ঢাকা ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এলডিসি থেকে উত্তরণে বাড়তি তিন বছর সময় নেওয়া বিলাসিতা নয়: তিতুমীর চাঁদা না পেয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ৩৫ লাখ টাকা লুট দোষারোপের সময় নয়, দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে: প্রতিমন্ত্রী অমিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংসদে না হলে রাজপথে আন্দোলন: গোলাম পরওয়ার অনলাইনে মাদক কেনাবেচার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড, সংসদে বিল পাস জাপা নেতার বাসায় নাহিদ ও হাসনাতের ডিনার-রাতযাপন জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে সমুন্নত রাখতে জাতীয় ঐক্য গঠনে কাজ করবে এবি পার্টি বিরোধী দলের ওয়াকআউট হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি ট্রাম্পের রাতারাতি বড় কোন পরিবর্তন করা সম্ভব নয়: আইএমএফকে অর্থমন্ত্রী

রাইড শেয়ারিং: নীতিমালা মানছে না ‘সহজ’

আকাশ আইসিটি ডেস্ক :  

সরকারি নীতিমালা মানছে না অনলাইনভিত্তিক সেবা প্রতিষ্ঠান ‘সহজ’। রাইড শেয়ারিং সার্ভিস পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন কেনা মোটরসাইকেল এক বছর না হলেও সেটাকে সেবায় যুক্ত করা হচ্ছে।

এছাড়াও ব্যয় কমাতে কর্মী ছাঁটাই করছে প্রতিষ্ঠানটি। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে ছাঁটাই করা হয়েছে। তালিকায় আছে প্রায় ৫০ শতাংশ কর্মী। শিগগিরই ছাঁটাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, বছর দেড়েক আগে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গোল্ডেন গেট ভেঞ্চারের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ আসে। স্থানীয় মুদ্রায় যা ১২৫ কোটি টাকা। তারপরও ছাঁটাই চলছে।

এতে দেশের উদীয়মান স্টার্টআপ ব্যবসার ওপরেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে প্রযুক্তি খাতের নতুন ব্যবসা উদ্যোগ বা স্টার্টআপের সম্ভাবনা বিপুল। কিন্তু ‘সহজ’র এ কর্মকাণ্ডে এ খাতের ওপর আস্থা হারাবেন বিনিয়োগকারীরা।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহজ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মালিহা মালেক কাদের। তিনি বলেন, তথ্যগুলো একেবারে সঠিক নয়। আমরা সম্পূর্ণভাবেই আইন মেনে কাজ করছি। কর্মী ছাঁটাইয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, এটি ভুল তথ্য। কারণ ছাঁটাই তো দূরের কথা, আমরা লোক আরও নিয়োগ দিচ্ছি।

জানা যায়, রাইড শেয়ারিং সেবাকে একটি আইনি কাঠামোর মধ্যে পরিচালনা করতে সার্ভিস নীতিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার। কিন্তু সেগুলো মেনে চলার তাগিদ দেখা যায় না সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে। খোলামেলা ভাবেই নীতিমালার বিরুদ্ধে গিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে ‘সহজ’। ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি ‘রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা-২০১৭’ এর অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

৩ মার্চ থেকে যা কার্যকর হয়। এর প্রায় ১ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও বাস্তবায়িত হয়নি নীতিমালা। ফলে বিশৃঙ্খলা বাড়ছে সেবাভিত্তিক এ খাতে। আর হয়রানির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। নীতিমালায় থাকা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা না মেনেই কার্যক্রম পরিচালনা করায় সরাসরি প্রভাব পড়ছে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও জনজীবনে।

রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা-২০১৭ এর অনুচ্ছেদ (ক) ধারার ১০-এ বলা আছে, ‘ব্যক্তিগত মোটরযান রেজিস্ট্রেশন গ্রহণের পর ন্যূনতম ১ বছর অতিক্রান্ত না হলে রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের আওতায় সেবায় দিতে পারবে না।’

কিন্তু নতুন কেনা মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন ১ বছর অতিবাহিত না হলেও সেটিকে রাইড শেয়ারিংয়ে যুক্ত করার অভিযোগ আছে সহজ’র বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ১ বছরে রাজধানীতে ‘বহিরাগত’ মোটরচালকের সংখ্যা বেড়েছে অনেক। নগরীতে হঠাৎ করেই বেড়ে যাওয়া এ বাইক ও বাইকারের চাপে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে রাজধানীর যান চলাচল এবং জীবনযাত্রায়।

‘জীবনটাকে সহজ করুন’- স্লোগানে অনলাইনে বাসের টিকিট বিক্রি সেবা চালুর মধ্য দিয়ে ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে সহজ ডটকম। পরে রাইড শেয়ারিং সেবা যুক্ত করে নতুন আঙ্গিকে যাত্রা শুরু হয় চলতি বছরের ২১ মে।

