অাকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:
প্রতিবেশীর কোনো সমস্যা হলে আমরা সবাই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই। পাকিস্তানের জন্যও ব্যাপারটাও অনেকটা তাই-ই। পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে গোটা ক্রিকেট দুনিয়াই। সরফরাজ আহমেদরা যে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বিশ্ব একাদশের মুখোমুখি হচ্ছেন, সেটি কিন্তু একধরনের দায়িত্ববোধ থেকেই গঠিত।
সেই ২০০৯ মার্চে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট দলের বাসে সন্ত্রাসী হামলার পর এক জিম্বাবুয়ে ছাড়া কোনো টেস্ট দল পাকিস্তান সফর করেনি। সেই জিম্বাবুয়েও এসেছিল সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলতেই। পাকিস্তানে টেস্ট ক্রিকেট হয় না, সে তো আট বছর হয়ে গেছে। অনেক দিন পরই দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক তারকাদের খেলা দেখার অপেক্ষায় পাকিস্তানিরা। সেই অপেক্ষার শেষ হতে যাচ্ছে আজ রাতেই। লাহোরে আজ বিশ্ব একাদশের মুখোমুখি হচ্ছে পাকিস্তান। গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে সরফরাজ-হাফিজদের মুখোমুখি হবেন তামিম-আমলাদের মতো আন্তর্জাতিক তারকারা। এর নেপথ্যে যেমন রয়েছে পিসিবির প্রচেষ্টা, তেমনি বিভিন্ন দেশের তারকারা খেলতে না চাইলে ‘ঐতিহাসিক’ সিরিজটি নিশ্চয়ই আলোর মুখ দেখত না!
ঐতিহাসিক—কারণ, এই প্রথমবারের মতো নির্দিষ্ট একটি আন্তর্জাতিক দলের বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বিশ্ব একাদশ গঠন করা হয়েছে। প্রাসঙ্গিকভাবেই একটা প্রশ্ন ক্রিকেট-পিপাসুদের মনে আসতেই পারে—ক্রিকেট ইতিহাসে ‘বিশ্ব একাদশ’ কবে প্রথম মাঠে নেমেছিল?
১৯৬৬ সালে ওয়েম্বলিতে জুলেরিমে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলেন ইংল্যান্ড ফুটবল দলের অধিনায়ক স্যার ববি মুর। ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসে সেটিই প্রথম ও একমাত্র বিশ্বকাপ। কিন্তু ধান ভানতে এই শিবের গীত অবশ্য অন্য কারণে। ববি মুর-ববি চার্লটনরা ফুটবল বিশ্বকাপ জয়ের সাত সপ্তাহ পর ওয়েম্বলি থেকে প্রায় ছয় মাইল দূরে লর্ডসে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অধিনায়ক কলিন কাউড্রেও উঁচিয়ে ধরেছিলেন ‘ক্রিকেট বিশ্বকাপ!’
ভ্রুকুটির কিছু নেই। হ্যাঁ, এটা সত্য যে ইংল্যান্ড কখনো ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। যদিও ‘রথম্যানস ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট কাপ’ নামের সেই আসর ছিল ওয়ানডে ফরম্যাটেরই। টুর্নামেন্টের নামের সঙ্গেই যেহেতু ‘ওয়ার্ল্ডকাপ’, তাই বিশ্বকাপ তো বলাই যায়! ১৯৬৬ সালে ত্রিদেশীয় সেই আসরেই প্রথমবারের মতো মাঠে নেমেছিল বিশ্ব একাদশ।
ওয়ানডে ক্রিকেট তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আলোর মুখ দেখেনি। কাউন্টিতে ‘জিলেট কাপ’ দিয়ে ভীষণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল ৫০ ওভারের ম্যাচ। এ কারণে সেই ত্রিদেশীয় সিরিজও আয়োজিত হয়েছিল ওয়ানডে ফরম্যাটে। ইংল্যান্ড সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের তৃতীয় ও চতুর্থ টেস্টের মাঝে চার সপ্তাহের মতো ফাঁকা সময় ছিল। এ সময় ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর বিশ্ব একাদশ নিয়ে ‘বিশ্বকাপ’ আয়োজন করেছিল রথম্যানস। এই বিশ্ব একাদশ আসলে ছিল ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্যাভেলিয়ার্স’ প্রকল্পের অংশ। নানা দেশের সাবেক আর বর্তমান ক্রিকেটারদের নিয়ে দল গঠন করে সে প্রকল্পের অংশ হিসেবে সফর আয়োজিত হতো।
কাউন্টি ছাড়া সেই ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের আগে ওয়ানডের সঙ্গে পরিচিত ছিল না ক্রিকেট বিশ্ব। ইতিহাসের প্রথম সেই বিশ্ব একাদশে খেলেছিলেন ববি সিম্পসন, হানিফ মোহাম্মদ, গ্রায়েম পোলক, মনসুর আলী খান পতৌদি, নাদকার্নি, ম্যাকেঞ্জির মতো ক্রিকেটাররা। এরপর সেই যে যাত্রা শুরু করল বিশ্ব একাদশ, কালে কালে এ দলটায় শুধু মানুষ পাল্টেছে, কিন্তু আভিজাত্য টিকে আছে আগের মতোই—যেমন ধরুন, তখন ওপেন করতেন হানিফ মোহাম্মদ, আজ হয়তো তামিম ইকবাল!
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























