিধানের লঙ্ঘন।
ওই সংস্কারের ফলে পুতিন আরও দুই মেয়াদ ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। নাভালনি ভ্লাদিমির পুতিনের অধীনে প্রেসিডেন্ট ব্যবস্থাকে ‘রাশিয়ার রক্তকে চুষে খাওয়ার’ সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