রাইডার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজধানীতে এখন বেশ কয়েকটি মোটরবাইক ও কার রাইড শেয়ারিং কোম্পানি সেবা দিচ্ছে। এদের মধ্যে অনলাইনে বাসের টিকিট বিক্রয় প্রতিষ্ঠান সহজ যুক্ত হলেও গ্রাহকের মধ্যে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। যে কারণে তারা সেবার ক্ষেত্রে রাইডারদের কোনো সুবিধাও দিতে পারছে না। উল্টো আটকে রাখছে কমিশনের টাকা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এলডিসি থেকে উত্তরণে বাড়তি তিন বছর সময় নেওয়া বিলাসিতা নয়: তিতুমীর

রাইড শেয়ারিং: নীতিমালা মানছে না ‘সহজ’

আপডেট সময় ০৪:০০:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২০

আকাশ আইসিটি ডেস্ক :  

সরকারি নীতিমালা মানছে না অনলাইনভিত্তিক সেবা প্রতিষ্ঠান ‘সহজ’। রাইড শেয়ারিং সার্ভিস পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন কেনা মোটরসাইকেল এক বছর না হলেও সেটাকে সেবায় যুক্ত করা হচ্ছে।

এছাড়াও ব্যয় কমাতে কর্মী ছাঁটাই করছে প্রতিষ্ঠানটি। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে ছাঁটাই করা হয়েছে। তালিকায় আছে প্রায় ৫০ শতাংশ কর্মী। শিগগিরই ছাঁটাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, বছর দেড়েক আগে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গোল্ডেন গেট ভেঞ্চারের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ আসে। স্থানীয় মুদ্রায় যা ১২৫ কোটি টাকা। তারপরও ছাঁটাই চলছে।

এতে দেশের উদীয়মান স্টার্টআপ ব্যবসার ওপরেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে প্রযুক্তি খাতের নতুন ব্যবসা উদ্যোগ বা স্টার্টআপের সম্ভাবনা বিপুল। কিন্তু ‘সহজ’র এ কর্মকাণ্ডে এ খাতের ওপর আস্থা হারাবেন বিনিয়োগকারীরা।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহজ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মালিহা মালেক কাদের। তিনি বলেন, তথ্যগুলো একেবারে সঠিক নয়। আমরা সম্পূর্ণভাবেই আইন মেনে কাজ করছি। কর্মী ছাঁটাইয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, এটি ভুল তথ্য। কারণ ছাঁটাই তো দূরের কথা, আমরা লোক আরও নিয়োগ দিচ্ছি।

জানা যায়, রাইড শেয়ারিং সেবাকে একটি আইনি কাঠামোর মধ্যে পরিচালনা করতে সার্ভিস নীতিমালা প্রণয়ন করেছে সরকার। কিন্তু সেগুলো মেনে চলার তাগিদ দেখা যায় না সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে। খোলামেলা ভাবেই নীতিমালার বিরুদ্ধে গিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে ‘সহজ’। ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি ‘রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা-২০১৭’ এর অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

৩ মার্চ থেকে যা কার্যকর হয়। এর প্রায় ১ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও বাস্তবায়িত হয়নি নীতিমালা। ফলে বিশৃঙ্খলা বাড়ছে সেবাভিত্তিক এ খাতে। আর হয়রানির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। নীতিমালায় থাকা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা না মেনেই কার্যক্রম পরিচালনা করায় সরাসরি প্রভাব পড়ছে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও জনজীবনে।

রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা-২০১৭ এর অনুচ্ছেদ (ক) ধারার ১০-এ বলা আছে, ‘ব্যক্তিগত মোটরযান রেজিস্ট্রেশন গ্রহণের পর ন্যূনতম ১ বছর অতিক্রান্ত না হলে রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের আওতায় সেবায় দিতে পারবে না।’

কিন্তু নতুন কেনা মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন ১ বছর অতিবাহিত না হলেও সেটিকে রাইড শেয়ারিংয়ে যুক্ত করার অভিযোগ আছে সহজ’র বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ১ বছরে রাজধানীতে ‘বহিরাগত’ মোটরচালকের সংখ্যা বেড়েছে অনেক। নগরীতে হঠাৎ করেই বেড়ে যাওয়া এ বাইক ও বাইকারের চাপে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে রাজধানীর যান চলাচল এবং জীবনযাত্রায়।

‘জীবনটাকে সহজ করুন’- স্লোগানে অনলাইনে বাসের টিকিট বিক্রি সেবা চালুর মধ্য দিয়ে ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে সহজ ডটকম। পরে রাইড শেয়ারিং সেবা যুক্ত করে নতুন আঙ্গিকে যাত্রা শুরু হয় চলতি বছরের ২১ মে।

রাইডার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজধানীতে এখন বেশ কয়েকটি মোটরবাইক ও কার রাইড শেয়ারিং কোম্পানি সেবা দিচ্ছে। এদের মধ্যে অনলাইনে বাসের টিকিট বিক্রয় প্রতিষ্ঠান সহজ যুক্ত হলেও গ্রাহকের মধ্যে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। যে কারণে তারা সেবার ক্ষেত্রে রাইডারদের কোনো সুবিধাও দিতে পারছে না। উল্টো আটকে রাখছে কমিশনের টাকা।